বাংলাদেশের পররাষ্ট্রসচিব আসাদ আলম সিয়ামকে ভারতে নতুন হাইকমিশনার হিসেবে নিয়োগে অনুমোদন দিয়েছে নয়াদিল্লি। ভারতের অনুমোদন বা ‘অ্যাগ্রিমেন্ট’-এর একটি অনুলিপি মঙ্গলবার (২২ সেপ্টেম্বর) ঢাকায় হস্তান্তর করা হয়েছে বলে জানিয়েছে ভারতীয় সংবাদমাধ্যম হিন্দুস্তান টাইমস।
কূটনৈতিক সূত্রের বরাতে প্রতিবেদনে বলা হয়, আসাদ আলম সিয়ামকে পরবর্তী হাইকমিশনার হিসেবে নিয়োগের জন্য এক মাসেরও বেশি আগে ভারতের কাছে অনুমোদন চেয়েছিল বাংলাদেশ। মঙ্গলবার সেই প্রক্রিয়া সম্পন্ন হলো।
‘অ্যাগ্রিমেন্ট’ হলো কোনো দেশের রাষ্ট্রদূত বা হাইকমিশনার হিসেবে মনোনীত ব্যক্তিকে গ্রহণে স্বাগতিক দেশের আনুষ্ঠানিক সম্মতি। এই সম্মতি পাওয়ার পরই সংশ্লিষ্ট নিয়োগ আনুষ্ঠানিকভাবে কার্যকর করার প্রক্রিয়া এগোয়।
বাংলাদেশের বর্তমান হাইকমিশনার এম রিয়াজ হামিদুল্লাহ আগামী অক্টোবরের মাঝামাঝি জেনেভায় জাতিসংঘে বাংলাদেশের স্থায়ী প্রতিনিধি হিসেবে নতুন দায়িত্ব নিতে পারেন। তার স্থলাভিষিক্ত হিসেবেই আসাদ আলম সিয়ামকে নয়াদিল্লিতে পাঠানোর প্রস্তুতি চলছে।
আসাদ আলম সিয়াম একজন ক্যারিয়ার কূটনীতিক। তিনি ১৯৯৫ সালে বাংলাদেশ ফরেন সার্ভিসে যোগ দেন। ২০২৫ সালের ২০ জুন তিনি বাংলাদেশের পররাষ্ট্রসচিবের দায়িত্ব নেন। এর আগে তিনি যুক্তরাষ্ট্রে বাংলাদেশের রাষ্ট্রদূত হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন।
দীর্ঘ কূটনৈতিক জীবনে তিনি অস্ট্রিয়া ও ফিলিপাইনে বাংলাদেশের রাষ্ট্রদূত হিসেবে দায়িত্ব পালন করেছেন। অস্ট্রিয়ায় দায়িত্ব পালনের সময় হাঙ্গেরি ও স্লোভেনিয়ায়ও তার সমবর্তী দায়িত্ব ছিল। ফিলিপাইনে দায়িত্ব পালনের সময় পালাউসহ বিভিন্ন আন্তর্জাতিক দায়িত্বও পালন করেন।
এর আগে তিনি ইতালির মিলানে বাংলাদেশের প্রথম কনসাল জেনারেল, যুক্তরাজ্যের ম্যানচেস্টারে সহকারী হাইকমিশনার এবং জাকার্তা ও ব্যাংককে বাংলাদেশ মিশনে দায়িত্ব পালন করেন।
পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের সদর দপ্তরেও বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ পদে কাজ করেছেন তিনি। এর মধ্যে প্রধান প্রটোকল কর্মকর্তা, ইউরোপ ও ইউরোপীয় ইউনিয়ন অনুবিভাগের মহাপরিচালক, ফরেন সার্ভিস একাডেমির রেক্টর এবং ইন্সপেক্টর জেনারেল অব মিশনসের দায়িত্ব উল্লেখযোগ্য।




