ঢাকা | রবিবার, ১ নভেম্বর ২০২৬,১৬ কার্তিক ১৪৩৩

বিএ পাস করে কেউ চাকরি পায় না, তবু জমি বিক্রি করে বিএ পাস করছে সবাই

রাষ্ট্রপতি মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর বলেছেন, আমাদের শিক্ষাব্যবস্থায় আরেকটা সমস্যা আছে। আমি অনুরোধ করব, শিক্ষাব্যবস্থাটাকে আসলে নিড বেইসড করা দরকার। প্রয়োজনের উপযোগী শিক্ষাব্যবস্থা হওয়া দরকার। বিএ পাস করে কেউ চাকরি পায় না। অথচ বাবা-মায়ের জমি বিক্রি করে সবাই বিএ পাস করছে। আমাদের শিক্ষাব্যবস্থার মধ্যে দেখবেন, কলেজগুলো, ইউনিভার্সিটিগুলো সব এটাই করছে। অথচ ভোকেশনাল ট্রেনিং ইনস্টিটিউট, টেকনিক্যাল ট্রেনিং ইনস্টিটিউট বা বৃত্তিমূলক প্রতিষ্ঠানগুলোর সংখ্যা অনেক কম।

রোববার (১ নভেম্বর) সকালে রাজধানীর বাংলাদেশ-চীন মৈত্রী সম্মেলন কেন্দ্রে আয়োজিত জাতীয় যুব দিবসের অনুষ্ঠানে বক্তব্য দিতে গিয়ে তিনি এসব কথা বলেন।

রাষ্ট্রপতি বলেন, বাংলাদেশকে সামনে এগিয়ে নিতে হলে যুবসমাজকে কর্মমুখী করতে হবে এবং তাদের হাতে উৎপাদনের চালিকাশক্তি তুলে দিতে হবে। শুধু রাজনৈতিক বিপ্লব করে পরিবর্তন আনলেই দেশকে এগিয়ে নেওয়া সম্ভব নয়, এর পাশাপাশি দেশ গঠনেও সমান ভূমিকা রাখতে হবে।

তিনি বলেন, আমরা দেশে একটা গণতান্ত্রিক ব্যবস্থা প্রতিষ্ঠা করার জন্য এতদিন সংগ্রাম করেছি । এখন আমাদের সংগ্রামটা এই দেশকে নির্মাণ করার জন্য। বিল্ড দিস কান্ট্রি, বিল্ড দিস নেশন।

মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর বলেন, আমি যখন এই অনুষ্ঠানে যোগ দেওয়ার জন্য আসছিলাম বাঁ দিকে তাকিয়ে আমাদের জাতীয় সংসদ ভবন দেখতে পেলাম। তখন আমার মনে পড়ে গেল, ১৯৭৭ খ্রিষ্টাব্দে আমাদের একজন ক্ষণজন্মা পুরুষ, শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমান প্রথম এখানে যুব কনভেনশনের আয়োজন করেছিলেন। এরপরই এই যুব মন্ত্রণালয়, যুব অধিদপ্তর ও যুব কমপ্লেক্স প্রতিষ্ঠা করা হয়েছিল। তার প্রতি আমি গভীর শ্রদ্ধা নিবেদন করছি।

তিনি আরও বলেন, এরপর ডান দিকে যখন আমাদের ক্রিসেন্ট পার্কের দিকে তাকালাম, সেখানে দেখলাম শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমানের মাজার এবং একই সঙ্গে আমাদের গণতন্ত্রের আপসহীন নেত্রী দেশনেত্রী বেগম খালেদা জিয়ার মাজার। আমার মনে পড়ল, তিনি এই দেশের যুবক-যুব নারীদের প্রশিক্ষণের জন্য প্রত্যেক জেলায় যুব প্রশিক্ষণ কেন্দ্র নির্মাণ করেছিলেন। তার প্রতিও আমি গভীর শ্রদ্ধা নিবেদন করছি।

তিনি বলেন, আমাদের যে জনসংখ্যার কাঠামো, এতে সবচেয়ে বড় অংশই হচ্ছে যুবক। এটাকে আমরা বলছি ডেমোগ্রাফিক ডিভিডেন্ড। এটা আমাদের জন্য একটা বাড়তি পাওনা। আমাদের যুবকদের সংখ্যা অনেক বেশি। এটাকে যদি আমরা সঠিকভাবে কাজে লাগাতে পারি, তাহলে নিঃসন্দেহে আমরা একটা সাফল্য অর্জন করতে সক্ষম হব।

বাংলাদেশকে উন্নয়নশীল দেশে রূপান্তরের প্রস্তুতির কথা স্মরণ করিয়ে দিয়ে তিনি বলেন, আমরা এখনো এলডিসি (লিস্ট ডেভেলপড কান্ট্রি) থেকে গ্র্যাজুয়েশন করব। একটা সময় ছিল, সেখান থেকে আরও তিন বছর সময় দেওয়া হয়েছে আমাদের। আরও তিন বছর প্রস্তুতির জন্য। অর্থাৎ আমরা উন্নয়নশীল দেশ হব। সেই কারণে আমাদের সক্ষমতা অর্জন করতে হবে। সেই সক্ষমতা অর্জন করে আমরা একটা ডেভেলপিং কান্ট্রিতে পরিণত হব।

তিনি আরও বলেন, এখানে সবচেয়ে বড় ভূমিকা হচ্ছে যুবসমাজের। এটা আমাদের সবচেয়ে বড় প্রধান চালিকাশক্তি। আমাদের ভবিষ্যৎ যাদের হাতে, ভবিষ্যৎ নির্মাণের প্রধান কারিগর তারাই। দেশনেত্রী বেগম খালেদা জিয়া বলতেন, যুবসমাজ আমাদের মূল্যবান মানবসম্পদ। আসলে এর চেয়ে বড় সত্য আর কিছু হতে পারে না।