ঢাকা | রবিবার, ৩০ আগস্ট ২০২৬,১৫ ভাদ্র ১৪৩৩

কওমি ছাত্রদের সঙ্গে সমঝোতা হয়েছে: নাসীরুদ্দীন পাটওয়ারী

ব্রাহ্মণবাড়িয়ায় জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) নেতাকর্মীদের সঙ্গে ও কওমি ছাত্র ঐক্য পরিষদের মধ্যে সমঝোতা হয়েছে বলে জানিয়েছেন দলটির নেতা নাসীরুদ্দীন পাটওয়ারী।

কওমি ছাত্র ঐক্য পরিষদ তাদের কর্মসূচি প্রত্যাহার করে নেয়ায় শনিবার (২৯ আগস্ট) বিকেলে জেলা শিল্পকলা একাডেমিতে সমাবেশ করে এনসিপি। পরে সন্ধ্যায় জামিয়া ইউনুছিয়া মাদ্রাসায় গিয়ে কওমি ছাত্র ও শিক্ষকদের সঙ্গে বৈঠক করেন এনসিপির মুখ্য সমন্বয়ক নাসীরুদ্দীন পাটওয়ারী।

শনিবার সন্ধ্যা ৬টার দিকে জামিয়া ইউনুছিয়া মাদ্রাসায় যান নাসীরুদ্দীন পাটওয়ারী। এ সময় তার সঙ্গে ছিলেন এনসিপির কেন্দ্রীয় নেতা মো. আতাউল্লাহ ও মাওলানা আশরাফ উদ্দিন মাহদী। তারা মাদ্রাসার মুহতামিম মুফতি মোবারক উল্লাহ, সিনিয়র শিক্ষক মাওলানা আলী আকবর এবং কওমি ছাত্র ঐক্য পরিষদের নেতা খালেদ সাইফুল্লাহসহ নেতৃবৃন্দের সঙ্গে বৈঠক করেন। বৈঠকে নাসীরুদ্দীন পাটওয়ারী এনসিপির নেতা ও সংসদ সদস্য হাসনাত আব্দুল্লাহর পক্ষ থেকে দুঃখ প্রকাশ করেন।

বৈঠক শেষে নাসীরুদ্দীন পাটওয়ারী বলেন, ‘মাদ্রাসার ছাত্র ও শিক্ষকদের সঙ্গে আমাদের গভীর সম্পর্ক ও শ্রদ্ধা রয়েছে। আমরা একসঙ্গে জুলাই আন্দোলন করেছি। ওস্তাদরা আমাদের তালেব মনে করেন। অনেক আলেম আমাদের দুঃখ প্রকাশ করতে বলেছেন। দুঃখ প্রকাশ করলে কেউ ছোট হয় না। তাই আমরা এখানে এসেছি, দুঃখ প্রকাশ করেছি এবং ওস্তাদদের দোয়া নিয়েছি। আমাদের মধ্যে সমঝোতা হয়েছে।’

তিনি বলেন, ‘ছাত্র ভাইয়েরা দাবি জানিয়েছেন, হাসনাত আবদুল্লাহ জাতীয় সংসদে ব্রাহ্মণবাড়িয়া নিয়ে যে বক্তব্য দিয়েছেন, সে বিষয়ে যেন সঠিক তথ্য আবার সংসদে উপস্থাপন করেন।’

নাসীরুদ্দীন পাটওয়ারী বলেন, ‘অনেকে বাইরে থেকে উল্লাস করছেন। তাদের বলব, এটা আমাদের ঘরের সমস্যা। এর সমাধান হয়েছে। ভুল-বোঝাবুঝির অবসান হয়েছে।’

ব্রাহ্মণবাড়িয়ায় সম্প্রতি পুলিশ ও মাদ্রাসাছাত্রদের সংঘর্ষের প্রসঙ্গ টেনে তিনি বলেন, ‘মূল বিষয় ছিল, মাদ্রাসাছাত্ররা পুলিশ লাইন্সে গানের অনুষ্ঠান বন্ধ করেনি। বরং পুলিশ ৩০ জন মাদ্রাসাছাত্রকে আহত করেছে।’

স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাউদ্দিন আহমেদের সমালোচনা করে নাসীরুদ্দীন পাটওয়ারী বলেন, ‘স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী শাক দিয়ে মাছ ঢাকার চেষ্টা করেছেন। সালাউদ্দিন ভাই বরাবরই এ কাজটি করেন। তিনি যদি মূল ঘটনা জানতেন, তাহলে মাদ্রাসাছাত্রদের পাশে থাকতেন। তার বাবা একজন মাদ্রাসার হুজুর ছিলেন। তিনি মদিনার ইসলামের কথা বলেন, কিন্তু মাদ্রাসাছাত্রদের পাশে দাঁড়াননি।’

এর আগে শুক্রবার দিবাগত মধ্যরাতে জামিয়া ইউনুছিয়া মাদ্রাসা থেকে কওমি ছাত্র ঐক্য পরিষদের ব্যানারে বিক্ষোভ মিছিল বের করা হয়। জাতীয় সংসদে ব্রাহ্মণবাড়িয়া নিয়ে এনসিপির নেতা ও সংসদ সদস্য হাসনাত আব্দুল্লাহর দেওয়া বক্তব্যের প্রতিবাদ জানিয়ে এনসিপি ও হাসনাত আব্দুল্লাহকে বয়কটের ঘোষণা দেন তারা।

শনিবার দুপুরে এনসিপির সমাবেশস্থল জেলা শিল্পকলা একাডেমিতে হামদ-নাত অনুষ্ঠানের ঘোষণা দেয় কওমি ছাত্র ঐক্য পরিষদ। এতে শহরে উত্তেজনা দেখা দেয় এবং এনসিপির সমাবেশ নিয়ে অনিশ্চয়তা তৈরি হয়।

এর মধ্যে শনিবার দুপুরে নিজের ফেসবুক অ্যাকাউন্টে এক পোস্টে জাতীয় সংসদে দেয়া বক্তব্যের জন্য দুঃখ প্রকাশ করে ব্যাখ্যা দেন হাসনাত আব্দুল্লাহ। পরে কওমি ছাত্র ঐক্য পরিষদ তাদের কর্মসূচি প্রত্যাহার করে নেয়।