ঢাকা | রবিবার, ২০ সেপ্টেম্বর ২০২৬,৫ আশ্বিন ১৪৩৩

ছিনতাই-নারী হেনস্থা ও ছাত্রলীগ সংশ্লিষ্টতার অভিযোগে চবির দুই শিক্ষার্থীকে পুলিশে সোপর্দ

চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ে (চবি) ভয়ভীতি দেখিয়ে টাকা আদায়, মারধর, নারী হেনস্থা ও কার্যক্রম নিষিদ্ধ সংগঠন ছাত্রলীগের সঙ্গে সংশ্লিষ্টতার অভিযোগে দুই শিক্ষার্থীকে আটক করেছে বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রক্টরিয়াল বডি। পরে তাদের পুলিশের কাছে সোপর্দ করা হয়েছে।

শনিবার (১৯ সেপ্টেম্বর) সন্ধ্যায় তাদের আটক করা হয়। আটক দুই শিক্ষার্থীর বিরুদ্ধে পৃথক ছয়টি অভিযোগপত্র বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রক্টরের কাছে জমা দেন ভুক্তভোগীরা। পরে রাত পৌনে ৯টার দিকে তাদের হাটহাজারী থানা পুলিশের কাছে সোপর্দ করা হয়।

আটক দুই শিক্ষার্থী হলেন বিশ্ববিদ্যালয়ের ইসলামের ইতিহাস ও সংস্কৃতি বিভাগের ২০২৩-২৪ শিক্ষাবর্ষের মো. শিমুল ফকির এবং একই শিক্ষাবর্ষের ফার্সি ভাষা ও সাহিত্য বিভাগের শিক্ষার্থী ফাহিম আহমেদ অপি।

বিশ্ববিদ্যালয় সূত্রে জানা যায়, অভিযুক্ত এই দুই শিক্ষার্থীর বিরুদ্ধে ক্যাম্পাসে আসা বিভিন্ন দর্শনার্থীদের ভয়ভীতি দেখিয়ে টাকা নেয়া, মারধর, ছিনতাই, নারী হেনস্থা এবং নিষিদ্ধ ছাত্রলীগের সঙ্গে সংশ্লিষ্টতার অভিযোগ উঠেছে। ক্যাম্পাসে দীর্ঘদিন ধরে এসব অপরাধমূলক কাজ করে বেড়ালেও এতদিন ধরাছোঁয়ার বাইরে ছিলেন তারা।

জানা যায়, গতকাল শনিবার (১৯ সেপ্টেম্বর) দুপুরে বিশ্ববিদ্যালয়ের ঝর্ণা এলাকায় ঘুরতে আসেন হাটহাজারী কৃষি প্রশিক্ষণ ইনস্টিটিউটের আসহাব উদ্দিন ও তার এক বন্ধু। এসময় অভিযুক্ত শিমুল ও তার দুই সহযোগী তাদের পরিচয় জিজ্ঞাবাদ করে ভয়ভীতি দেখিয়ে টাকা আদায় করে। আসহাব উদ্দিন বলেন, “তারা আমাদের ভয়ভীতি দেখান। পরে আমার কাছ থেকে জোরপূর্বক নগদ ১৫০ টাকা এবং বিকাশের মাধ্যমে আরও ১ হাজার ২০ টাকা নিয়েছে।”

পরে এ ঘটনায় ভুক্তভোগীর একটি ভিডিও বার্তা ফেসবুকে ছড়িয়ে পড়লে শিক্ষার্থীরা অভিযুক্তদের বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রক্টর অফিসে সোপর্দ করেন। সেখানে জিজ্ঞাসাবাদে এ ঘটনার সত্যতা স্বীকার করেছেন অভিযুক্তরা।

এসময় প্রক্টর অফিসে অভিযুক্তদের বিরুদ্ধে আরও ৫টি অভিযোগপত্র দেন ভুক্তভোগী ও শিক্ষার্থীরা।

