ইসলামী বিশ্ববিদ্যালয়ের (ইবি) দুই ছাত্রীকে শ্লীলতাহানি এবং এক ছাত্রকে মারধরের ঘটনা ঘটেছে। ভুক্তভোগী শিক্ষার্থীরা বিশ্ববিদ্যালয়ের ফিন্যান্স অ্যান্ড ব্যাংকিং বিভাগের ২০২২-২৩ শিক্ষাবর্ষের শিক্ষার্থী। তারা ঝিনাইদহ সদর থানায় মামলা দায়ের করেন।
মামলার আসামিরা হলেন- মো. হাসিবুল রহমান (২০), মো. সোহেল আহম্মদ (২১), খন্দকার সাব্বির (২০) ও মো. মাশরাফি আলম প্রাপ্পো (২০) সহ অজ্ঞাতনামা আরও ১৫-২০ জন।
এজাহার সূত্রে জানা যায়, গত ২৪ এপ্রিল সন্ধ্যা আনুমানিক ৭টার দিকে ভুক্তভোগী দুই ছাত্রী ও তাদের বন্ধুরা ঝিনাইদহ শহরের শহীদ মিনার প্রাঙ্গণে অবস্থান করছিলেন। এ সময় একদল স্থানীয় যুবক তাদের লক্ষ্য করে অশালীন মন্তব্য ও কুরুচিপূর্ণ অঙ্গভঙ্গি শুরু করে। এর প্রতিবাদ করলে অভিযুক্তরা আরও বেপরোয়া হয়ে ওঠে এবং দুই ছাত্রীকে শ্লীলতাহানির চেষ্টা চালায়। বাধা দিতে গেলে তাদের সঙ্গে থাকা বি.এম. শাকিল জিম নামে এক ছাত্রকে মারধর করে। একপর্যায়ে অভিযুক্তরা শিক্ষার্থীদের ঘিরে ধরে জোরপূর্বক ভিডিও ধারণ করে।
এদিকে পরিস্থিতির অবনতি হলে বিশ্ববিদ্যালয়ের এক সিনিয়র শিক্ষার্থীর মাধ্যমে বিষয়টি পুলিশকে অবহিত করে তারা। পরে কিছুক্ষণের মধ্যে পুলিশ ঘটনাস্থলে উপস্থিত হলেও অভিযুক্তরা তাদের উপস্থিতিতেও বেপরোয়া আচরণ অব্যাহত রাখে।
পরবর্তীতে অভিযুক্তরা তাদের অনুমতি ছাড়া ধারণকৃত ভিডিও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে দেয় এবং তাতে বিভিন্ন মিথ্যা, বিভ্রান্তিকর ও মানহানিকর ক্যাপশন ব্যবহার করে।
ঝিনাইদহ আকাশ, Creative By Prappo, নবগঙ্গা টিভি, Daily Jhenaidah, ঝিনাইদহ ব্রেকিং, সোহেল রানা সেতুসহ বিভিন্ন ব্যক্তিগত প্রোফাইল থেকে কুরুচিপূর্ণ ও বিভ্রান্তিকর ক্যাপশন দিয়ে ভিডিওগুলো প্রচার করা হয়। যার মধ্যে Khandokar Sabbir, Md Masrafi Alam Prappo উল্লেখযোগ্য।
এজাহারে ওই শিক্ষার্থীরা দাবি করেন, পেইজ ও প্রোফাইলগুলো আমাদের সম্মতি ব্যতীত ভিডিও প্রচার করে আমাদের মানহানি করেছে এবং বিভ্রান্তিকর তথ্য ছড়িয়েছে। যদিও আমরা কিছু পেইজ থেকে ভিডিও সরাতে সক্ষম হয়েছি, তবুও এখনও বিভিন্ন মাধ্যমে ভিডিওটি প্রচারিত হচ্ছে এবং আমাদের নিয়ে অপপ্রচার অব্যাহত রয়েছে। এই ঘটনার মাধ্যমে অভিযুক্তরা আমাদের সাথে শ্লীলতাহানি, শারীরিক নির্যাতন, হুমকি প্রদান, অবৈধভাবে মব সৃষ্টি, ইভ টিজিং ও সাইবার বুলিংয়ের মতো গুরুতর অপরাধ সংঘটিত করেছে, যা বিদ্যমান আইন অনুযায়ী দণ্ডনীয় অপরাধ। যথাযথ তদন্ত সাপেক্ষে বিবাদীদের বিরুদ্ধে দণ্ডবিধি অনুযায়ী প্রয়োজনীয় আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণ, দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি প্রদান, পেইজ ও প্রোফাইল থেকে ভিডিও অপসারণ এবং আমাদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করে ন্যায়বিচার প্রাপ্তিতে সহায়তা করার জন্য সদয় হস্তক্ষেপ কামনা করছি।
এ ব্যাপারে ভুক্তভোগী ইশমাম হোসেন তন্দ্রা বলেন, ওইদিন আমি আমার স্বামীসহ কয়েকজন বন্ধুকে নিয়ে ঝিনাইদহ ভ্রমণে যাই। শহীদ মিনারে ক্যাম্পাস বাসের জন্য অপেক্ষা করার সময় এ ঘটনা ঘটে। আমরা দাবি জানাই, অভিযুক্তদের বিরুদ্ধে যথাযথ শাস্তিমূলক ব্যবস্থা গ্রহণ করা হোক। আমাদের মানহানিকর ভিডিও ও কনটেন্ট সম্পূর্ণরূপে অপসারণে সহায়তা করা হোক। ভবিষ্যতে যেন এমন ঘটনা আর না ঘটে, সে বিষয়ে প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ গ্রহণ করা হোক। তারা যেন আমাদের উপর পরবর্তীতে কোনো আক্রমণ না করে সে ব্যাপারেও নিশ্চয়তা চাই আমরা।
এ ব্যাপারে ঝিনাইদহ সদর থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) সামসুল আরেফিন বলেন, গতকাল ঘটনাস্থলে আমরা উপস্থিত হয়েছিলাম। অভিযুক্তদের দিয়ে শিক্ষার্থীদের কাছে ক্ষমা চাওয়ানোর মাধ্যমে সমাধান করেছিলাম। পরবর্তীতে শুনলাম, বিষয়টি পুনরায় স্যোশাল মিডিয়ায় এনে ভিন্নভাবে উপস্থাপন করা হয়েছে। এ ব্যাপারে ভুক্তভোগীদের মামলার ব্যাপারে শুনেছি। তবে, আজ শ্রমিক ইউনিয়নের নির্বাচনের ব্যস্ততার কারণে এখনও অফিসে না যাওয়ায় মামলার কপি হাতে পাইনি। থানায় গিয়ে এজাহার দেখে অভিযুক্তদের বিরুদ্ধে আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।





