দেশে আবারও পুরোনো ফ্যাসিবাদী প্রবণতা ফিরে আসছে বলে মন্তব্য করেছেন ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় কেন্দ্রীয় ছাত্র সংসদের (ডাকসু) ভিপি আবু সাদিক কায়েম।
সোমবার (১২ অক্টোবর) বেলা ১টায় ঢাকা কলেজের শহীদ আ. ন. ম. নজীব উদ্দিন খান খুররম অডিটোরিয়ামে শাখা ছাত্রশিবিরের নবীনবরণ অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথির বক্তব্যে তিনি এ মন্তব্য করেন।
ডাকসু ভিপি বলেন, গত ৫৫ বছরে যারা দেশ পরিচালনার দায়িত্বে ছিলেন, তাদের অনেকের বিরুদ্ধে চাঁদাবাজি, টেন্ডারবাজি, সন্ত্রাস ও অর্থ পাচারের অভিযোগ রয়েছে। জুলাই বিপ্লবের পর পুরোনো রাজনৈতিক সংস্কৃতির পুনরাবৃত্তি হবে না বলে প্রত্যাশা ছিল। কিন্তু আবারও পুরোনো ফ্যাসিবাদী প্রবণতা ফিরে আসতে দেখা যাচ্ছে।
তিনি বলেন, ফ্যাসিবাদের কোনো নির্দিষ্ট রাজনৈতিক দল নেই। যে-ই ফ্যাসিবাদী হয়ে উঠবে, তার বিরুদ্ধেই কথা বলতে হবে। ক্যাম্পাসে দখলদারত্বের রাজনীতি এবং গণরুম-গেস্টরুম সংস্কৃতি আর ফিরতে দেওয়া হবে না।
দখলদারত্বের সঙ্গে যে-ই জড়িত থাকুক, তার বিরুদ্ধে কথা বলতে হবে। শিক্ষার্থীরা নিজেদের মেরুদণ্ড সোজা রেখে অন্যায়ের বিরুদ্ধে অবস্থান নিলে দেশে আর ফ্যাসিবাদ ফিরে আসবে না।
জুলাই বিপ্লবের শহীদদের রেখে যাওয়া অসমাপ্ত কাজ বাস্তবায়নের আহ্বান জানিয়ে সাদিক কায়েম বলেন, গণভোটের জনরায় বাস্তবায়ন করা হচ্ছে না এবং ফ্যাসিবাদী কর্মকাণ্ডের সঙ্গে জড়িত ব্যক্তিদের কার্যকর বিচারও দেখা যাচ্ছে না বলে তিনি মনে করেন। একই সঙ্গে জ্বালানি নীতিসহ বিভিন্ন ক্ষেত্রে সংকট এবং দখলদারত্বের বিস্তারের কথা উল্লেখ করেন তিনি।
ভবিষ্যৎ বাংলাদেশ গঠনের বিষয়ে তিনি বলেন, জুলাই বিপ্লবের মধ্য দিয়ে গড়ে ওঠা প্রজন্ম একদিন রাষ্ট্র পরিচালনার দায়িত্ব পেলে দেশের প্রতিটি ইঞ্চি মাটির নিরাপত্তা নিশ্চিত করা এবং মানুষের মুক্তির আকাঙ্ক্ষা বাস্তবায়নে কাজ করবে।
প্রত্যাশার কথা জানিয়ে ডাকসু ভিপি বলেন, জুলাই বিপ্লব-পরবর্তী বাংলাদেশে আমরা ছাত্ররাজনীতির আমূল পরিবর্তন চাই। ছাত্ররাজনীতি হতে হবে কল্যাণভিত্তিক, মেধা ও যোগ্যতার ভিত্তিতে এবং ছাত্র সংসদকে কেন্দ্র করে। সেই আলোকে আপনারা দেখেছেন পাঁচটি ছাত্র সংসদ নির্বাচন হয়েছে—ডাকসু দিয়ে শুরু হয়ে জাকসু দিয়ে শেষ হয়েছে। আমাদের প্রত্যাশা ছিল এই ঐতিহ্যবাহী প্রতিষ্ঠান ঢাকা কলেজেও ছাত্র সংসদ নির্বাচন হবে এবং শিক্ষার্থীদের নির্বাচিত প্রতিনিধিরাই এই ক্যাম্পাসের নেতৃত্ব দেবে। বর্তমান সরকার ছাত্র সংসদ নির্বাচন দেবে এবং নির্বাচিত প্রতিনিধিরাই নেতৃত্ব দেবে।
সবশেষ ঢাকা কলেজ প্রসঙ্গে সাদিক কায়েম বলেন, ঢাকা কলেজের নাম ও খ্যাতি সারা দুনিয়াব্যাপী। ঢাকা কলেজ প্রতিষ্ঠিত হয়েছিল ১৮৪১ সালে। আজকে প্রায় ১৮৫ বছর ধরে এই ঐতিহ্যবাহী বিদ্যাপীঠ সময় পার করছে। বাংলাদেশের ইতিহাসের সঙ্গে ঢাকা কলেজের ইতিহাস ওতপ্রোতভাবে জড়িত। বাংলাদেশের শিক্ষাব্যবস্থার আমূল পরিবর্তনের কথা আমরা বলছি এবং বিশ্ববিদ্যালয় ও কলেজের শিক্ষার্থীরা তাদের মেধা ও যোগ্যতার মাধ্যমে যে একটি নতুন বাংলাদেশের স্বপ্ন দেখে, সে ক্ষেত্রে প্রতিষ্ঠার পর থেকেই ঢাকা কলেজ অসংখ্য গুণী মানুষ তৈরি করেছে।
তিনি আরও বলেন, ঢাকা কলেজ সবসময় ফাসিবাদবিরোধী অবস্থানে অটল ছিল। আমরা দেখতে পেয়েছি, ঢাকা কলেজের শিক্ষার্থীরা সবসময় তাদের শিরদাঁড়া উঁচু রেখেছে। জুলাই বিপ্লবে আমাদের এখানকার সায়েন্স ল্যাব এলাকাটি ছিল আন্দোলনের অন্যতম একটি হাব। একই সঙ্গে ঢাকা কলেজ থেকে শিক্ষার্থীরা ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে গিয়েছে, রাজু ভাস্কর্যে গিয়েছে, শহীদ মিনারে গিয়েছে, শাহবাগে গিয়েছে এবং এই আন্দোলনকে সফলতার দ্বারপ্রান্তে নিয়ে গিয়েছে। সেই কারণে বাংলাদেশের মুক্তিকামী ছাত্রজনতা সবসময় আপনাদের ও ঢাকা কলেজের শিক্ষার্থীদের প্রতি আজীবন কৃতজ্ঞ থাকবে।