এক অভিযোগপত্রে চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয় ল্যাবরেটরি কলেজের শিক্ষার্থী মোশারফ হোসেন অভিযোগ করেন, গত ৭ সেপ্টেম্বর বিশ্ববিদ্যালয়ের শহীদ ফরহাদ হোসেন হলের পূর্ব পাশের ব্রিজ এলাকায় শিমুল ফকির ও ফাহিম আহমেদ অপি তাকে ডেকে মারধর করেন। এসময় তার চোখে আঘাত করে রক্তাক্ত করা হয় এবং ছবি তুলে ব্ল্যাকমেইলের হুমকি দেয়া হয়। একপর্যায়ে তার পকেট থেকে মোবাইল ফোন নিয়ে যাওয়া হয় বলেও অভিযোগ করেন তিনি।

এদিকে শিমুল ও অপির বিরুদ্ধে নিষিদ্ধ ঘোষিত ছাত্রলীগের সঙ্গে নিয়মিত যোগাযোগ ও নানা কার্যক্রমে অংশ নেয়ার অভিযোগ করেছেন তাদের বিভাগের শিক্ষার্থীরা। এ নিয়ে প্রক্টর অফিসে লিখিত অভিযোগ দিয়েছেন তারা।

এ বিষয়ে জানতে চাইলে শিমুল বলেন, আমি বিভিন্ন সময় ১৫ আগস্ট, মুজিবুর রহমানসহ আওয়ামী ইস্যুতে ফেসবুকে পোস্ট করি। এটি চবি ছাত্রলীগের সাবেক সহ-সভাপতি আবরার শাহরিয়ারের নজরে এলে সে আমার সঙ্গে যোগাযোগ করে এবং বলে আমি ছাত্রলীগের সঙ্গে জড়িত কিনা। আমি বলেছি, ভালো লাগা থেকে এসব পোস্ট করেছি। তার সঙ্গে ৫ আগস্ট পরবর্তী সময়ে আমার সম্পর্ক হয়েছে।”

বিশ্ববিদ্যালয়ের কেন্দ্রীয় ছাত্রসংসদের (চাকসু) আইন ও মানবাধিকার সম্পাদক রাব্বি তাওহিদ বলেন, “তাদের অপরাধগুলোর বেশিরভাগই ফৌজদারি অপরাধ। কিছুদিন আগে তারা চবি কলেজের এক শিক্ষার্থীকে ব্যাপক মারধর করে। তাদের ফোন চেক করে তাদের নিষিদ্ধ সংগঠন ছাত্রলীগের সঙ্গে সংশ্লিষ্টতার প্রমাণও মেলে।”

বিশ্ববিদ্যালয়ের সহকারী প্রক্টর খায়রুল ইসলাম (সুজন) বলেন, শনিবার বিকালে এক পর্যটক বিশ্ববিদ্যালয়ের ঝর্ণা এলাকায় ঘুরতে গেলে তার ছবি ও ভিডিও ধারণ করে ভয়ভীতি দেখানো হয়। পরে তার কাছ থেকে নগদ ১৫০ টাকা এবং বিকাশের মাধ্যমে ১ হাজার ২০ টাকা নেয়া হয়েছে—এমন অভিযোগ পাওয়া যায়।

তিনি বলেন, ‘অভিযোগ পাওয়ার পর তাদের জিজ্ঞাসাবাদ করা হয়। এতে অভিযোগের সত্যতা পাওয়া যায়। পরে ভুক্তভোগীরা থানায় অভিযোগপত্র দাখিল করলে দুই শিক্ষার্থীকে পুলিশের কাছে সোপর্দ করা হয়েছে।’

হাটহাজারী থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) মো. জাহিদুর রহমান বলেন, চবির দুই শিক্ষার্থীকে থানায় সোপর্দ করা হয়েছে। তারা এখন থানায় আছে। তবে কোনো মামলা বা অভিযোগপত্র আমরা পাইনি। পেলে সে অনুযায়ী ব্যবস্থা নেয়া হবে।