ঢাকা | সোমবার, ২৫ মে ২০২৬,১১ জ্যৈষ্ঠ ১৪৩৩

তোফাজ্জলকে পিটিয়ে হত্যার ‘পলাতক’ আসামি ঢাবি গেস্ট হাউজে

ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ফজলুল হক মুসলিম হলে চোর সন্দেহে তোফাজ্জল হোসেনকে পিটিয়ে হত্যা মামলার ২৩ নম্বর আসামি মো. রাশেদ কামাল অনিক দীর্ঘদিন ধরে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের টিএসসি গেস্ট হাউজে অবস্থান করছেন।

পলাতক আসামি মো. রাশেদ কামাল অনিক ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের পরিবেশ সংসদের সাধারণ সম্পাদক। গ্রেফতারি পরোয়ানা সত্ত্বেও তিনি দীর্ঘদিন ধরে অনিয়মিতভাবে টিএসসি গেস্ট হাউজে থাকেন। এ ঘটনায় টিএসসি পরিচালক ফারজানা বাসারের ভূমিকা নিয়ে প্রশ্ন উঠেছে। তবে ‘মানবিক বিবেচনায়’ তাকে কিছুদিন থাকতে দেওয়া হয়েছিল বলে জানান ফারজানা বাসার। রোববার দৈনিক দেশ রূপান্তর পত্রিকায় এ নিয়ে একটি প্রতিবেদন প্রকাশিত হয়েছে।

জানা যায়, অভিযুক্ত রাশেদ ঢাবির মৃত্তিকা পানি ও পরিবেশ বিভাগের ২০১৮-১৯ সেশনের ফজলুল হক মুসলিম হলের আবাসিক শিক্ষার্থী ছিলেন। ২০২৪ খ্রিষ্টাব্দের ১৮ সেপ্টেম্বর ওই হলে ‘চোর সন্দেহে’ তোফাজ্জল হোসেনকে পিটিয়ে হত্যার মামলার আট আসামিকে সাময়িক বহিষ্কার করে প্রশাসন। তবে সে তালিকায় রাশেদ ছিলেন না। পরে তোফাজ্জল হত্যা মামলায় চলতি বছরের ১০ মার্চ সম্পূরক চার্জশিট গ্রহণ করেন ঢাকার মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট। চার্জশিটে ২৮ জনকে আসামি করা হয়। এর মধ্যে তিনজন কারাগারে ও তিনজন জামিনে রয়েছেন। বাকি ২২ জনের বিরুদ্ধে চার্জশিটে পলাতক উল্লেখ করে গ্রেফতারি পরোয়ানা জারি করে আদালত। প্রথম চার্জশিটে নাম থাকলেও গ্রেফতার আসামিদের জবানবন্দিতে রাশেদসহ কয়েকজনের নাম আসায় পুলিশ তাদের সম্পূরক চার্জশিটে অন্তর্ভুক্ত করে।

এ বিষয়ে বিশ্ববিদ্যালয়ের এস্টেট অফিসের সুপারভাইজার আমানুল্লাহ আমান বলেন, কারও নাম বাদ দেওয়ার জন্য বিশ্ববিদ্যালয়ের পক্ষ থেকে কোনো পিটিশন দেওয়া হয়নি। বিশ্ববিদ্যালয় মনে করেছে, প্রথম পর্যায়ের তদন্ত সুষ্ঠু হয়নি, অধিকতর তদন্ত প্রয়োজন। পরে বিশ্ববিদ্যালয় নারাজি দিলে আদালত পুলিশকে সম্পূরক চার্জশিট দাখিলের নির্দেশ দেয়। আর আসামিদের জবানবন্দিতে যাদের নাম এসেছে, সম্পূরক চার্জশিটে তাদের নামও এসেছে। টিএসসির একাধিক কর্মচারী জানান, গত সাত-আট মাসের বেশি রাশেদ অনিয়মিতভাবে টিএসসি গেস্ট হাউজে অবস্থান করছেন। শুরুতে তিনি ১০৩ নম্বর কক্ষে থাকতেন। পরে এপ্রিলে ওই কক্ষের এসি নষ্ট হয়ে গেলে অন্য কক্ষে স্থানান্তর হন। রাশেদ দীর্ঘ সময় গেস্ট হাউজে বিনা পয়সায় থাকেন। তার বাবা-মাকেও নিয়ে আসতেন, কয়েকদিন থেকে আবার চলে যেতেন। হলে আবাসিক সুবিধা না পেলেও পরিচালকের আশ্রয়ে গেস্ট হাউজে থাকেন। সর্বশেষ গত বৃহস্পতিবারও তাকে গেস্ট হাউজসংলগ্ন দেখা গেছে। পরিচালকের পাশের গ্রামের হওয়ায় রাশেদ বিশেষ সুবিধা ভোগ করতেন বলেও তারা জানান।

এ বিষয়ে রাশেদ কামাল অনিক বলেন, দেড় মাস আগে আম্মু অসুস্থ হলে ডাক্তার দেখাতে নিয়ে এসেছিলাম। তখন গেস্ট হাউজে প্রথম থেকেছি। এরপর অল্প কয়েকদিন ছিলাম। ভাড়াও পরিশোধ করেছি। সর্বশেষ ৯ মে গেস্ট হাউজে আম্মুকে ডাক্তার দেখানোর জন্য ছিলাম। এখন আম্মুসহ বাসা নিয়ে থাকছি।

মামলায় নাম থাকা নিয়ে রাশেদ বলেন, আমিসহ আটজনের নামে কোনো অপরাধ-সংশ্লিষ্টতা না পাওয়ায় বিশ্ববিদ্যালয় থেকে আমাদের নাম বাদ দিতে পিটিশন দায়ের করা হয়েছিল। তবে হাইকোর্টের রুল অনুযায়ী অভিযুক্তদের তালিকা থেকে নাম বাদ দেওয়ার এখতিয়ার তদন্ত কর্মকর্তার না থাকায় আমাদের নাম রয়ে গেছে।

জানতে চাইলে টিএসসি পরিচালক ফারজানা বাসার বলেন, রাশেদ একদিন এসে অনেক কান্নাকাটি করে তার বাবা-মায়ের অসুস্থতার কথা জানালে আমি মানবিক কারণে থাকতে দিয়েছিলাম। যেহেতু আর্থিক অবস্থা ভালো না অল্প কিছু টাকা দিয়েছে। তবে তাকে বলছিলাম, গুরুত্বপূর্ণ অতিথি এলে ছেড়ে দিতে হবে। সে মেনে নিয়ে মাঝেমধ্যে আসত তার বাবা-মাকে ডাক্তার দেখাতে, কয়েকদিন থেকে চলে যেত।

এ বিষয়ে ঢাবি উপাচার্য অধ্যাপক ড. এ বি এম ওবায়দুল ইসলাম বলেন, যেহেতু সে হত্যা মামলার আসামি, সেহেতু তার বিশ্ববিদ্যালয়ের গেস্ট হাউজে থাকার সুযোগ নেই। আমি এখনই রেজিস্ট্রারকে জানিয়ে দিচ্ছি। পরিচালকের সঙ্গেও কথা বলছি। এ বিষয়ে পদক্ষেপ নিতে বলেছি।