ঢাকা | সোমবার, ১৮ মে ২০২৬,৪ জ্যৈষ্ঠ ১৪৩৩

নাসিরউদ্দীন পাটওয়ারীর গালি শুনে আমরা অভ্যস্ত, এই গালি নতুন নয়: সিইসি

নির্বাচন কমিশনকে নিয়ে জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) মুখ্য সমন্বয়ক নাসিরুদ্দিন পাটোয়ারীর সমালোচনা প্রসঙ্গে প্রধান নির্বাচন কমিশনার (সিইসি) এ এম এম নাসির উদ্দিন বলেছেন, উনার এই ধরনের কথা শুনে আমরা একদম অভ্যস্ত। উনি প্রায়ই আমাদের সঙ্গে দেখা করতেন, অথচ দেখা করে দরজার বাইরে গিয়েই আমাদের গালি দিতেন। এই গালি উনার নতুন নয়।

আজ (সোমবার) রিপোর্টার্স ফোরাম ফর ইলেকশন অ্যান্ড ডেমোক্রেসি (আরএফডি) আয়োজিত এক অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে সিইসি এসব কথা বলেন। আরএফইডির নবনির্বাচিত কমিটির দায়িত্ব নেওয়া উপলক্ষ্যে নির্বাচন প্রশিক্ষণ ইনস্টিটিউটে এ অনুষ্ঠানের আয়োজন করা হয়।

সিইসি বলেন, অনেকের কাছে উনার বক্তব্য নতুন মনে হতে পারে, কিন্তু বিশ্বাস করেন আমি সামান্যতম মনঃক্ষুণ্ণ নই। শুধু প্রশংসা করলে তো ইভালুয়েশন বা সঠিক মূল্যায়ন হয় না। উনি নিজের পার্সপেক্টিভ থেকে যেটা অন্তরে বিশ্বাস করেছেন, সেটাই বলেছেন। আর এটাই তো গণতন্ত্রের সৌন্দর্য; উনাকে এই বলার সুযোগ দেওয়াটাই সৌন্দর্য। এজন্য আমি একদম আহত নই।

তিনি বলেন, অতীতে শুধু এক পক্ষ বলতে বলতে সব বরবাদ করে দিয়েছে। সবাই শুধু এক পক্ষের প্রশংসা করেছে। আর সেই একপেশে প্রশংসার রেজাল্ট হিসেবেই দেশের এই বিপ্লব হয়েছে। শুধু একজনের প্রশংসা করতে গিয়ে আমাদেরকে এই কঠিন পরিস্থিতির মুখোমুখি হতে হয়েছে। সুতরাং মুদ্রার দুইটা দিকই থাকে।

তিনি আরো বলেন, স্থানীয় নির্বাচন দলীয়ভাবে হবে। এখন তো দেখতেছি দলগুলো মনোনয়ন দিচ্ছে। এতে আমার কপালে চিন্তার ভাঁজ পড়ছে। কাজেই আপনারা বসে ফয়সালা করুন।

আমাদেন পক্ষে শতভাগ স্বচ্ছতার আশ্বাস দিতে পারি। আমাদের বোঝার ঘাটতি হতে পারে। কিন্তু দৃষ্টিভঙ্গিতে কোনো ঘাটতি নেই। ম্যাসিভ ক্যাম্পেইনের দরকার আছে বলে মনে করি।

প্রধান নির্বাচন কমিশনার বলেন, সবার সহযোগিতা ছাড়া সুষ্ঠু নির্বাচন সম্ভব না। একবার বোরকা পরা মহিলারা এসেছিলেন ঘেরাও করতে। কারণ তারা ছবি না তুলে ভোটার হবেন। কাজেই এ নিয়ে আপনারা একটু কাজ করেন। কারণ মহিলাদের একটা অংশ এখনো ভোটার তালিকার বাইরে রয়েছে।

সিইসি বলেন, যেহেতু দলীয়ভাবে স্থানীয়ভাবে হবে না, এজন্য বিধি বিধান করতে হবে। এগুলো করে আমরা সরকারের সঙ্গে বসে সিদ্ধান্ত নিতে হবে। কারণ তাদেরও কিছু কাজ থাকে তো।

তিনি বলেন, ১৩ কোটি ভোটার তো খুব কম দেশে আছে। ১৩ কোটি ভোটার আর ১০ লাখ ভোটার কি এক কথা? কীভাবে করলে এতো সফল নির্বাচন। ইউএন ওমেন থেকে আমাদের এমন বলেছে।

সিইসি বলেন, বিপ্লবের পরে পুলিশসহ কোনো প্রতিষ্ঠান ফাংশন করেনি। কাজেই কেউ ফাংশন করবে না, কেবল নির্বাচন সুষ্ঠু হবে এমন দাবি ছিল সবার। আমি যেখানে গেছি জনগণকে মোটিভেট করার চেষ্টা করেছি।

তিনি আরো বলেন, কাজেই বিচারের ভার দেশবাসীর কাছে রইল। সর্বোপরি আল্লাহ তো বিচার করবেই।

জাতীয় নির্বাচনের অভিজ্ঞতা ও বিগত অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের ভূমিকার কথা উল্লেখ করে সিইসি বলেন, সরকার ছাড়া নির্বাচন করা অলমোস্ট ইম্পসিবল। তবে তৎকালীন সরকারের প্রধান উপদেষ্টা উনার উপদেষ্টা পরিষদকে স্পষ্ট বলে দিয়েছিলেন যে, প্লিজ ডোন্ট পোক ইয়োর নোজ ইনটু দ্য অ্যাফেয়ার্স অব দি ইলেকশন কমিশন (নির্বাচন কমিশনের বিষয়ে নাক গলাবেন না)। উনারা আমাদের ফুল সাপোর্ট দিয়েছেন।