অতীতে যারা ‘জয় বাংলা’ স্লোগান দিয়ে সুবিধা নিয়েছে, তারা এখন রাজনৈতিক পটপরিবর্তনের পর খোলস বদলে ‘বিএনপি’ সাজছে বলে মন্তব্য করেছেন শিক্ষা এবং প্রাথমিক ও গণশিক্ষা মন্ত্রণালয়ের মন্ত্রী ড. আ ন ম এহছানুল হক মিলন।
রোববার (২৮ জুন) সিলেট শিক্ষা বোর্ড এবং সিলেট অঞ্চলের মাদরাসা ও কারিগরি বোর্ডের কেন্দ্র প্রধানদের (ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা) সঙ্গে আয়োজিত এক মতবিনিময় সভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এ মন্তব্য করেন। ২০২৬ খ্রিষ্টাব্দের এইচএসসি ও সমমানের পরীক্ষা সুষ্ঠু ও সুশৃঙ্খলভাবে সম্পন্ন করার লক্ষ্যে এ সভার আয়োজন করা হয়।
শিক্ষামন্ত্রী বলেন, অতীতে যারা ২০০১ থেকে ২০০৬ খ্রিষ্টাব্দের মধ্যে এসএসসি ও এইচএসসি পাস করেছেন তাদের অনেকে বর্তমানে ভালো অবস্থানে রয়েছেন।
শিক্ষার মানোন্নয়ন ও সুষ্ঠু পরীক্ষা ব্যবস্থাপনার ওপর গুরুত্বারোপ করে তিনি বলেন, এবারের পরীক্ষায় প্রশ্নপত্র ফাঁসের কোনো সুযোগ নেই। প্রশ্নপত্র ফাঁস হবে না। কেউ যদি বিভ্রান্তিকর বা মিথ্যা তথ্য ছড়ায়, নতুন আইনের আওতায় তার বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা নেয়া হবে।
পরীক্ষায় নকল বন্ধের প্রসঙ্গে শিক্ষামন্ত্রী বলেন, এটি শুধু হেলিকপ্টার বা অভিযান চালিয়ে সম্ভব হয়নি। এবার প্রযুক্তিনির্ভর মনিটরিং ব্যবস্থার কারণে নকল নিয়ন্ত্রণে আনা সম্ভব হয়েছে। আর সিসিক্যামেরার মাধ্যমে পরীক্ষাকেন্দ্রগুলো ডিজিটালি পর্যবেক্ষণ করা হচ্ছে।
শিক্ষক সংকট প্রসঙ্গে তিনি বলেন, এ সংকট গত তিন মাসে তৈরি হয়নি, এটি দীর্ঘদিনের সমস্যা।
শিক্ষক নিয়োগ সংক্রান্ত মামলার শুনানি শুরু হয়েছে জানিয়ে তিনি বলেন, আগামী ২ জুলাই এ বিষয়ে সিদ্ধান্ত আসতে পারে। জুলাইয়ের পর শিক্ষক নিয়োগ কার্যক্রম শুরু করার পরিকল্পনা রয়েছে।
এ সময় ডিজি অফিসে বসে দালালি করার দিন আর নেই বলেও মন্তব্য করেন তিনি। একই সঙ্গে, শিক্ষকদের কল্যাণ ট্রাস্টের অর্থ ব্যবস্থাপনা নিয়ে অভিযোগ তুলে তিনি বলেন, বিগত সরকারের সময়ে সেখানে বড় ধরনের অনিয়ম হয়েছে।
কারিগরি শিক্ষা প্রসঙ্গে মন্ত্রী বলেন, দেশের প্রতিটি প্রতিষ্ঠানে টিভিইটি (টেকনিক্যাল ও ভোকেশনাল এডুকেশন অ্যান্ড ট্রেনিং) যুক্ত করার পরিকল্পনা রয়েছে। নয়টি সাধারণ শিক্ষা বোর্ড যদি একসঙ্গে প্রশ্নপত্র তৈরি করতে পারে, তাহলে মাদরাসা ও কারিগরি শিক্ষা বোর্ডও আগামীতে সাধারণ বিষয়ের অভিন্ন প্রশ্নপত্র প্রণয়নে যুক্ত হবে।







