কক্সবাজারের উখিয়ার ইনানীতে টুপটুপ রেস্তোরাঁ ও রিসোর্টে ভয়াবহ অগ্নিকাণ্ডে অন্তত ১০ জনের মৃত্যু হয়েছে। এ ঘটনায় আহত হয়েছেন আরও ৬ জন। তাদের হাসপাতালে চিকিৎসা দেওয়া হচ্ছে। নিহতদের মধ্যে একই পরিবারের আটজন রয়েছেন বলে জানা গেছে। সর্বশেষ রিসোর্টের টয়লেট থেকে আরও চারজনের মরদেহ উদ্ধার করেন উদ্ধারকর্মীরা।
শনিবার সকাল ৭টার দিকে মেরিন ড্রাইভ-সংলগ্ন পাটুয়ারটেক সমুদ্রসৈকত এলাকায় অবস্থিত রিসোর্টটিতে আগুন লাগে। মুহূর্তের মধ্যে আগুন পুরো স্থাপনায় ছড়িয়ে পড়ে। কাঠের তৈরি তিনতলা রিসোর্টটি দ্রুত আগুনে পুড়ে যায়। খবর পেয়ে ফায়ার সার্ভিসের তিনটি ইউনিট ঘটনাস্থলে পৌঁছে আগুন নিয়ন্ত্রণ ও উদ্ধারকাজ শুরু করে। দীর্ঘ চেষ্টার পর বেলা ১১টার দিকে আগুন পুরোপুরি নিয়ন্ত্রণে আসে।
নিহতদের মধ্যে ৬ জনের পরিচয় জানা গেছে। তারা হলেন—ঢাকার বনশ্রীর ইসরাত জাহান মালিহা (৩০), মিলিতা মেহেজাবিন আলভী (২৩), খিলগাঁওয়ের লায়লা জাহান নাবিলা (২৭), নাফিসতা মীম (২৭), চুয়াডাঙ্গার ফারিহা কবির (৩৩) এবং পাঁচ বছর বয়সী ফায়িজান আহমেদ। এ ছাড়া নিহত আরও চারজনের পরিচয় তাৎক্ষণিকভাবে জানা যায়নি।
আহত ব্যক্তিরা হলেন—চিকিৎসক শিহাব উদ্দীন (৩১), তার স্ত্রী নাফিজা নেওয়াজ খান (২৯), মান্নান (৩৪), মেহেরুন্নেসা (৩০), মাসুদ (৩০) ও সামিদা (৩২)। আহত অপর ব্যক্তির পরিচয় তাৎক্ষণিকভাবে জানা যায়নি।
রিসোর্টের ইনচার্জ মো. সুমন বলেন, বৈদ্যুতিক শর্টসার্কিট থেকে আগুনের সূত্রপাত হয়েছে বলে তারা ধারণা করছেন। আগুন লাগার পরপরই তা নেভানোর চেষ্টা করা হয়। তবে এর মধ্যেই শীতাতপনিয়ন্ত্রণ যন্ত্র (এসি) ও গ্যাস সিলিন্ডার বিস্ফোরিত হলে আগুন দ্রুত পুরো রিসোর্টে ছড়িয়ে পড়ে।
স্থানীয়দের ভাষ্য, শনিবার সকাল ৭টার দিকে রিসোর্ট থেকে বিকট শব্দ শোনা যায়। এর কিছুক্ষণের মধ্যেই আগুন পুরো স্থাপনায় ছড়িয়ে পড়ে। খবর পেয়ে ফায়ার সার্ভিস, পুলিশ, বিজিবি ও এসআরবির সদস্যরা ঘটনাস্থলে পৌঁছে আগুন নেভানো এবং উদ্ধারকাজে অংশ নেন। আগুন নিয়ন্ত্রণে আসার পর রিসোর্টের বিভিন্ন স্থানে তল্লাশি চালিয়ে হতাহতদের সন্ধান পাওয়া যায়।
পুলিশ ও স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, কাঠের তৈরি রিসোর্টটিতে মোট নয়টি কক্ষে ১৭ জন পর্যটক ছিলেন, যাদের মধ্যে একই পরিবারের সদস্যই ছিলেন ৮ জন।
এদিকে অগ্নিকাণ্ডের কারণ অনুসন্ধানে কক্সবাজারের অতিরিক্ত জেলা ম্যাজিস্ট্রেটের নেতৃত্বে পাঁচ সদস্যের তদন্ত কমিটি গঠন করা হয়েছে। কমিটি আগুনের সূত্রপাত, প্রাণহানির কারণ এবং রিসোর্টের নিরাপত্তাব্যবস্থা খতিয়ে দেখবে। তদন্ত শেষে অগ্নিকাণ্ডের প্রকৃত কারণ ও সম্ভাব্য দায় নির্ধারণ করা হবে।
ফায়ার সার্ভিসের মিডিয়া কর্মকর্তা তালহা বিন জসীম মৃত্যুর তথ্য নিশ্চিত করে জানান, প্রথম দফায় ছয়জনের মরদেহ উদ্ধার করা হয়। পরে অনুসন্ধান চালিয়ে রিসোর্টের টয়লেট থেকে আরও চারজনের মরদেহ উদ্ধার করা হয়েছে। রিসোর্টে উদ্ধার ও তল্লাশির কাজ এখনও চলমান রয়েছে।





