ঢাকা | রবিবার, ২ আগস্ট ২০২৬,১৮ শ্রাবণ ১৪৩৩

সব বন্দর ২৪ ঘণ্টা চালু রাখার নির্দেশ প্রধানমন্ত্রীর

ব্যবসা-বাণিজ্য সহজীকরণ এবং আমদানি-রপ্তানি কার্যক্রম আরো গতিশীল করতে দেশের সব বন্দর ২৪ ঘণ্টা চালু রাখার নির্দেশ দিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। শনিবার রাজধানীর তেজগাঁওয়ে প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ে দেশের শীর্ষ ব্যবসায়ী ও শিল্পোদ্যোক্তাদের সঙ্গে অনুষ্ঠিত এক উচ্চপর্যায়ের বৈঠকে তিনি এ নির্দেশনা দেন।

বৈঠক শেষে সাংবাদিকদের ব্রিফিংয়ে এ তথ্য জানান প্রধানমন্ত্রীর উপদেষ্টা ও প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ের মুখপাত্র মাহদী আমিন।

তিনি বলেন, বৈঠকে বেসরকারি খাতের পক্ষ থেকে প্রস্তাব দেওয়া হয়েছিল—চট্টগ্রাম বন্দর কিংবা ঢাকা বিমানবন্দরে আমদানি-রপ্তানিসংক্রান্ত বাণিজ্যিক কার্যক্রম ২৪ ঘণ্টা চালু করা যায় কি না।

এ প্রস্তাবের পরিপ্রেক্ষিতে প্রধানমন্ত্রী তাৎক্ষণিকভাবে নির্দেশনা দিয়েছেন—সরকারের সংশ্লিষ্ট সব দপ্তর সমন্বিতভাবে কাজ করে যেন বাংলাদেশের প্রতিটি বন্দর ২৪ ঘণ্টা সেবা দিতে পারে, তা নিশ্চিত করতে হবে। এর ফলে আমদানি-রপ্তানি কার্যক্রম আরও দ্রুত ও গতিশীল হবে।

তিনি বলেন, শীর্ষ ব্যবসায়ীদের সঙ্গে দীর্ঘ সময় ধরে অনুষ্ঠিত বৈঠকে বেসরকারি খাতের বিভিন্ন চ্যালেঞ্জ, বিদ্যমান সমস্যা, বিনিয়োগ পরিবেশ এবং ব্যবসা সম্প্রসারণের বিভিন্ন বিষয় নিয়ে বিস্তারিত আলোচনা হয়।

মাহদী আমিন আরও বলেন, দেশে বিদ্যমান বিভিন্ন অর্থনৈতিক অঞ্চল, বাংলাদেশ অর্থনৈতিক অঞ্চল কর্তৃপক্ষ (বেজা) এবং বাংলাদেশ রপ্তানি প্রক্রিয়াকরণ এলাকা কর্তৃপক্ষের (বেপজা) আওতাধীন এলাকায় কীভাবে আরও বেশি বিনিয়োগ আকৃষ্ট করা যায় এবং যেখানে জটিলতা রয়েছে, সেগুলো কীভাবে সহজ করা যায়—এসব বিষয় নিয়েও প্রধানমন্ত্রী বেসরকারি খাতের প্রতিনিধিদের সঙ্গে আলোচনা করেন। এ সময় সংশ্লিষ্ট বিভিন্ন মন্ত্রী, প্রতিমন্ত্রী, উপদেষ্টা এবং বিভিন্ন দপ্তরের প্রধানরাও নিজেদের মতামত তুলে ধরেন।

বেসরকারি খাতের বিকাশে সরকারের নীতিগত সহায়তার বিষয়টি তুলে ধরে প্রধানমন্ত্রীর উপদেষ্টা বলেন, আগামী দিনগুলোতে প্রধানমন্ত্রীর নেতৃত্বে এমন একটি রাষ্ট্রব্যবস্থা গড়ে তোলা হবে, যেখানে বেসরকারি খাত সরকারের পূর্ণ নীতিগত সহায়তা পাবে। ইতোমধ্যে সরকার একটি ব্যবসাবান্ধব ও বিনিয়োগবান্ধব বাজেট উপস্থাপন করেছে এবং সেই নীতিমালাগুলো বাস্তবায়নের উদ্যোগ নেওয়া হবে।

তিনি আরও জানান, বৈঠকে উত্থাপিত বিভিন্ন নীতিগত প্রস্তাবের বিষয়ে তাৎক্ষণিক সিদ্ধান্ত দেওয়ায় ব্যবসায়ীরা সন্তোষ প্রকাশ করেছেন। মাহদী আমিন বলেন, এ ধরনের আলোচনার মূল উদ্দেশ্য হচ্ছে ব্যবসা আরও সহজ করা, বিনিয়োগের প্রবৃদ্ধি বাড়ানো এবং বাংলাদেশের জন্য বিপুল কর্মসংস্থানের সুযোগ সৃষ্টি করা।