জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়ে (জবি) জালালাবাদ ছাত্র কল্যাণ সংস্থা (বৃহত্তর সিলেট) আয়োজিত ‘নবীনবরণ-২০২৬, শিক্ষায় উৎকর্ষ সম্মাননা ও সংবর্ধনা’ অনুষ্ঠান অনুষ্ঠিত হয়েছে।
বৃহস্পতিবার (২৩ জুলাই) বিশ্ববিদ্যালয়ের কেন্দ্রীয় মিলনায়তনে আয়োজিত এ অনুষ্ঠানে নবীন শিক্ষার্থীদের বরণ, কৃতী শিক্ষার্থীদের সম্মাননা এবং বিদায়ী শিক্ষার্থীদের সংবর্ধনা দেওয়া হয়। অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য অধ্যাপক ড. মো. রইছ উদ্দীন।
অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য অধ্যাপক ড. মোঃ রইছ উদ্দীন বলেন,” আজকের বৃহত্তর জালালাবাদ ছাত্র কল্যাণ সংস্থা এ রকমের একটি সুন্দর আয়োজন করার জন্য তাদেরকে ধন্যবাদ জানাচ্ছি। বিগত ১৫-১৬ বছর যাবত আমরা শহীদ প্রেসিডেন্ট জিয়াউর রহমানের নাম অনেকেই নিতে না পারলেও আমরা কিন্ত ঠিকই নাম নিতাম। সিলেটিদের আলাদা একটা স্বকীয়তা রয়েছে। সিলেটে অনেক বিশিষ্টজন জন্মগ্রহণ করেছেন এবং সিলেট বিশ্বের দরবারে মাথা উচু করে দাড়িয়েছে। সিলেটি সংস্কৃতি বাংলার একটি অন্যতম দিক তাই আমাদের সকলকে সিলেটের স্বাতন্ত্রবোধ সম্পর্কে জানতে হবে।”
তিনি শিক্ষার্থীদের উদ্দেশ্যে বলেন, “শিক্ষার হারে অন্য জেলার তুলনায় আমরা অনেক পিছিয়ে। তাই তোমাদেরকে ভালোভাবে পডাশুনা করতে হবে, অনেক দূর এগিয়ে যেতে হবে। তোমাদেরকে যে কোন প্রতিযোগিতামূলক পরীক্ষায় ভাল ফলাফল অর্জন করতে হবে।”
সম্প্রতি ডিনস অ্যাওয়ার্ড প্রাপ্ত সিলেটি চারজন শিক্ষার্থীসহ যে কোন সিলেটিদের উদ্দেশ্যে বলেন,” তোমরা যে কোন প্রতিযোগিতামুলক পরীক্ষায় আমাদের কোন সহযোগিতার প্রয়োজন হলে জানাবে, আমরা সাধ্য অনুযায়ী চেষ্টা করবো, তবে সেটা নিয়মানুযায়ী। তোমাদেরকে ভাল পডাশুনার পাশাপাশি সিলেটবাসীর কোন দুর্নাম যেন না হয় সেদিকেও খেয়াল রাখতে হবে।”
বিশেষ অতিথির বক্তব্যে বিশ্ববিদ্যালয়ের ট্রেজারার অধ্যাপক ড. সাবিনা শরমীন বলেন, “বিশ্ববিদ্যালয়ের কাউকে খুঁজে পেতে দরকার এরকম ছাত্র কল্যাণ সংগঠনের। যার মাধ্যমে যে কোন শিক্ষার্থী তাদের যে কোন সমস্যা দ্রুত সমাধান করতে পারে। নিজেদের কর্মজীবন সততা দিয়ে তোমরা এগিয়ে যাবে, তাহলেই তোমরা অভিষ্ট লক্ষে পৌছাতে সক্ষম হবে।”
