ঢাকা | রবিবার, ১৩ সেপ্টেম্বর ২০২৬,২৯ ভাদ্র ১৪৩৩

ঢাকায় ২৫২ প্রাথমিক বিদ্যালয়ে নেই মাঠ, প্রযুক্তিতে বন্দি হচ্ছে শৈশব

দেশে সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের সংখ্যা ৬৫ হাজারের বেশি। এরমধ্যে প্রায় ১০ হাজার স্কুলে খেলার মাঠ নেই। রাজধানী ঢাকার চিত্র আরও উদ্বেগজনক। মাঠের অভাবে শিশুরা মুঠোফোনসহ অন্যান্য ডিভাইসে আসক্ত হয়ে পড়ছে। এই বিষয়ে শিক্ষাবিদরা জানান, সৃজনশীল কাজে যুক্ত করা যাচ্ছে না শিশুদের। এর ফলে মানসিক বিকাশ ব্যাহত হচ্ছে। আর শিক্ষা প্রতিমন্ত্রী বলেন, প্লে গ্রাউন্ড ছাড়া আর কোনো স্কুলের অনুমোদন দেবে না সরকার।

কংক্রিটের আবরণে তৈরি এক শহরের নাম ঢাকা। এ শহরের অলিগলিতে রয়েছে অসংখ্য শিক্ষা প্রতিষ্ঠান। যেখানে আছে সাজানো-গোছানো ক্লাসরুম। তবে উদ্বেগের বিষয় নগরের ৩৪২টি সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের ২৫২ টিরই নিজস্ব মাঠ নেই।

ইংরেজি মাধ্যমের শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের এ সংকট আরও প্রকট। সেখানেও শিক্ষার্থীদের খেলাধুলা করার মতো ফাঁকা জায়গা নেই। একটি ভবনের একাধিক ফ্ল্যাটে কয়েকটি ক্লাসরুম নিয়ে চলছে স্কুলের কার্যক্রম। যে কারণে স্কুল ছুটির পর শিশুদের সঙ্গী হয়েছে প্রযুক্তি, শৈশব বন্দী হয়েছে মুঠোফোনে।

এরইমধ্যে ২০২৭ সাল থেকে প্রাথমিক বিদ্যালয়ের চতুর্থ শ্রেণি থেকে খেলাধুলাকে জাতীয় পাঠ্যক্রমে অন্তর্ভুক্ত করছে সরকার। এমন পরিস্থিতিতে শিক্ষক অভিভাবক শিক্ষার্থীদের মধ্যে এই নিয়ে তৈরি হয়েছে মিশ্র প্রতিক্রিয়া।

অভিভাবকরা জানান, শিক্ষার্থীরা বন্দি হয়ে থাকে। ফ্ল্যাট থেকে বেরোতে পারে না। মাঠ থাকলে ভালো হতো বেশি।

শিক্ষকরা জানান, আমাদের আসলে ক্যাম্পাস আমরা খোজা হচ্ছে, মাঠসহ বা একটু স্পেসসহ।

কেন্দ্রীয় খেলাঘর আসরের সাধারণ সম্পাদক জানান, শিশুদের ঘরবন্দী জীবন ঝুঁকি তৈরি করছে,সামগ্রিক পরিকল্পনার সাথে প্রশিক্ষক নিয়োগ জরুরি, তা না হলে উদ্যোগ সফল হবে না।

কেন্দ্রীয় খেলাঘর আসরের সাধারণ সম্পাদক রেজাউল কবির বলেন, স্কুল ভবন তৈরি হবে, ভবনের সাথে মাঠ থাকতে হবে। ওই মাঠের জন্য স্কুলের শিক্ষক থাকতে হবে। শিক্ষাটা সরকার যতক্ষণ পর্যন্ত তার নিজ দায়িত্বে নিতে পারবে না, ততক্ষণ পর্যন্ত এই সংকটগুলি ব্যাপক থেকে ব্যাপক আকার ধারণ করবে।

এই বিষয়ে শিক্ষাবিদরা জানান, গৃহীত পদক্ষেপের কারণে শিশুরা বিদ্যালয় মুখী হবে, যা পুঁথিগত বিদ্যার বাইরে শিখন প্রক্রিয়ায় শিক্ষার্থীদের জন্য নানা অর্জন বয়ে নিয়ে আসবে।

ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষা ও গবেষণা ইনস্টিটিউটের অধ্যাপক শাহ শামীম আহমেদ বলেন, এই খেলাধুলা বা আকর্ষণ থেকে শিশুরা হয়তো বিদ্যালয়মুখী হবে। তারা তাদের যে শিখন যোগ্যতা অর্জন করার লক্ষ্য নিয়ে এখানে এসেছে अथवा আমরা যে শিক্ষা ব্যবস্থা পরিচালনা করছি, তার যে টার্গেট সেটা হয়তো অর্জন করা সম্ভব হবে।

অপরদিকে প্রাথমিক ও গণশিক্ষা প্রতিমন্ত্রী জানান, যুব ও ক্রীড়া মন্ত্রণালয়ের অবকাঠামোগুলোকে প্রাথমিকের সাথে ভাগাভাগি করে নিতে সরকারের পক্ষ থেকে নির্দেশনা দেয়া হয়েছে।

প্রাথমিক ও গণশিক্ষা প্রতিমন্ত্রী ববি হাজ্জাজ বলেন, ক্লাসরুমে প্লে থাকতে হবে এবং প্লে-গ্রাউন্ড ছাড়া স্কুল আমরা করব না। প্রত্যেকটি উপজেলা এবং ইউনিয়ন লেভেলে যুব এবং ক্রীড়া মন্ত্রণালয়ের যে অবকাঠামো আছে—মানে মাঠ, ফিল্ড এবং যে রিসোর্সেস আছে, সেগুলো তারা শেয়ার করবে আমাদের প্রাথমিকের সাথে।

জাতীয় পাঠ্যক্রমে খেলাধুলাকে বাধ্যতামূলক করার উদ্যোগ বাস্তবায়িত হলে শিক্ষার্থীদের শারীরিক সক্ষমতা,মানসিক বিকাশ, দলগত কাজের দক্ষতা বাড়বে বলেও জানান তিনি।

খবর এখন টিভি