ঢাকা | সোমবার, ১৭ আগস্ট ২০২৬,২ ভাদ্র ১৪৩৩

ছাত্রদলের নতুন কমিটি: শীর্ষ পদে সবচেয়ে বেশী আলোচনায় জবির বাসিত

বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী ছাত্রদল কেন্দ্রীয় সংসদের বর্তমান কমিটির মেয়াদ শেষ হওয়ায় যেকোনো সময়ে ঘোষণা হতে যাচ্ছে নতুন কমিটি। ছাত্রদলের সাংগঠনিক অভিভাবক বিএনপি চেয়ারম্যান ও প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের সঙ্গে ‘বিদায়ী’ সাক্ষাৎ করেছেন সংগঠনটির কেন্দ্রীয় সভাপতি ও সাধারণ সম্পাদকসহ শীর্ষ পাঁচ নেতা। এর মধ্য দিয়ে আনুষ্ঠানিকভাবে ‘রাকিব-নাছির’ কমিটির বিদায় হয়েছে বলে জানা গেছে। ফলে যেকোনো সময় নতুন নেতৃত্ব পেতে যাচ্ছে বিএনপির প্রধানতম সহযোগী সংগঠন ছাত্রদল।

নতুন কমিটির শীর্ষ পদগুলোতে কারা আসছেন তা নিয়ে সংগঠনের ভেতরে-বাইরে এখন ব্যাপক জল্পনা-কল্পনা চলছে। সভাপতি পদে আলোচনায় থাকা সম্ভাব্য প্রার্থীদের মধ্যে অন্যতম নাম বর্তমান কেন্দ্রীয় কমিটির সহ-সভাপতি ও জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়ের ফিন্যান্স বিভাগের শিক্ষার্থী কাজী জিয়া উদ্দিন বাসিত। এর আগে তিনি সংগঠনের কেন্দ্রীয় যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক হিসেবেও দায়িত্ব পালন করেছেন। রাজপথের আন্দোলন ও দীর্ঘদিনের সাংগঠনিক অভিজ্ঞতার কারণে তিনি নেতাকর্মীদের একটি বড় অংশের সমর্থন পাচ্ছেন।

এছাড়াও বিশ্ববিদ্যালয়ের কেন্দ্রীয় শিক্ষার্থী সংসদ গুলোতে যখন ছাত্রদলের ভরাডুবি চলছে ঠিক সেই সময়ই টিম-৬ (বিশ্ববিদ্যালয় ও মেডিকেল কলেজ, চট্টগ্রাম বিভাগ) এর টিমলিডার হিসেবে দায়িত্বপ্রাপ্ত কাজী জিয়া উদ্দিন বাসিত চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয় কেন্দ্রীয় শিক্ষার্থী সংসদ (চাকসু) নির্বাচনে ছাত্রদল প্যানেল থেকে আইয়ুবুর রহমান তৌফিক কে সহ সাধারণ সম্পাদক (এজিএস) পদে জয়লাভ করানোর পাশাপাশি হল সংসদের গুরুত্বপূর্ণ পদগুলোতে ছাত্রদল প্যানেল থেকে জয়লাভ করানোর মাধ্যমে তিনি তার মেধা ও বিচক্ষণতার প্রমাণ দেন।

রাজনৈতিক কর্মকাণ্ডের পাশাপাশি কাজী জিয়া উদ্দিন বাসিত বিভিন্ন সামাজিক ও মানবিক উদ্যোগে সক্রিয় ছিলেন। তিনি ছাত্রদলের নেতাকর্মীদের জন্য নেতৃত্ব বিকাশ ও দক্ষতা উন্নয়নবিষয়ক প্রশিক্ষণের আয়োজন করেন। এ ছাড়া সুবিধাবঞ্চিত শিশুদের জন্য শিক্ষালয় স্থাপন, ফ্রি মেডিকেল ক্যাম্প পরিচালনা এবং বৃক্ষরোপণের মতো জনকল্যাণমূলক কাজেও তাঁর সরাসরি সম্পৃক্ততা রয়েছে। প্রবীণদের সম্মাননা ও দরিদ্র শিক্ষার্থীদের পাশে দাঁড়ানোর মতো মানবিক কাজগুলো তাঁকে সংগঠনে গ্রহণযোগ্য করে তুলেছে।

দলীয় সূত্রে জানা যায়, রাজনৈতিক জীবনে জিয়া উদ্দিন বাসিতকে ব্যাপক প্রতিকূলতা ও নির্যাতনের মোকাবিলা করতে হয়েছে। বিগত সরকারের আমলে তিনি একাধিকবার কারাবরণ করেন এবং পুলিশের অভিযানের সময় গুরুতর আহত হয়ে দীর্ঘকাল পঙ্গুত্ব বরণ করেছিলেন। গত জুলাইয়ের গণ-অভ্যুত্থানেও রাজধানীর সায়েন্সল্যাব ও রামপুরা এলাকায় ছাত্র-জনতার প্রতিরোধে তাঁর সাহসী ভূমিকা প্রশংসিত হয়েছে। এমনকি রাজনৈতিক কারণে তাঁকে গুম ও সপরিবারে হয়রানির শিকার হতে হয়েছে।

জবি ছাত্রদকের নেতাকর্মীরা জানান, রাজপথের ত্যাগী ও দক্ষ সংগঠক হিসেবে কাজী জিয়া উদ্দিন বাসিত সভাপতি পদের দৌড়ে এগিয়ে আছেন। বিশেষ করে টেলিভিশনের টকশোতে দলের আদর্শ ও রাজনৈতিক বিষয়গুলো যুক্তি দিয়ে উপস্থাপনের মাধ্যমে তিনি সাধারণ মানুষের মধ্যেও ইতিবাচক ইমেজ তৈরি করতে সক্ষম হয়েছেন।

জবি ছাত্রদলের যুগ্ম আহবায়ক সোলাইমান সাগর বলেন, এবার কেন্দ্রীয় ছাত্রদলের কমিটি শুধু নির্দিষ্ট বিশ্ববিদ্যালয় নয় বরং দলের প্রতি ত্যাগের বিবেচনায় অন্যান্য ইউনিট থেকেও শীর্ষ পদে নের্তৃত্ব আসবে এটা এখন সময়ের দাবি। ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের বাহিরে সবচেয়ে বেশী আলোচনায় আছেন জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়ের কাজী জিয়াউদ্দিন বাসিত। তার ত্যাগ ও ছাত্রদলে জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়ের অবদানের কথা বিবেচনা করে তাকে শীর্ষ পদে আনা হলে ছাত্রদলের প্রতিটি ইউনিট ই খুশী হবে। যেকোনো ইউনিট থেকে ত্যাগের মূল্যায়ন হলে শিক্ষার্থীদের দলে দলে ছাত্রদলের যোগ দিবে এবং দলের আরও ইমেজ উত্তরোত্তর বেড়ে যাবে।