বিশেষ অতিথির বক্তব্যে সাবেক প্রধানমন্ত্রী বেগম খালেদা জিয়া’র এপিএস (ব্যক্তিগত সহকারী) ও বাংলাদেশ মেরিটাইম ইউনিভার্সিটির সিন্ডিকেট সদস্য ড. জিয়াউল ইসলাম মুন্না বলেন,”আমি সত্যিকারে আনন্দিত এ রকম একটি সুন্দর আয়োজনে অংশগ্রহণ করতে পেরে। সিলেট বিভাগের শিক্ষার্থীদের যে কোন উন্নয়নে কাজ করতে আমি সর্বদা প্রস্তুত। ইতিপূর্বে জালালাবাদ শিক্ষা ট্রাস্ট থেকে আমরা শিক্ষার্থীদের ৩৫ লক্ষ টাকা শিক্ষাবৃত্তি দিয়েছি।”
শিক্ষার্থীদের উদ্দেশ্যে তিনি আরো বলেন, “তোমাদেরকে মনোযোগ সহকারে পডাশুনা করতে হবে। অন্য জেলার তুলনায় শিক্ষার হারে আমরা অনেক পিছিয়ে, তাই সিলেট বিভাগে শিক্ষার হার বাড়াতে হবে । সে ক্ষেত্রে তোমাদেরকে ভালভাবে পডাশুনা হতে। তোমাদেরকে অতীতকে ভূলে গেলে চলবে না, তোমরা তোমাদের মা বাবার প্রতি খেয়াল রাখবে। নিজ পিতামাতার প্রতি উহ শব্দটি কখন করবে না। তোমরা যা করবে তার প্রতিদান তোমরা অবশ্যই পাবে। তোমাদের যে কোন প্রয়োজনে আমরা তোমাদের পাশে আছি।”
এসময় বিশেষ অতিথি হিসেবে এম এম মাহবুবুর রহমান, সিনিয়র ভাইস প্রেসিডেন্ট, প্রাইম ব্যাংক পিএলসি, ড. হোসনে আরা বেগম, অধ্যাপক, বাংলা বিভাগ ও উপদেষ্টা, জালালাবাদ ছাত্র কল্যাণ সংস্থা, জবি, নাসির উদ্দিন আহমেদ, সহযোগী অধ্যাপক, ইংরেজি বিভাগ ও উপদেষ্টা, জালালাবাদ ছাত্র কল্যাণ সংস্থা, জবি, ড. তপন কুমার পালিত, সহযোগী অধ্যাপক, ইতিহাস বিভাগ ও উপদেষ্টা, জালালাবাদ ছাত্র কল্যাণ সংস্থা, জবি, রাজেশ কুমার দেব, সহকারী অধ্যাপক, অর্থনীতি বিভাগ ও উপদেষ্টা, জালালাবাদ ছাত্র কল্যাণ সংস্থা, জবি, শপ্নিলা চৌধুরী, সহকারী অধ্যাপক, জেনেটিক ইঞ্জিনিয়ারিং ও বায়োটেকনোলজি বিভাগ ও উপদেষ্টা, জালালাবাদ ছাত্র কল্যাণ সংস্থা ও জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয় ছাত্রদলের আহবায়ক মেহেদী হাসান হিমেলসহ প্রমুখ বক্তব্যে প্রদান করেন।
উক্ত অনুষ্ঠানে সভাপতিত্ব করেন মাজহারুল ইসলাম তানভীর, সভাপতি, জালালাবাদ ছাত্র কল্যাণ সংস্থা, জবি ও সঞ্চালনা করেন রেজাউল ইসলাম তামিম, সাধারণ সম্পাদক, জালালাবাদ ছাত্র কল্যাণ সংস্থা, জবি। এসময় নবীনদের বরণ এবং বিদায়ীদের সম্মাননা এবং সংবর্ধনা প্রদান করা হয়।
এসময় জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রক্টর অধ্যাপক ড. মোহাম্মদ নাসির উদ্দিন, বিভিন্ন বিভাগের শিক্ষক, কর্মকর্তা, কর্মচারী এবং জালালাবাদ ছাত্র কল্যাণ সংস্থা জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়ের পাঠদানরত শিক্ষার্থীবৃন্দ উপস্থিত ছিলেন।





