মহান স্বাধীনতা দিবসের পবিত্র প্রভাতে পাবনার ঈশ্বরদী যেন আবেগ, শ্রদ্ধা আর গর্বে একাকার হয়ে উঠেছিল। জাতির শ্রেষ্ঠ সন্তান বীর শহীদদের স্মরণে বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল (বিএনপি) আয়োজন করে এক হৃদয়স্পর্শী শ্রদ্ধা নিবেদনের কর্মসূচি। পুরো পরিবেশজুড়ে ছিল দেশপ্রেমের অনুরণন আর ত্যাগের স্মৃতিচারণে গভীর আবেগঘন মুহূর্ত।
বৃহস্পতিবার (২৬ মার্চ ২০২৬) সকালে বিএনপি চেয়ারপারসনের উপদেষ্টা ও পাবনা জেলা বিএনপির আহ্বায়ক হাবিবুর রহমান হাবিবের নেতৃত্বে নেতাকর্মীদের ঢল নামে। ঈশ্বরদী পোস্ট অফিস মোড়স্থ দলীয় কার্যালয় থেকে শুরু হওয়া বিশাল র্যালিটি পরিণত হয় জনসমুদ্রে। দেশাত্মবোধক স্লোগান, জাতীয় পতাকার রঙে রাঙানো ব্যানার আর শহীদদের স্মরণে নীরব আবেগ—সব মিলিয়ে র্যালিটি এগিয়ে যায় আলহাজ্ব মোড়ে অবস্থিত বিজয় স্তম্ভের দিকে।
বিজয় স্তম্ভে পৌঁছে পুষ্পস্তবক অর্পণের মধ্য দিয়ে বীর শহীদদের প্রতি জানানো হয় বিনম্র শ্রদ্ধা। এ সময় অনেক নেতাকর্মীর চোখে ছিল অশ্রু, কণ্ঠে ছিল শ্রদ্ধা আর হৃদয়ে ছিল স্বাধীনতার ঋণ শোধের অঙ্গীকার। নীরবতা ভেঙে উচ্চারিত হয়—“শহীদদের রক্ত বৃথা যেতে পারে না”।
উপস্থিত ছিলেন ঈশ্বরদী উপজেলা বিএনপির সাবেক আহ্বায়ক জিয়াউল ইসলাম সন্টু সরদার, সাবেক সদস্য সচিব আজমল হোসেন সুজন, রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ের সাবেক ছাত্রনেতা ও ঈশ্বরদী উপজেলা যুবদলের সাবেক সাধারণ সম্পাদক শরিফুল ইসলাম তুহিন, উপজেলা বিএনপির সাবেক যুগ্ম আহ্বায়ক হাসিবুর রহমান হাক্কে মন্ডল, আব্দুস সামাদ সুলভ মালিথা, মাহবুবুর রহমান পলাশ, ঈশ্বরদী পৌর বিএনপির সাবেক সাংগঠনিক সম্পাদক আজমল হোসেন ডাবলু, বিএনপি নেতা তুহিন চৌধুরী, রফিকুল ইসলাম নয়ন, উপজেলা ছাত্রদলের সাবেক সাধারণ সম্পাদক তানভীর হাসান সুমনসহ বিভিন্ন পর্যায়ের নেতাকর্মীরা।

শ্রদ্ধা নিবেদন শেষে নেতারা মহান মুক্তিযুদ্ধে আত্মোৎসর্গকারী শহীদদের আত্মার মাগফিরাত কামনা করেন এবং দেশের স্বাধীনতা ও গণতন্ত্র রক্ষায় ঐক্যবদ্ধ থাকার দৃঢ় অঙ্গীকার ব্যক্ত করেন। তারা বলেন, “এই স্বাধীনতা কোনো দয়া নয়—এটি রক্তে কেনা। সেই চেতনাকে ধারণ করেই আমাদের গড়ে তুলতে হবে একটি বৈষম্যহীন, ন্যায়ভিত্তিক ও সমৃদ্ধ বাংলাদেশ।”
মহান স্বাধীনতা দিবসে এই শ্রদ্ধা নিবেদন যেন শুধু আনুষ্ঠানিকতা নয়—বরং ছিল এক গভীর প্রতিজ্ঞা, শহীদদের স্বপ্নের বাংলাদেশ গড়ার এক অটুট অঙ্গীকার।






