ঢাকা | বৃহস্পতিবার, ১৫ অক্টোবর ২০২৬,৩০ আশ্বিন ১৪৩৩

রাজশাহীতে চলন্ত কাভার্ড ভ্যানের তালা ভেঙে ক্রিকেট বোর্ডের মালামাল চুরি, গ্রেপ্তার-৪

চলন্ত কাভার্ড ভ্যানের তালা ভেঙে চুরি হওয়া বাংলাদেশ ক্রিকেট বোর্ডের (বিসিবি) মালামাল ও নগদ বৈদেশিক মুদ্রাসহ চোরচক্রের চার সদস্যকে গ্রেপ্তার করেছে রাজশাহী জেলা গোয়েন্দা (ডিবি) পুলিশ।

বৃহস্পতিবার ভোর ৪টা ১৫ মিনিটে রাজশাহী জেলার পুঠিয়া থানার তারাপুর গ্রামে তথ্যপ্রযুক্তির সহায়তায় এক বিশেষ অভিযান চালিয়ে আসামিদের গ্রেপ্তার এবং চুরি যাওয়া মালামাল উদ্ধার করা হয়।

গ্রেপ্তারকৃত আসামিরা হলেন চারঘাট থানার চামটা গ্রামের মোঃ মোসলেম উদ্দিনের ছেলে মোঃ মোজাম্মেল হক, পুঠিয়া থানার গন্ডগোহালী জামতলা গ্রামের মোঃ আঃ কুদ্দুসের ছেলে মোঃ সোহান রহমান, একই থানার বারই পাড়া গ্রামের মোঃ আকবর আলীর ছেলে মোঃ রুবেল আহমেদ এবং তারাপুর গ্রামের মৃত দুলু প্রামানিকের ছেলে মোঃ শাহাদত হোসেন।

অভিযানকালে গ্রেপ্তারকৃত আসামি মোঃ শাহাদত হোসেনের বসতবাড়ি থেকে ১টি আইফোন ১৫ প্রো ম্যাক্স, ৩০০ ইউএস ডলার, নগদ ৮ হাজার টাকা, ১টি ম্যাসেজ বেড, ১টি ল্যাকেজ ও ৪টি প্লাস্টিকের বক্স উদ্ধার করা হয়। এছাড়া অপরাধের কাজে ব্যবহৃত তালা ভাঙার বিভিন্ন যন্ত্রপাতি এবং ১টি মোটরসাইকেল জব্দ করেছে পুলিশ।

পুলিশ ও মামলা সূত্রে জানা যায়, গত ১৩ অক্টোবর বিসিবি পরিচালিত ডিভিশন ক্রিকেট টিমের মালামাল ভর্তি একটি কাভার্ড ভ্যান ঢাকা থেকে রাজশাহীর উদ্দেশ্যে রওনা হয়। পথিমধ্যে গত ১৪ অক্টোবর ভোর আনুমানিক ৫টা ৫ মিনিটে নাটোর-রাজশাহী মহাসড়কের পুঠিয়া থানাধীন তারাপুর মোড়ে মোটরসাইকেলে আসা একদল দুর্বৃত্ত চলন্ত কাভার্ড ভ্যানের তালা ভেঙে মালামাল চুরি করে পালিয়ে যায়। পেছনে থাকা অন্য একটি গাড়ির চালক বিষয়টি দেখলে কাভার্ড ভ্যানের চালক সজীবকে খবর দেন।

চালক গাড়ি থামিয়ে তালা ভাঙা দেখতে পেয়ে তাৎক্ষণিক গাড়িটি রাজশাহী শহরের হোটেল গ্র্যান্ড রিভারভিউতে নিয়ে যান। সেখানে বিকেএসপির সদস্যদের উপস্থিতিতে মালামাল গণনাকালে মোট ৫৪টি লাগেজের মধ্যে ৮টি লাগেজ ও অন্যান্য সরঞ্জাম চুরি হওয়ার বিষয়টি নিশ্চিত হওয়া যায়।

ঘটনার পর রাজপাড়া থানায় একটি সাধারণ ডায়েরি করা হলে তার ভিত্তিতে রাজশাহী জেলা পুলিশ সুপার মোঃ মামুন অর রশিদের নির্দেশনায় এবং ডিবি ওসি শেখ মাহাবুবুর রহমানের নেতৃত্বে এসআই মোঃ মেহেদী হাসানসহ ডিবির একটি চৌকস দল অভিযান চালিয়ে মালামাল উদ্ধারসহ আসামিদের গ্রেপ্তার করে।

পুলিশ জানায়, গ্রেপ্তারকৃত মোজাম্মেল হকের বিরুদ্ধে রাজশাহী, টাঙ্গাইল ও নাটোর জেলায় মোট ৫টি মামলা রয়েছে। এছাড়া আসামি সোহান ও রুবেলের বিরুদ্ধে পুঠিয়া থানায় ১টি করে মামলা রয়েছে। বর্তমানে গ্রেপ্তারকৃতদের বিরুদ্ধে পুঠিয়া থানায় নতুন মামলা দায়েরের প্রক্রিয়া চলমান রয়েছে বলে জানিয়েছেন রাজশাহী জেলা পুলিশের মুখপাত্র ও অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (ডিএসবি) সাবিনা ইয়াসমিন।