বিদেশি ফল স্ট্রবেরি চাষে সফলতার এক নতুন দৃষ্টান্ত স্থাপন করেছেন পাবনার ঈশ্বরদী উপজেলার বক্তারপুর গ্রামের কৃষক রকিবুল মন্ডল। শখের বশে শুরু করা এই চাষ এখন তার ভাগ্যের চাকা ঘুরিয়ে দিয়েছে। মাত্র দুই বিঘা জমিতে স্ট্রবেরি আবাদ করে এলাকায় রীতিমতো আলোড়ন সৃষ্টি করেছেন তিনি।
কৃষি সমৃদ্ধ অঞ্চল হিসেবে ঈশ্বরদীর মাটি বরাবরই উর্বর। অন্যের বাগান দেখে অনুপ্রাণিত হয়ে ফজলুল হক মন্ডলের ছেলে রকিবুল নিজের ২ বিঘা জমিতে স্ট্রবেরি চাষের সিদ্ধান্ত নেন। তিনি আমেরিকান ফেস্টিভ্যাল, থাইল্যান্ড এবং এস২০ জাতের উচ্চফলনশীল চারা রোপণ করেন। প্রতি পিস ৩০ টাকা দরে মোট ৯,০০০ চারা দিয়ে শুরু হয় তার এই স্বপ্নযাত্রা।
রকিবুল মন্ডল জানান, ২ বিঘা জমিতে সব মিলিয়ে তার খরচ হয়েছে প্রায় ৫ লক্ষ টাকা। গাছ লাগানোর মাত্র ৭০ দিনের মাথায় ফল আসা শুরু হয়, তিন মাসেই ফল বিক্রির জন্যে উপযোগী হয়ে উঠে।

ফলনের শুরুতেই বাজারে স্ট্রবেরির আকাশচুম্বী চাহিদা থাকায় তিনি প্রতি কেজি ১৮০০ থেকে ২০০০ টাকা কেজিতে বিক্রি করেছেন। বর্তমানে মৌসুমের মাঝামাঝি সময়ে দর কিছুটা কমে ৪০০-৫০০ টাকা হলেও মুনাফা নিয়ে তিনি বেশ সন্তুষ্ট।
ইতোমধ্যেই ১০/১২ লক্ষ টাকার ফল বিক্রি হয়েছে। আবহাওয়া অনুকূলে থাকলে বাকি মৌসুমে আরও ৮/১০ লক্ষ টাকার স্ট্রবেরি বিক্রির আশা করছি। অর্থাৎ ৫ লক্ষ টাকা বিনিয়োগ করে ১৫ লক্ষ টাকা নিট মুনাফা পাওয়ার উজ্জ্বল সম্ভাবনা রয়েছে।
ঈশ্বরদীর স্থানীয় বাজারের পাশাপাশি এই স্ট্রবেরির বড় একটি অংশ যাচ্ছে রূপপুর পারমাণবিক বিদ্যুৎ প্রকল্পে কর্মরত রাশিয়ানদের জন্য নির্ধারিত ‘গ্রিন সিটি’ বাজারে। রাশিয়ানদের কাছে এই ফলের ব্যাপক চাহিদা থাকায় বিপণন নিয়ে কোনো চিন্তাই করতে হয় না রকিবুলকে। আশে পাশের জেলার পাইকারি ব্যবসায়ীরা বাগান থেকেই ফল সংগ্রহ করে নিয়ে যাচ্ছেন।
রকিবুলের এই অভাবনীয় সফলতা দেখে বক্তারপুরের অন্য কৃষকরাও এখন প্রথাগত চাষাবাদের পাশাপাশি স্ট্রবেরি চাষে আগ্রহী হয়ে উঠছেন। স্থানীয়দের মতে, অল্প সময়ে এবং কম পরিশ্রমে এত বেশি লাভ অন্য কোনো ফসলে পাওয়া সম্ভব নয়।

ঈশ্বরদীর মাটি আম, লিচু ও কাঁঠালের জন্য আগে থেকেই বিখ্যাত ছিল। এখন রকিবুলের হাত ধরে সেই তালিকায় যুক্ত হলো লোভনীয় ও অর্থকরী ফল স্ট্রবেরি। যারা নতুন করে বাগান করতে চান, তাদের সব ধরনের পরামর্শ ও সহযোগিতা দেওয়ার আশ্বাস দিয়েছেন এই সফল উদ্যোক্তা।
স্ট্রবেরী চাষী রকিবুল মন্ডল বলেন, স্বল্প সময়ের এই ফল দেশের বিভিন্ন জেলাসহ রাশিয়ানদের ঈশ্বরদী গ্রীন সিটি বাজারে এই ফল ব্যাপক চাহিদা রয়েছে। তাই ফল বিক্রি নিয়ে চিন্তা করতে হয়না। ভালো দামে ফল বিক্রি হয়ে যায়। এখানে উপসহকারী কৃষি অফিসার ইমরান ক্ষেতে এসে আমাদের বিভিন্ন পরমর্শ দিয়ে সহযোগীতা করেন।

তিনি আরো বলেন, আমাদের দেশে পতেঙ্গা ও টিএসপি যে স্যারগুলো আছে আমরা এগুলো ব্যবহার করতে ইচ্ছুক কিন্তু আমরা পাইনা। এগুলো কিছু অসাধু ব্যবসায়ীরা সিন্ডিকেট তৈরি করে বেশি দামে বিক্রি করছে, তাতে আমরা কৃষক যারা আছি ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছি। এসব সিন্ডিকেট কারীদের বিরুদ্ধে কঠোরভাবে পদক্ষেপ নেয়া দরকার সরকারের, তাতে আমার মত কৃষকরা বাঁচবে।
ঈশ্বরদী উপজেলার কৃষি অফিসার মোঃ আব্দুল মমিন বলেন, উপজেলাতে ৫জন কৃষক স্ট্রবেরী চাষ করছেন । এবার ০১ হেক্টর জমিতে এর চাষ হয়েছে। আমরা ০১জনকে প্রদর্শনী দিয়েছি এবং উৎপাদন কারিগরী পরামর্শ দিচ্ছি কখন সার বিষ স্প্রে করতে হবে তা বলে দিচ্ছি।







