জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়ের (জবি) ভূগোল ও পরিবেশ বিভাগের অধ্যাপক ড. মোহাম্মদ আব্দুল কাদেরকে নিয়ে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ফেসবুকে বিস্ফোরক পোস্ট দিয়েছেন নিষিদ্ধ সংগঠন ছাত্রলীগের বিশ্ববিদ্যালয় শাখার পলাতক সভাপতি মো. ইব্রাহীম ফরাজি। পোস্টে তিনি ওই শিক্ষকের অতীত রাজনৈতিক সম্পৃক্ততা, বর্তমান রাজনৈতিক অবস্থান এবং বিভিন্ন কর্মকাণ্ড নিয়ে একাধিক অভিযোগ তুলেছেন।
বুধবার (৮ জুলাই) দেওয়া ওই পোস্টে ইব্রাহীম ফরাজি দাবি করেন, ড. মোহাম্মদ আব্দুল কাদের ছাত্রজীবনে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের একুশে হলে ছাত্রশিবিরের রাজনীতির সঙ্গে যুক্ত ছিলেন। পরে জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়ে শিক্ষকতা শুরু করার পর তিনি আওয়ামীপন্থী শিক্ষকদের সংগঠন নীল দলে সক্রিয় হন এবং সংগঠনটির যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক পদে ছিলেন বলেও দাবি করেন তিনি।
পোস্টে আরও দাবি করা হয়, অধ্যাপক আব্দুল কাদের বঙ্গবন্ধু পরিষদের সঙ্গেও যুক্ত ছিলেন। এছাড়া গুচ্ছ ভর্তি পরীক্ষা নিয়ে জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষকদের দুই পক্ষের মধ্যে বিরোধের সময় তিনি একটি পক্ষের হয়ে অবস্থান নিয়েছিলেন বলেও অভিযোগ করেন ইব্রাহীম ফরাজি।
ইব্রাহীম ফরাজি তার পোস্টে অভিযোগ করেন, বর্তমানে অধ্যাপক আব্দুল কাদের বিএনপির রাজনীতির সঙ্গে যুক্ত হয়েছেন। অতীতে আওয়ামী লীগের নেতাদের সঙ্গে ঘনিষ্ঠ সম্পর্ক রাখলেও বর্তমানে বিএনপির নেতাদের পক্ষে অবস্থান নিচ্ছেন বলে দাবি করেন তিনি।
পোস্টে অধ্যাপক আব্দুল কাদেরের ব্যক্তিগত জীবনযাপন নিয়েও নানা মন্তব্য করেন ইব্রাহীম ফরাজি। তিনি দাবি করেন, একজন বিশ্ববিদ্যালয় শিক্ষকের সঙ্গে সামঞ্জস্যপূর্ণ আচরণ ও জীবনযাপন হওয়া উচিত। এছাড়া সাবেক উপাচার্য অধ্যাপক ড. ইমদাদুল হকের সময় বিভিন্ন ঘটনার উল্লেখ করে তিনি ওই শিক্ষককে নিয়ে সমালোচনা করেন।
পোস্টে ইব্রাহীম ফরাজি আরও দাবি করেন, রাজনৈতিক পরিবর্তনের সঙ্গে সঙ্গে অধ্যাপক আব্দুল কাদেরের অবস্থানের পরিবর্তন হয়েছে। তিনি লেখেন, অতীতে আওয়ামী লীগের পক্ষে অবস্থান নেওয়া ব্যক্তি বর্তমানে বিএনপির পক্ষে অবস্থান নিচ্ছেন।
পোস্টের শেষাংশে তিনি বলেন, রাজনৈতিকভাবে কারও অতীত কর্মকাণ্ড ভুলে যাওয়া উচিত নয় এবং ভবিষ্যতে অনেকের বিষয়ে তথ্য প্রকাশ করবেন।
উল্লেখ্য, মো. ইব্রাহীম ফরাজি জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয় শাখা ছাত্রলীগের সভাপতি ছিলেন। ২০২৪ সালের ৫ আগস্ট আও্যামীলীগ সরকারের পতনের পর থেকে তিনি প্রকাশ্যে নেই।






