ঢাকা | শুক্রবার, ১২ জুন ২০২৬,২৯ জ্যৈষ্ঠ ১৪৩৩

বিদেশে উচ্চশিক্ষায় ১০ লাখ টাকা ঋণ দেবে সরকার

দেশের মেধাবী শিক্ষার্থীদের বিদেশে উচ্চশিক্ষার সুযোগ বাড়াতে বিশেষ ঋণ কর্মসূচির উদ্যোগ দিয়েছে সরকার। প্রস্তাবিত ২০২৬-২৭ অর্থবছরের বাজেটে বিদেশে উচ্চশিক্ষার জন্য শিক্ষার্থীদের সর্বোচ্চ ১০ লাখ টাকা পর্যন্ত সহজ শর্তে ঋণ দেওয়ার প্রস্তাব করেছেন অর্থমন্ত্রী আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরী।

আজ বৃহস্পতিবার জাতীয় সংসদে বাজেট বক্তৃতায় অর্থমন্ত্রী বলেন, বর্তমান বিশ্ব এখন দক্ষতার ওপর নির্ভরশীল। সরকার চায় দেশের তরুণরা কেবল সাধারণ ডিগ্রি না নিয়ে আন্তর্জাতিক মানের শিক্ষা ও প্রযুক্তিগত জ্ঞান অর্জন করুক। তবে বিদেশের বিশ্ববিদ্যালয়ে পড়ার খরচ অনেক বেশি হওয়ায় অনেক মেধাবী শিক্ষার্থী পিছিয়ে পড়েন। তাদের আর্থিক বাধা দূর করতেই সরকার ১০ লাখ টাকা পর্যন্ত সহজ শর্তে ঋণ সুবিধা চালুর উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।

প্রস্তাব অনুযায়ী, বাংলা ও ইংরেজির পাশাপাশি তৃতীয় কোনো বিদেশি ভাষায় দক্ষতা অর্জনের জন্য শিক্ষার্থীরা এ ঋণ পাওয়ার ক্ষেত্রে অগ্রাধিকার পাবেন। এ লক্ষ্যে ষষ্ঠ শ্রেণি থেকে জাপানি, কোরিয়ান, ম্যান্ডারিন, আরবি, ফরাসি ও জার্মান ভাষা শিক্ষার বিশেষ কোর্স চালুর পরিকল্পনার কথাও জানানো হয়েছে। এসব ভাষা শিখে ওইসব দেশে উচ্চশিক্ষার জন্য যেতে চাইলে শিক্ষার্থীরা ১০ লাখ টাকা পর্যন্ত ঋণ পাবেন।

আমির খসরু বলেন, বিদেশে উচ্চশিক্ষায় আগ্রহী শিক্ষার্থীরা ব্যাংকের মাধ্যমে সর্বোচ্চ ১০ লাখ টাকা পর্যন্ত ঋণ নিতে পারবেন। ঋণের সুদের হার হবে তুলনামূলক কম এবং পড়াশোনা শেষে কর্মজীবনে প্রবেশের পর ঋণ পরিশোধের সুযোগ থাকবে। সরকার নিশ্চিত করবে যেন কোনো শিক্ষার্থীকে এই ঋণ পেতে কোনো ধরনের প্রশাসনিক হয়রানির শিকার হতে না হয়।

বিদেশে শিক্ষার্থীদের পাঠানোর উদ্যোগকে ‘ব্রেইন ড্রেন’ নয়, বরং ‘ব্রেইন সার্কুলেশন’ হিসেবে দেখছে সরকার। বাজেট বক্তৃতায় অর্থমন্ত্রী বলেন, বিদেশে অর্জিত জ্ঞান, দক্ষতা ও অভিজ্ঞতা একসময় দেশের উন্নয়নে কাজে লাগবে। পাশাপাশি প্রবাসে কর্মসংস্থানের মাধ্যমে রেমিট্যান্স প্রবাহও বাড়বে।

শিক্ষা ও মানবসম্পদ উন্নয়ন খাতে এবার ১ লাখ ৩৬ হাজার ৬০৬ কোটি টাকা বরাদ্দের প্রস্তাব করা হয়েছে। সরকার ২০৩০ সালের মধ্যে শিক্ষা খাতে ব্যয় জিডিপির ৫ শতাংশে উন্নীত করার লক্ষ্য নিয়েছে বলেও জানান অর্থমন্ত্রী। তিনি বলেন, মানসম্মত শিক্ষা নিশ্চিত করাই সরকারের প্রধান লক্ষ্য। কারিগরি ও দক্ষতা উন্নয়নে জোর কেবল পুঁথিগত বিদ্যা নয়, শিক্ষার্থীদের দক্ষ করে গড়ে তুলতে ষষ্ঠ শ্রেণি থেকেই কারিগরি শিক্ষা বাধ্যতামূলক করা হচ্ছে। প্রতিটি শিক্ষার্থী যেন কোনো না কোনো পেশাগত কাজে পারদর্শী হয়ে ওঠে, সে দিকে নজর দেওয়া হয়েছে। উচ্চশিক্ষার এই ঋণ সেই দক্ষতা বৃদ্ধির প্রক্রিয়ারই একটি বড় অংশ।

এ ছাড়া প্রস্তাবিত বাজেটে ডিজিটাল ও স্মার্ট ক্লাসরুম আধুনিক শিক্ষার জন্য স্কুল ও কলেজগুলোতে ‘ওয়ান টিচার, ওয়ান ট্যাব’ কর্মসূচি চালুর ঘোষণা দেওয়া হয়েছে। সব শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে ফ্রি হাই-স্পিড ওয়াই-ফাই সুবিধা নিশ্চিত করা হবে। এতে শিক্ষার্থীরা সহজেই আন্তর্জাতিক মানের শিক্ষা উপকরণের সঙ্গে যুক্ত হতে পারবেন। ঘরে বসেই বিদেশের বিভিন্ন কোর্সে অংশ নেওয়ার সুযোগ নিশ্চিত করার পরিকল্পনার কথাও বাজেটে উল্লেখ করা হয়েছে।