সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে সহকারী শিক্ষক পদে চূড়ান্তভাবে নির্বাচিত ১৪ হাজার ৩৮৪ জন প্রার্থীর নিয়োগ ও পদায়নের দাবিতে অবস্থান কর্মসূচি পালন করছেন কয়েকশ প্রার্থী।
আন্দোলনরতদের দাবি, গত ২৪ ফেব্রুয়ারির পর দীর্ঘ সময় অতিবাহিত হলেও অজ্ঞাত কারণে নিয়োগ প্রক্রিয়া ঝুলে আছে। তারা ইতোমধ্যে প্রয়োজনীয় কাগজপত্র জমা দেওয়া এবং স্বাস্থ্য পরীক্ষা (মেডিকেল টেস্ট) সম্পন্ন করলেও অধিদপ্তর থেকে চূড়ান্ত পদায়নের কোনো নির্দেশনা আসছে না।
আন্দোলনে অংশ নেওয়া এক প্রার্থী বলেন, দীর্ঘ প্রতিক্ষার পর আমরা মেধার ভিত্তিতে সুপারিশপ্রাপ্ত হয়েছি। পুলিশ ভেরিফিকেশন ও মেডিকেলও শেষ। কিন্তু অহেতুক তদন্ত আর প্রশাসনিক দীর্ঘসূত্রিতার কারণে আমরা অনিশ্চয়তায় দিন কাটাচ্ছি। আমাদের দ্রুত যোগদান ও পদায়ন নিশ্চিত করতে হবে।
অন্যদিকে, নিয়োগ প্রক্রিয়ায় স্বচ্ছতা নিয়ে কিছু মহলের অভিযোগ এবং গোয়েন্দা সংস্থার পুনঃতদন্তের কারণে এই বিলম্ব হচ্ছে বলে সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা গেছে। তবে সুপারিশপ্রাপ্ত প্রার্থীরা এই বিলম্বকে ‘মানসিক হয়রানি’ হিসেবে অভিহিত করেছেন। আন্দোলনকারীরা জানিয়েছেন, অবিলম্বে নিয়োগের সুনির্দিষ্ট তারিখ ঘোষণা করা না হলে তারা আরও কঠোর কর্মসূচির ঘোষণা দেবেন।
তবে প্রাথমিক ও গণশিক্ষা মন্ত্রণালয় সূত্রে জানা গেছে, প্রশাসনিক কিছু আনুষ্ঠানিকতা বাকি থাকায় দেরি হচ্ছে। খুব শিগগিরই সব জটিলতা কাটিয়ে নিয়োগপত্র ইস্যু করা হতে পারে।
প্রাথমিক ও গণশিক্ষা প্রতিমন্ত্রী ববি হাজ্জাজ বলেছেন, প্রাথমিকের ১৪ হাজার সহকারী শিক্ষক নিয়োগের পুরো প্রক্রিয়াটি শেষ হয়নি। সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়গুলোতে শিক্ষক সংকট রয়েছে। আমাদের শিক্ষক নিয়োগ দিতে হবে। এটি জরুরি। আমরা নিয়োগ প্রক্রিয়া রিভিউ করছি না।
সরকারি সূত্রগুলো জানিয়েছে, নিয়োগ পরীক্ষায় প্রশ্নপত্র ফাঁস, তড়িঘড়ি করে পরীক্ষা নেওয়া এবং ব্যাপক জালিয়াতির অভিযোগ ওঠায় কর্তৃপক্ষ পুরো ফলাফল পুনরায় পর্যালোচনার (রিভিউ) কথা ভাবছে। প্রশ্নফাঁসে অভিযুক্ত অনেকেই গ্রেফতার হয়ে দীর্ঘদিন ধরে জেল খাটছেন।






