ঢাকা | শনিবার, ২ মে ২০২৬,১৯ বৈশাখ ১৪৩৩

ছাত্রীহলের নাম পরিবর্তনের পরেও শেখ মুজিবের স্ত্রীর’ নামেই বিজ্ঞপ্তি

‎জুলাই আন্দোলনের পর শিক্ষার্থীদের দাবির মুখে পরিবর্তন করা হয় জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়ের (জবি) একমাত্র ছাত্রীহলের নাম। আগে হলটির নাম ছিলো ফজিলাতুন্নেছা মুজিবের নামে। বর্তমানে হলটির নাম ‘নওয়াব ফয়জুন্নেসা চৌধুরানী হল’। তবে নাম পরিবর্তন হলেও সম্প্রতি প্রকাশিত এক বিজ্ঞপ্তিতে পূর্বের নাম ‘বেগম ফজিলাতুন্নেছা মুজিব হল’ ব্যবহার করেছে বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন।

‎‎বিজ্ঞপ্তিতে বিশ্ববিদ্যালয়ের ভারপ্রাপ্ত রেজিস্ট্রার অধ্যাপক ড. মো. শেখ গিয়াস উদ্দিনের স্বাক্ষরও দেখা যায়। চলতি বছরের ৩০ অক্টোবর প্রকাশিত ওই বিজ্ঞপ্তির অনুলিপি পাঠানোর ঠিকানায় ‘নওয়াব ফয়জুন্নেসা চৌধুরানী হল’-এর পরিবর্তে উল্লেখ করা হয়েছে প্রোভোস্ট, বেগম ফজিলাতুন্নেছা মুজিব হল, জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়।

‎‎ওই বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়, জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়ে ২৯ অক্টোবর অনুষ্ঠিত একাডেমিক কাউন্সিলের ৭৫তম সভার সিদ্ধান্ত অনুযায়ী ২০২৫-২৬ শিক্ষাবর্ষে স্নাতক (সম্মান) ও বিবিএ প্রথম বর্ষের ভর্তি পরীক্ষা নেয়া, ভর্তি কার্যক্রম তদারকি ও নীতিমালা প্রণয়নের লক্ষ্যে কেন্দ্রীয় ভর্তি কমিটি গঠন করা হয়েছে।

‎‎ফলে প্রকাশিত বিজ্ঞপ্তিতে পুরনো নাম ব্যবহার হওয়ায় শিক্ষার্থীদের মধ্যে প্রশ্ন উঠেছে প্রশাসন কি এখনও নাম পরিবর্তনের সিদ্ধান্ত কার্যকর করেনি, নাকি এটি প্রশাসনিক ত্রুটি?

‎‎এ বিষয়ে গণিত বিভাগের শিক্ষার্থী হাসান বলেন, বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসনের এমন ভুল খুবই চিন্তার বিষয়। তারা কি ইচ্ছা করেই এমন ভুল করেছে? যদি তাই হয়, তবে তাদের জবাবদিহির আওতায় আনতে হবে।

‎‎আরেক শিক্ষার্থী বলেন, নাম পরিবর্তনের পরও এমন ভুল অপ্রত্যাশিত। প্রশাসন কি ঘুমিয়ে ঘুমিয়ে এই বিজ্ঞপ্তি প্রকাশ করেছে? তাদের ঘুম থেকে জাগা উচিত। এমন ভুলের জবাবদিহি করতে হবে।

‎‎
এ বিষয়ে জানতে বিশ্ববিদ্যালয়ের রেজিস্টার অধ্যাপক ড. মো. শেখ গিয়াস উদ্দিনকে একাধিকবার ফোন দিলে তিনি রিসিভ করেননি। পরে তার ফোন বন্ধ পাওয়া যায়। পরবর্তীতে তার দপ্তরে গেলে এক কর্মকর্তা জানান, রেজিস্ট্রার ছুটিতে আছেন।সর্বোচ্চ ভোট পেয়ে আবারোআমির হলেন ডা. শফিকুর

আবারও বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর আমির নির্বাচিত হয়েছেন ডা. শফিকুর রহমান। ২০২৬-২০২৮ কার্যকালের জন্য তিনি দলটির সর্বোচ্চ নেতা নির্বাচিত হয়েছেন।

বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর অভ্যন্তরীণ নির্বাচন পরিচালনার দায়িত্বে নিয়োজিত প্রধান নির্বাচন কমিশনার সহকারী সেক্রেটারি জেনারেল মাওলানা এটিএম মাছুম শনিবার (১ নভেম্বর) রাতে সংগঠনের ‘আমির’ নির্বাচনের ফলাফল ঘোষণা করেন।

৯ অক্টোবর থেকে ২৫ অক্টোবর পর্যন্ত সারাদেশের সদস্যদের কাছ থেকে গোপন ব্যালটের মাধ্যমে ভোট গ্রহণ করা হয়। ভোটগ্রহণের কার্যক্রম শেষে সংশ্লিষ্ট দায়িত্বপ্রাপ্ত টিম ভোট গণনা শেষ করেন। এরপর শনিবার রাতে আনুষ্ঠানিকভাবে প্রধান নির্বাচন কমিশনার সংগঠনের ‘আমির’ নির্বাচনের ফলাফল ঘোষণা করেন।

প্রাপ্ত ফলাফল অনুযায়ী ২০২৬-২০২৮ কার্যকালের জন্য সর্বোচ্চ সংখ্যক ভোট পেয়ে বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর ‘আমির’ নির্বাচিত হয়েছেন ডা. শফিকুর রহমান। তবে কত ভোট পেয়েছেন এবং নিকটতম কেউ ছিলো কিনা তা জানানো হয়নি।

ব্রিটিশ উপনিবেশকালে ভারতের লাহোরে (বর্তমানে পাকিস্তান) মাওলানা মওদূদীর হাত ধরে প্রতিষ্ঠিত হয় জামায়াতে ইসলামী। প্রতিষ্ঠার পর থেকে এ পর্যন্ত তৎকালীন পূর্ব পাকিস্তান ও বর্তমান বাংলাদেশে আমির নির্বাচিত হয়েছেন ৬ জন নেতা। তাদের মধ্যে ১৯৫৬ থেকে ১৯৬০ সাল পর্যন্ত মাওলানা আবদুর রহিম, ১৯৬০ থেকে ১৯৭১ সাল পর্যন্ত এবং ১৯৯২ থেকে ২০০০ সাল পর্যন্ত অধ্যাপক গোলাম আযম, ১৯৭৯ থেকে ১৯৯২ সাল পর্যন্ত আব্বাস আলী খান (ভারপ্রাপ্ত), ২০০০ থেকে ২০১৬ সাল পর্যন্ত মতিউর রহমান নিজামী, ২০১৬ থেকে ২০১৯ সাল পর্যন্ত মকবুল আহমদ এবং সর্বশেষ ডা. শফিকুর রহমান ২০১৯ ও ২০২২ সালে টানা দুইবারের মতো নির্বাচিত হয়ে এখন পর্যন্ত দায়িত্ব পালন করছেন।