ঢাকা | রবিবার, ২৮ জুন ২০২৬,১৪ আষাঢ় ১৪৩৩

পদ্মার পাড়ে রুয়েট শিক্ষার্থীদের ওপর হামলা, থানায় লিখিত অভিযোগ

রাজশাহী প্রকৌশল ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের (রুয়েট) যন্ত্রকৌশল বিভাগের ২০২১-২২ শিক্ষাবর্ষের তিন শিক্ষার্থী পদ্মা নদীর তীরে গোসল করতে গিয়ে স্থানীয় কয়েকজনের হামলার শিকার হয়েছেন বলে অভিযোগ উঠেছে। এ ঘটনায় আহত তিন শিক্ষার্থী চিকিৎসা গ্রহণের পাশাপাশি রাজশাহীর বোয়ালিয়া থানায় লিখিত অভিযোগ দায়ের করেছেন।

অভিযোগ সূত্রে জানা যায়, শনিবার (২৭ জুন) দুপুর প্রায় ২টার দিকে যন্ত্রকৌশল বিভাগের শিক্ষার্থী মীর সজিব, আশিকুর রহমান ও আজমাইন পদ্মা নদীর তালাইমারী এলাকায় গোসল করতে যান। প্রায় ২টা ৪৫ মিনিটের দিকে নদীর তীরে এক কিশোরকে মাছ ধরার জাল টানতে দেখে তাকে সহায়তা করার উদ্দেশ্যে এগিয়ে যান তারা। এ সময় কয়েকজন ব্যক্তি তাদের কাপড় রাখা ব্যাগ তল্লাশি করতে শুরু করেন এবং তাদের ডাক দেন। বিষয়টি জানতে গেলে কোনো ধরনের বাকবিতণ্ডা ছাড়াই মীর সজিবকে মারধর শুরু করা হয় বলে অভিযোগ করেন ভুক্তভোগীরা।

ভুক্তভোগীদের ভাষ্য অনুযায়ী, সজিবকে রক্ষা করতে এগিয়ে গেলে আশিকুর রহমান ও আজমাইনকেও মারধর করা হয়। একপর্যায়ে আরও ৮ থেকে ১০ জন ঘটনাস্থলে এসে হামলায় অংশ নেয়। এতে তিনজনই গুরুতর আহত হন। সজিব ও আশিকুর কোনোভাবে সেখান থেকে বের হতে সক্ষম হলেও আজমাইন কিছু সময় ঘটনাস্থলেই আটকে ছিলেন বলে অভিযোগে উল্লেখ করা হয়েছে।

পরে আশিকুর রহমান মতিহার থানায় গেলে বিষয়টি বোয়ালিয়া থানার অধীনস্থ হওয়ায় সেখানে যোগাযোগের পরামর্শ দেওয়া হয়। একই সময়ে মীর সজিব রুয়েটে ফিরে ছাত্রকল্যাণ দপ্তরের পরিচালক অধ্যাপক ড. মো. রবিউল ইসলাম সরকারকে বিষয়টি অবহিত করেন। পরে তাঁর উদ্যোগে পুলিশের সঙ্গে যোগাযোগ করা হলে পুলিশ সদস্যরা ঘটনাস্থলে যান।

পরবর্তীতে আহত শিক্ষার্থীরা রাজশাহী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের জরুরি বিভাগে চিকিৎসা গ্রহণ করে চিকিৎসা-সংক্রান্ত প্রতিবেদন সংগ্রহ করেন এবং বোয়ালিয়া থানায় লিখিত অভিযোগ দায়ের করেন। অভিযোগে ‘লাম’, ‘জিম’ নামের দুই ব্যক্তিসহ অজ্ঞাত আরও ১২ জনকে অভিযুক্ত করা হয়েছে।

অভিযোগের পর পুলিশ ঘটনাস্থল পরিদর্শন করে এবং অভিযুক্তদের একজনের বাসায় অভিযান চালায়। তবে তাকে সেখানে পাওয়া যায়নি। শিক্ষার্থীদের দাবি, অভিযুক্তদের একজনের বিরুদ্ধে পূর্বেও অস্ত্র-সংক্রান্ত মামলার তথ্য পুলিশ জানতে পেরেছে। বিষয়টি তদন্ত করে প্রয়োজনীয় আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণের আশ্বাস দিয়েছে পুলিশ।

হামলায় আহতদের মধ্যে আশিকুর রহমান এক কানে শ্রবণ সমস্যার কথা জানিয়েছেন। মীর সজিবের চোখের নিচে আঘাত লেগেছে এবং আজমাইনের হাতে ভাঙনের (ফ্র্যাকচার) আশঙ্কা রয়েছে বলে চিকিৎসকরা জানিয়েছেন। এছাড়া তিনজনের শরীরের বিভিন্ন স্থানে আঘাতের চিহ্ন রয়েছে। আহত সজিব ও আজমাইনকে ঘটনার দিন রাজশাহী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের জরুরি বিভাগে চিকিৎসা দেওয়া হয়।

এ বিষয়ে বোয়ালিয়া মডেল থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) মাসুমা মুস্তারী বলেন, “জ্বী, আমি এই বিষয়ে শুনেছি। অভিযোগ পাওয়ার পরপরই আমার কর্মকর্তাসহ একটি পুলিশ টিম ঘটনাস্থলে পাঠানো হয়েছে। বিষয়টি তদন্ত করে প্রয়োজনীয় আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।”

এ ঘটনায় শিক্ষার্থীদের মধ্যে উদ্বেগ সৃষ্টি হয়েছে। তারা হামলার সঙ্গে জড়িতদের দ্রুত শনাক্ত করে আইনের আওতায় আনা এবং বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে সংশ্লিষ্ট প্রশাসনের কার্যকর পদক্ষেপ কামনা করেছেন।