ঢাকা | মঙ্গলবার, ২১ জুলাই ২০২৬,৬ শ্রাবণ ১৪৩৩

এনটিআরসিএর সনদ যাচাইয়ে আসছে জরুরি পদক্ষেপ

এখন থেকে দেশের সব এমপিওভুক্ত শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের শিক্ষকদের বেসরকারি শিক্ষক নিবন্ধন ও প্রত্যয়ন কর্তৃপক্ষের (এনটিআরসিএ) সনদ যাচাইয়ের বিষয়ে মাধ্যমিক ও উচ্চ শিক্ষা অধিদপ্তর (মাউশি) থেকে জরুরিভিত্তিতে কার্যক্রম গ্রহণ করা হবে। এ ছাড়াও আর্থিক অনিয়মের প্রতিবেদন পাওয়ার সাত কার্যদিবসের মাধ্যমে জবাব পাঠাতে হবে প্রতিষ্ঠান প্রধানকে।

এমপিওভুক্ত শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের শিক্ষকদের এনটিআরসিএর নিবন্ধন সনদ ও প্রতিষ্ঠানের কাম্য শিক্ষার্থী যাচাই এবং স্বীকৃতি নবায়নের বিষয়ে মাধ্যমিক ও উচ্চশিক্ষা অধিদপ্তরের ক্ষমতায়ন করা হচ্ছে। এছাড়া শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের আর্থিক অনিয়মসহ বিভিন্ন তদন্ত প্রতিবেদন শিক্ষা মন্ত্রণালয়ে পাঠাতে চরম ঢিলেমি করছে ডিআইএ। বছরের পর বছর হাজার হাজার তদন্ত প্রতিবেদন পড়ে থাকছে, বিধান অনুযায়ী পাঠানো হচ্ছে না মন্ত্রণালয়ে। ফলে পরিদর্শন ও নিরীক্ষা অধিদপ্তরের (ডিআইএ) করা সুপারিশ বাস্তবায়ন বাধাগ্রস্ত হচ্ছে। অনেক ক্ষেত্রে শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের গুরুতর আর্থিক অনিয়মের সুপারিশগুলো বাস্তবায়ন উপেক্ষিত থেকে যাচ্ছে। এবার এসব তদন্ত প্রতিবেদন পাঠানোর দীর্ঘসূত্রতা কমাতে কঠোর পদক্ষেপ নিচ্ছে শিক্ষা মন্ত্রণালয়।

এখন থেকে দেশের সব এমপিওভুক্ত শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের শিক্ষকদের বেসরকারি শিক্ষক নিবন্ধন ও প্রত্যয়ন কর্তৃপক্ষের (এনটিআরসিএ) সনদ যাচাইয়ের বিষয়ে মাধ্যমিক ও উচ্চ শিক্ষা অধিদপ্তর (মাউশি) থেকে জরুরিভিত্তিতে কার্যক্রম গ্রহণ করা হবে। এ ছাড়াও আর্থিক অনিয়মের প্রতিবেদন পাওয়ার সাত কার্যদিবসের মাধ্যমে জবাব পাঠাতে হবে প্রতিষ্ঠান প্রধানকে।

সম্প্রতি শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের এ সংক্রান্ত সভায় এ সব বিষয়ে আলোচনা হয়েছে। সভায় উপস্থিত একাধিক কর্মকর্তা দৈনিক আমাদের বার্তাকে এ তথ্য নিশ্চিত করেছেন।

জানা গেছে, পরিদর্শন ও নিরীক্ষা অধিদপ্তরের শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের পরিদর্শন ও নিরীক্ষা প্রতিবেদন তদন্ত শেষ করার কয়েকবছর পরে শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের মাধ্যমিক ও উচ্চ শিক্ষা বিভাগে পাঠানো হচ্ছে। এতে প্রতিবেদনের সুপারিশগুলো বাস্তবায়ন বিঘ্নিত হচ্ছে। এই দীর্ঘসূত্রতা হ্রাসসহ কার্যক্রম সহজীকরণের ক্ষেত্রে বিভিন্ন পদক্ষেপের বিষয়ে আলোচনা হয় সভায়।

মন্ত্রণালয়ের আলোচনায় আরো উঠে আসে, অডিট আপত্তিগুলো সুস্পষ্টভাবে আলাদা এবং পরিদর্শ ন রিপোর্টে অডিট আপত্তি বহির্ভূত বিষয়গুলো আলাদাভাবে উপস্থাপন করা প্রয়োজন। পরিদর্শন রিপোর্টের ওপরে কার্যক্রম গ্রহণ করার জন্য তা মাউশি অধিদপ্তরে পাঠাতে পাঠাতে হবে।

দেশের সব এমপিওভুক্ত শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের শিক্ষকদের এনটিআরসিএর সনদ যাচাই, কাম্য শিক্ষার্থী যাচাই, স্বীকৃতি নবায়ন ইত্যাদির বিষয়ে মাউশি অধিদপ্তর থেকে জরুরিভিত্তিতে কার্যক্রম গ্রহণ করা হবে।

অডিট আপত্তি ও ব্রডশিট জবাব সুবিস্তৃত না হয়ে সারসংক্ষেপ হিসেবে মন্ত্রণালয়ে পাঠানো এবং প্রচলিত পরিদর্শন ও নিরীক্ষা প্রতিবেদন ফরমেটটি নতুন করে কার্যকরীভাবে প্রণয়ন করা প্রয়োজন বলেও মত প্রকাশ করা হয়। অডিট শেষে প্রতিষ্ঠান ত্যাগ করার আগেই প্রতিষ্ঠান প্রধানের কাছে অডিট আপত্তির কপি জমা দেয়া ও প্রতিষ্ঠান প্রধান অডিট আপত্তি প্রাপ্তির সাত কার্যদিবসের মাধ্যমে ব্রডশিট জবাব পাঠানো প্রয়োজন।

এছাড়াও আলোচনা হয় শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান থেকে ব্রডশিট জবাব সরাসরি ডিআইএতে পাঠানোর বিষয়ে, জরুরিভিত্তিতে পেন্ডিং আপত্তি নিষ্পত্তির বিষয়ে সমায়াবদ্ধ কর্মপরিকল্পনা গ্রহণের বিষয়েও আলোচনা হয়। অডিট টিমের কার্যক্রম তদারকির জন্য তদারকির টিম গঠনের বিষয়েও কথা হয়। পরিদর্শন ও নিরীক্ষা কার্যক্রম শুরু থেকে অডিট আপত্তি নিষ্পত্তি পর্যন্ত একটি অডিট ম্যানুয়াল প্রস্তুতের বিষয়টিও উঠে আসে আলোচনায়।