ঢাকা | বৃহস্পতিবার, ১৪ মে ২০২৬,৩১ বৈশাখ ১৪৩৩

মান যাচাই করে স্কুল ফিডিংয়ের খাবার বুঝে নেয়ার নির্দেশ প্রধান শিক্ষকদের

‘সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে ফিডিং কর্মসূচি’ প্রকল্পের ফিডিং কার্যক্রম সঠিকভাবে বাস্তবায়নে নতুন নির্দেশনা দেয়া হয়েছে। এখন থেকে প্রধান শিক্ষককে খাবারের মান যাচাই করে সরবরাহকারী প্রতিষ্ঠান থেকে বুঝে নিতে হবে। সরবরাহকারী প্রতিষ্ঠান নিম্নমানের ত্রুটিপূর্ণ খাবার সরবরাহ করলে তা না নিয়ে তাৎক্ষণিকভাবে উর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষকে জানাতে হবে।

প্রাথমিক শিক্ষা অধিদপ্তরের এক চিঠিতে এ তথ্য জানা গেছে। চিঠিটি বৃহস্পতিবার (১৪ মে) সব জেলা প্রাথমিক শিক্ষা অফিসারকে পাঠানো হয়েছে। অফিসাররা তাদের আওতাধীন প্রকল্পভুক্ত সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষকদের এ চিঠি পৌঁছে দিয়ে আগামী ৩ কর্মদিবসের মধ্যে ‘প্রকল্পভুক্ত সকল প্রধান শিক্ষকের কাছে পত্র পাঠানো হয়েছে’ প্রতিবেদন অধিদপ্তরে পাঠাবেন। চিঠির সঙ্গে প্রাথমিক ও গণশিক্ষা মন্ত্রণালয়ের এ সংক্রান্ত চিঠিও জুড়ে দেয়া হয়েছে।

প্রাথমিক ও গণশিক্ষা মন্ত্রণালয়ের চিঠিতে জানা যায়, ‘সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে ফিডিং কর্মসূচি’ প্রকল্প বাস্তবায়নে বিভিন্ন উপজেলার সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় থেকে পঁচা বনরুটি, পঁচা ডিম, আকারে ছোট ও পঁচা কলা বিতরণসহ নানা প্রকার অভিযোগ পাওয়া যাচ্ছে। ফলে মানসম্মত খাদ্য সরবরাহে ঘাটতির কারণে প্রকল্পের উদ্দেশ্য ব্যাহত হওয়াসহ কোমলমতি শিশুদের স্বাস্থ্য ঝুঁকি সৃষ্টি হতে পারে। এ ক্ষেত্রে খাদ্যের মান নিশ্চিত করা জরুরি।

খাদ্যের মান যাচাইয়ে যেসব বিষয়ে খেয়াল রাখতে হবে- খাদ্য গ্রহণ ও বিতরণের পূর্বে সরবরাহ করা খাদ্যের মান ও পরিমাণ স্পেসিফিকেশন অনুযায়ী সঠিক আছে কিনা তা নিশ্চিত হতে হবে; নির্ধারিত তারিখ ও সময়ে (কল অফ বা কার্যাদেশ অনুযায়ী) খাদ্য গ্রহণ ও বিতরণ নিশ্চিত করতে হবে; খাদ্যদ্রব্যের ধরণ অনুযায়ী বিদ্যালয় পর্যায়ে উপযুক্ত সংরক্ষণ ও বিতরণ ব্যবস্থা নিশ্চিত করতে হবে, যাতে খাদ্যের গুণগত মান বজায় থাকে; বিশেষ করে বনরুটি তাজা, নরম ও সঠিকভাবে মোড়কজাত কিনা পরীক্ষা করতে হবে; প্যাকেজিং অক্ষত, ছিঁড়ে যাওয়া বা আর্দ্রতা মুক্ত এবং পচন, ফাঙ্গাস বা দুর্গন্ধমুক্ত হতে হবে। প্যাকেটের গায়ে উৎপাদন ও মেয়াদোত্তীর্ণের তারিখ এবং নেট ওজন (১২০ গ্রাম) উল্লেখ আছে কিনা তা যাচাই করতে হবে; ডিম ফাটা, দুর্গন্ধযুক্ত ও পিচ্ছিলতা বা দৃশ্যমান দূষণ আছে কিনা দেখতে হবে; কলা দাগ বা পোকামুক্ত হতে হবে, বেশি পাকা বা পঁচা কলা গ্রহণ বা বিতরণ করা যাবে না; ইউএইচটি মিল্ক ও ফর্টিফাইড বিস্কুটের ক্ষেত্রে প্যাকেজিং অক্ষত, প্যাকেটের গায়ে উৎপাদন ও মেয়াদোত্তীর্ণের তারিখ এবং নেট ওজন উল্লেখ আছে কিনা তা যাচাই করতে হবে।

চিঠিতে আরো বলা হয়েছে, সরবরাহকৃত খাদ্য সামগ্রী যাচাই করে গ্রহণ করতে হবে এবং কোনক্রমেই নিম্নমানের ও ত্রুটিপূর্ণ খাবার সরবরাহকারীদের নিকট থেকে নেয়া যাবে না। এ বিষয়ে কোনো প্রকার গাফিলতি, শৈথিল্য ও অনিয়ম পাওয়া গেলে বিভাগীয় মামলা ও আইন অনুযায়ী ব্যবস্থা নেয়া হবে। এছাড়া, সরবরাহকারী প্রতিষ্ঠান কর্তৃক নিম্নমানের ত্রুটিপূর্ণ খাবার সরবরাহ করলে তা না নিয়ে তাৎক্ষণিকভাবে উর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষকে অবহিত করতে হবে।