ঢাকা | বৃহস্পতিবার, ১৪ মে ২০২৬,৩১ বৈশাখ ১৪৩৩

অফিস না করেই বেতন নেন রুয়েট জনসংযোগ কর্মকর্তা, সময় দেন এনজিও-রেডিওতে

রাজশাহী প্রকৌশল ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয় (রুয়েট)-এর জনসংযোগ দপ্তরের উপ-পরিচালক জি.এম. মোর্ত্তজার বিরুদ্ধে নিয়মিত অফিস না করা, বিশ্ববিদ্যালয়ের চাকরি বিধিমালা লঙ্ঘন করে এনজিও ও রেডিও প্রতিষ্ঠানের সঙ্গে সম্পৃক্ত থাকা এবং অনুমতি ছাড়া বিদেশ ভ্রমণের অভিযোগ উঠেছে।

অভিযোগ রয়েছে, সরকারি চাকরিতে বহাল থেকেই তিনি ‘বরেন্দ্র উন্নয়ন প্রচেষ্টা (CCD)’ নামের একটি এনজিও এবং ‘রেডিও পদ্মা’র ব্যবস্থাপনা পরিচালনা কার্যক্রমে যুক্ত রয়েছেন। বিশ্ববিদ্যালয়ের দাপ্তরিক দায়িত্ব পালনের পরিবর্তে অধিকাংশ সময় এসব প্রতিষ্ঠানের সভা, অনুষ্ঠান ও ব্যবস্থাপনায় ব্যয় করেন বলেও অভিযোগ সংশ্লিষ্টদের।

বিশ্ববিদ্যালয়ের চাকরি অধ্যাদেশ অনুযায়ী, প্রশাসনের লিখিত অনুমতি ছাড়া কোনো কর্মকর্তা অন্য কোনো বাণিজ্যিক বা বেসরকারি প্রতিষ্ঠানের দায়িত্বে যুক্ত থাকতে পারেন না। এছাড়া বিদেশ ভ্রমণের ক্ষেত্রেও বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষের অনুমতি বাধ্যতামূলক। তবে অনুসন্ধানে দেখা যায়, রুয়েটের ওয়েবসাইটে প্রকাশিত বিদেশ ভ্রমণের অনুমতিপ্রাপ্ত ৫৫২ জনের তালিকায় জি.এম. মোর্ত্তজার নাম নেই।

এ বিষয়ে জি.এম. মোর্ত্তজা বলেন, “আমি নিয়মিত অফিস করি না, কারণ দীর্ঘদিন ধরে আমার সঙ্গে বৈষম্য করা হয়েছে এবং অফিসে কাজ করার পরিবেশ নেই। প্রতিবাদের ভাষা হিসেবে আমি অনুপস্থিত থাকছি।”

তিনি আরও দাবি করেন, “আমি বরেন্দ্র উন্নয়ন প্রচেষ্টা ও রেডিও পদ্মার পরিচালনা কমিটির সদস্য। সেখান থেকে কোনো আর্থিক সুবিধা নেই না। চাকরিতে যোগদানের সময় কর্তৃপক্ষ আমাকে অনুমতি দিয়েছিল, যার নথি আমার ফাইলে রয়েছে।” তবে তিনি এ সংক্রান্ত কোনো নথি দেখাতে পারেননি। বিদেশ ভ্রমণের অনুমতি সংক্রান্ত কাগজও উপস্থাপন করতে পারেননি তিনি।

রুয়েটের উপাচার্য অধ্যাপক এস এম আব্দুর রাজ্জাক বলেন, “দায়িত্ব নেওয়ার পর জেনেছিলাম তিনি নিয়মিত অফিস করেন না। তাকে অফিসে উপস্থিত থাকতে বলা হয়েছিল। তবে বর্তমানে তিনি নিয়মিত অফিস করছেন কি না, তা আমার জানা নেই।”

তিনি আরও বলেন, “এনজিও বা রেডিও প্রতিষ্ঠানের সঙ্গে তার সম্পৃক্ততা কিংবা বিদেশ ভ্রমণের অনুমতি নেওয়ার বিষয়ে আমি অবগত নই। যদি অভিযোগের সত্যতা পাওয়া যায়, তাহলে তার বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা নেওয়া হবে।”

রুয়েটের ভারপ্রাপ্ত রেজিস্ট্রার আরিফ আহম্মেদ চৌধুরী বলেন, “তিন মাসের ছুটির কোনো আবেদন আমাদের দপ্তরে আসেনি। তবে ১০ মে থেকে ১৮ মে পর্যন্ত ছুটির আবেদন করেছেন। আমার জানামতে চাকরিতে যোগদানের পর থেকে বিদেশ ভ্রমণের জন্য তিনি প্রশাসনের কাছে কোনো আবেদন করেননি।”

তিনি আরও বলেন, “কোনো কর্মকর্তা দাবি-দাওয়া বা আপত্তি থাকলে তা লিখিতভাবে জানাতে হয়। অজুহাত দেখিয়ে অফিস না করা সরকারি বিধির লঙ্ঘন।”

নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক একাধিক শিক্ষক ও কর্মকর্তা অভিযোগ করেন, আওয়ামী লীগ সরকারের সময়ও জি.এম. মোর্ত্তজা নিয়মিত অফিস করতেন না এবং রাজনৈতিক প্রভাব ব্যবহার করে প্রশাসনিক জবাবদিহিতা এড়িয়ে যেতেন। রাজনৈতিক পটপরিবর্তনের পরও নতুন পরিচয়ের আড়ালে তিনি একইভাবে বহাল রয়েছেন বলেও অভিযোগ তাদের।

শিক্ষার্থীরা বলছেন, বিশ্ববিদ্যালয়ের গুরুত্বপূর্ণ জনসংযোগ দপ্তরের কার্যক্রম দীর্ঘদিন ধরে স্থবির হয়ে পড়েছে। তারা অভিযোগের সুষ্ঠু তদন্ত ও দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবি জানিয়েছেন।