ঢাকা | রবিবার, ২৩ আগস্ট ২০২৬,৮ ভাদ্র ১৪৩৩

ঢাবি ছাত্রদলের কমিটির আলোচনায় যারা

ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় (ঢাবি) ছাত্রদলের নতুন কমিটি গঠন কেন্দ্র করে সংগঠনটির অভ্যন্তরীণ রাজনীতিতে ব্যাপক কৌতুহল সৃষ্টি হয়েছে। সম্ভাব্য নেতৃত্বের দৌড়ে কারা এগিয়ে আসছেন, তা নিয়ে বিশ্ববিদ্যালয়ের রাজনৈতিক অঙ্গনে চলছে নানা সমীকরণ ও বিশ্লেষণ। সম্প্রতি ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় কেন্দ্রীয় ছাত্র সংসদ (ডাকসু) নির্বাচনে অংশ নেওয়া একাধিক ছাত্রনেতার নাম নতুন কমিটির গুরুত্বপূর্ণ পদের জন্য জোরেশোরে আলোচনায় উঠে এসেছে।

সংগঠনটির দলীয় সূত্রে জানা গেছে, বিএনপির শীর্ষ নেতৃত্ব ও দলীয় নীতি-নির্ধারকেরা সরাসরি এই নতুন কমিটি গঠন ও নেতৃত্ব নির্বাচন প্রক্রিয়াটি পর্যবেক্ষণ করছেন। ছাত্রদলের একটি সূত্র উল্লেখ করেছে যে, ২২ আগস্টের পর যেকোনো দিনে কেন্দ্রীয় এবং ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় ছাত্রদলের নতুন কমিটি আনুষ্ঠানিকভাবে ঘোষণা হতে পারে।

জুলাই অভ্যুত্থান-পরবর্তী পরিবর্তিত রাজনৈতিক পরিস্থিতিতে সাধারণ শিক্ষার্থীদের আস্থাজনিত অবস্থান তৈরি করা ও ক্যাম্পাসে দক্ষ সাংগঠনিক কার্যক্রম পরিচালনাকে নেতৃত্ব নির্বাচনের প্রধান মাপকাঠি হিসেবে ধরা হচ্ছে। এই প্রেক্ষাপটে পূর্বে ডাকসু নির্বাচনে অংশ নিয়ে যারা শিক্ষার্থীদের সঙ্গে সরাসরি যোগাযোগ স্থাপন করেছিলেন, তারা পদ পাওয়ার লড়াইয়ে এগিয়ে রয়েছেন।

সম্ভাব্য পদের আলোচনায় সবার আগে উঠে এসেছে ডাকসুর সাবেক ভিপি প্রার্থী আবিদুল ইসলাম খানের নাম। ছাত্রদলের রাজনীতিতে সক্রিয় ভূমিকা ও গত নির্বাচনে ভিপি পদে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করার কারণে সংগঠনটিতে তার বিশেষ পরিচিতি রয়েছে। কেন্দ্রীয় অথবা ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় ছাত্রদলের শীর্ষ কোনো পদে তাকে দেখার সম্ভাবনা রয়েছে। একইভাবে সাবেক জিএস প্রার্থী তানভীর বারী হামিমের নামও গুরুত্বের সঙ্গে বিবেচিত হচ্ছে। ক্যাম্পাসে পরিচিতি ও কল্যাণমূলক কাজের অভিজ্ঞতা নিয়ে তিনি জানান, দল ও সাংগঠনিক অভিভাবক তারেক রহমান তাকে যেখানেই দায়িত্ব দেবেন, সেখানেই তিনি নিষ্ঠার সঙ্গে কাজ করতে রাজি।

এছাড়া সাবেক এজিএস প্রার্থী তানভীর আল হাদী মায়েদ এবং ডাকসু নির্বাচনে ছাত্রদলের প্যানেল থেকে সমাজসেবা সম্পাদক পদে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করে প্যানেলের মধ্যে সর্বোচ্চ ভোট পাওয়া ইমাম হাসান অনিক পদ পাওয়ার আলোচনায় বেশ ভালোভাবে রয়েছেন। শিক্ষার্থীদের কাছে গ্রহণযোগ্যতা থাকায় নতুন কমিটিতে অনিকের নাম গুরুত্ব পাচ্ছে। দীর্ঘদিনের ক্যাম্পাস রাজনীতির অভিজ্ঞতাসম্পন্ন আন্তর্জাতিক সম্পাদক পদপ্রার্থী মেহেদী হাসান এবং সাংস্কৃতিক সম্পাদক পদপ্রার্থী জুলফিকার হায়াত জেসানের নামও সম্ভাব্য তালিকায় দেখা যাচ্ছে। হল পর্যায়ের নেতাদের মধ্যে সলিমুল্লাহ মুসলিম (এসএম) হল ছাত্রদলের আহ্বায়ক তাওহীদুল ইসলাম তাইমুনও সম্ভাব্যদের তালিকায় আছেন, যিনি গত নির্বাচনে মাত্র ৫ ভোটের ব্যবধানে পরাজিত হয়ে আলোচনায় এসেছিলেন।

আলোচনায় থাকা নেতাদের বক্তব্য অনুযায়ী, তারা পদ-পদবির ব্যাপারে ব্যক্তিগতভাবে মুখ না খুললেও দলের সিদ্ধান্তের প্রতি আস্থা রাখছেন। সাধারণ নেতা-কর্মীদের প্রত্যাশা, যারা বিগত নির্বাচন ও আন্দোলনে নেতৃত্বের দক্ষতা এবং জনপ্রিয়তা প্রমাণ করেছেন, নতুন কমিটি গঠনের ক্ষেত্রে দল তাদেরকেই যথাযথ মূল্যায়ন করবে।