বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমানের একটি ফেসবুক পোস্ট ঘিরে দেশজুড়ে শুরু হয়েছে আলোচনা, উচ্ছ্বাস আর গর্বের প্রকাশ। বিশ্ববিখ্যাত আলোকচিত্রী ও মানবাধিকার কর্মী শাহিদুল আলম গাজা অভিমুখী ‘ফ্লোটিলা মিশনে’ অংশ নিয়ে বাংলাদেশের পতাকা বহন করেছেন—এই সাহসী ঘটনার প্রশংসায় ভেসে গেছে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম। তারেক রহমান নিজ পোস্টে একে আখ্যায়িত করেছেন ‘a roar of conscience’—অর্থাৎ বিবেকের গর্জন।
তারেক রহমান লিখেছেন, ‘শাহিদুল আলমের সাহসিকতা কেবল সংহতির প্রতীক নয়, এটি বিবেকের গর্জন। তিনি বাংলাদেশের পতাকা নিয়ে বিশ্বকে মনে করিয়ে দিয়েছেন—আমরা অন্যায়ের সামনে কখনো মাথা নত করি না। বিএনপি তাঁর পাশে আছে, আছে ফিলিস্তিনের মানুষের পাশে—আজ ও চিরকাল।’
এই বক্তব্যের পরপরই ফেসবুকে উৎসাহী প্রতিক্রিয়ায় মুখর হয়ে ওঠেন শতাধিক ব্যবহারকারী। তাদের মন্তব্যগুলোতে উঠে এসেছে—বিএনপির অবস্থান, জাতীয় আত্মপরিচয়, ইসলামী ভ্রাতৃত্ববোধ এবং মানবাধিকারের প্রতি অঙ্গীকারের কথা।
ফেসবুকে প্রতিক্রিয়া:
ব্যবহারকারী মোহাম্মদ শহীদুল ইসলাম লিখেছেন, ‘শুধু সংহতি নয়, এটি ন্যায়ের পাশে দাঁড়ানো। শাহিদুল আলম একটি পতাকা নয়, একটি জাতির গর্ব বহন করেছেন।’
জহির উদ্দিন বলেন, ‘এটি এক সাহসী পদক্ষেপ যা বাংলাদেশিদের অন্যায়ের বিরুদ্ধে মাথা উঁচু করে দাঁড়ানোর চেতনা প্রকাশ করে। আল্লাহ যেন ফিলিস্তিনের নিপীড়িতদের বিজয় দান করেন।’
মাইশা আক্তার লেখেন, ‘শাহিদুল আলমের সাহস হৃদয় ছুঁয়ে যায়। এটি ভালোবাসা, সংহতি এবং ন্যায়ের প্রতিচ্ছবি।’
আরিফ হোসেন একটি আকাঙ্ক্ষা প্রকাশ করে লেখেন, ‘আপনি (তারেক রহমান) যখন ক্ষমতায় আসবেন, বাংলাদেশকে যেন একটি শক্তিশালী সামরিক শক্তিতে পরিণত করেন, যাতে আমরা মুসলিম উম্মাহর জন্য কিছু করতে পারি।’
বিদ্রোহী বাবু নাট্যকার বলেন, ‘এটি কেবল সংহতি নয়, এটি ইতিহাস রচনা। বাংলাদেশ কখনো অন্যায়ের কাছে আত্মসমর্পণ করে না।’
রাজীব চৌধুরীর বক্তব্য তারেক রহমানের বাক্যের প্রতিধ্বনি: ‘শাহিদুল আলমের পদক্ষেপ একটি বিবেকের গর্জন।’
মোঃ শাহীন টোটা প্রার্থনা করে লেখেন, ‘হে আল্লাহ, গাজার মানুষের জন্য দয়া, শান্তি ও নিরাপত্তা দান করুন।’
রাজ আহমেদ রাজ বলেন, ‘বাংলাদেশ ছোট হতে পারে, কিন্তু আমাদের মানুষ অন্যায়ের বিরুদ্ধে জীবন দিতে দ্বিধা করে না।’
মুহাম্মদ ওমর ফারুক ওভি সবচেয়ে দীর্ঘ এবং আবেগঘন প্রতিক্রিয়ায় লেখেন,
‘শাহিদুল আলম শুধু আমাদের পতাকা বহন করেননি, তিনি বাংলাদেশের আত্মা বহন করেছেন। তার পদক্ষেপ আমাদের জাতিগত স্মৃতি ও সংগ্রামের প্রতিধ্বনি।’
এহসানুল হক পিয়াল লেখেন, ‘এটি কেবল একটি বার্তা নয়, এটি অন্যায়ের বিরুদ্ধে প্রতিরোধের প্রতীক।’
মোঃ মাহাদি ইসলাম মাসুম বলেন, ‘শাহিদুল আলম কেবল বাংলাদেশের গর্ব নয়, পুরো দক্ষিণ এশিয়ার গর্ব।’
এই ফেসবুক পোস্টটি স্পষ্ট করেছে, গাজায় ফিলিস্তিনিদের ওপর চলমান দমন-পীড়নের বিরুদ্ধে বাংলাদেশের মানুষের আবেগ কতটা গভীর। একই সঙ্গে শাহিদুল আলমের পদক্ষেপ সামাজিক, রাজনৈতিক এবং নৈতিক স্তরে ব্যাপক সাড়া ফেলেছে।
ফেসবুকের প্রতিক্রিয়াগুলো শুধু কোনো একক নেতার সমর্থনে নয়—এটি ছিল একটি জাতির পক্ষ নেওয়ার অনুভূতির বহিঃপ্রকাশ।






