ঢাকা | শুক্রবার, ২৪ এপ্রিল ২০২৬,১১ বৈশাখ ১৪৩৩

বেহাল দশা নজরুল বিশ্ববিদ্যালয়ের চিকিৎসাকেন্দ্রর, ভোগান্তিতে শিক্ষার্থীরা

নানাবিধ সমস্যায় জর্জরিত জাতীয় কবি কাজী নজরুল ইসলাম বিশ্ববিদ্যালয়ের একমাত্র মেডিকেল সেন্টার “ব্যথার দান”। প্রয়োজনীয় ওষুধের ঘাটতি, চিকিৎসক, স্টাফ এবং নার্সের ও সংকটের ফলে দীর্ঘদিন ধরেই আশানুরূপ কোনো সেবা দিতে পারছে না মেডিকেল সেন্টারটি।

বিশ্ববিদ্যালয়ের ২৫ টি বিভাগে প্রায় ১০০০০ অধিক শিক্ষার্থী এবং ৩৫০ এর অধিক শিক্ষক, কর্মকর্তা – কর্মচারীও তাদের পরিবারের জন্য রয়েছে এই মেডিকেল সেন্টারটি। কিন্তু এতো সংখ্যক সেবাগ্রাহীদের জন্য যৎসামান্য স্বাস্থ্যসেবা থাকায় শিক্ষার্থীরা পাচ্ছে না তাদের কাঙ্ক্ষিত সেবা। এছাড়াও অভিযোগ রয়েছে, মেডিক্যাল সেন্টারটিতে প্যারাসিটামল, ওমিপ্রাজল, সেটিরিজিন ও হাইড্রোক্লোরাইড জাতীয় প্রাথমিক কিছু ওষুধ ছাড়া কোনো ওষুধই পাওয়া যায়না। দায়িত্বপ্রাপ্ত ডাক্তার, নার্স ও স্টাফরা সময়মতো ডিউটিতে আসেন না বলেও অভিযোগ রয়েছে। 

অন্যদিকে মেডিক্যাল সেন্টারটির চিকিৎসা সরঞ্জাম ও উপকরণেও রয়েছে ঘাটতি। কিছু চিকিৎসা সরঞ্জাম ও উপকরণ থাকলেও আধুনিক সেবা দিতে অপারগ। 

ফলে শিক্ষার্থীদের কিছু হলেই, রেফার করা হয় ত্রিশাল উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স নয়তো ময়মনসিংহ মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে। এছাড়া সপ্তাহে শুক্র-শনিবার মেডিক্যাল সেন্টারটি বন্ধ রাখার কারনে শিক্ষার্থীদের মাঝে ক্ষোভের সৃষ্টি হয়েছে। 

বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন এর আগেও একাধিকবার ব্যথার দান নিয়ে শিক্ষার্থীদের অভিযোগের সকল সমস্যা সমাধান করার আশ্বাস দিলেও এখনও আশানুরূপ কোনো সমাধান হয়নি। 

গতকাল বৃহস্পতিবার সকাল সাড়ে ৯টার দিকে বিশ্ববিদ্যালয়ের সঙ্গীত বিভাগের এক শিক্ষার্থী গুরুতর অসুস্থ হয়ে বিশ্ববিদ্যালয়ের ‘ব্যথার দান’ মেডিকেল সেন্টারে গেলে সেখানে কোনো চিকিৎসক কিংবা অ্যাম্বুলেন্সের উপস্থিতি পাননি। প্রায় এক ঘণ্টা অপেক্ষার পর অ্যাম্বুলেন্স এসে তাকে ত্রিশাল উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স-এ নেওয়া হয়। জরুরি পরিস্থিতিতে এ ধরনের চিকিৎসা সংকট নিয়ে সাধারণ শিক্ষার্থীদের মধ্যে তীব্র অসন্তোষ দেখা দিয়েছে।

বিশ্ববিদ্যালয়ের মানবসম্পদ ব্যবস্থাপনা বিভাগের ২০২১-২২ শিক্ষাবর্ষের শিক্ষার্থী শিলা জাহান বলেন,  মেডিক্যাল সেন্টারে  নিয়মিত ডাক্তার থাকেনা। যে কোনো সমস্যা হোক শুধু ২ টা নাপা দিয়ে পাঠিয়ে দিবে নয়তো ময়মনসিংহ হাসপাতালে যেতে বলবে। তারা আদৌ ডাক্তার কিনা সন্দেহ আছে। প্রতিদিন সন্ধ্যা ৭ টার পর এবং সপ্তাহে ২ দিন বন্ধ বন্ধ রাখা হয় মেডিক্যাল সেন্টারটি। তাহলে কি আমাদের শুক্র-শনিবার কিংবা সন্ধ্যা সাতটার পর অসুস্থ হবো না? এক কথায় বিশ্ববিদ্যালয়ে হাসপাতাল থাকা প্রয়োজন, তাই নিয়ম রক্ষার্থেই এটি রাখা হয়েছে।

২০২২-২৩ শিক্ষাবর্ষের ফাইন্যান্স এন্ড ব্যাংকিং বিভাগের শিক্ষার্থী রায়হান তালুকদার বলেন, নামে ব্যাথার দান হলেও কাজে কোনো ব্যাথার সমাধান দেখি না। কিছুদিন আগে আমি গুরুতর অসুস্থ হয়ে কোনো চিকিৎসা পাইনি। এই মেডিকেল সেন্টার আমাদের স্বাস্থ্য ঝুঁকি কমাতে পারেনি উল্টো বাড়িয়েছে।

ব্যথার দানের অতিরিক্ত চিফ অফিসার ডা. আবুল খায়ের মোহাম্মদ হেলাল উদ্দিন জানান, পূর্বের প্রক্রিয়ায় আমরা কোম্পানি গুলো থেকে ওষুধ নিতে না পারায় কিছু ঘাটতি রয়েছে। তবে আমরা চেষ্টা করছি খুব শীগ্রই সমাধান করার। শুক্র ও শনিবার খোলা রাখার বিষয়ে তিনি বলেন, আমাদের চিকিৎসক সংকট রয়েছে। নতুন চিকিৎসক নিয়োগ হলেই আমরা সপ্তাহে সাত দিনই সেবা দিতে পারবো এবং আমরা নির্দিষ্ট রুটিন মাফিক ডিউটি করি। এতে করে প্রতিদিন সবাই উপস্থিত থাকে না, তবে চিকিৎসক নিয়োগ হলে এই সমস্যা ও সমাধান হয়ে যাবে।