বেগম রোকেয়া বিশ্ববিদ্যালয়ে জুলাই গণঅভ্যুত্থান দিবস উপলক্ষে ছাত্রশিবিরের একটি প্রদর্শনীকে কেন্দ্র করে ছাত্রদলের সঙ্গে ধাওয়া-পাল্টা ধাওয়ার পর পাল্টাপাল্টি কর্মসূচি ঘোষণা করেছিল দুটি সংগঠন। তবে সেই উত্তেজনার মধ্যেই বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসনের আয়োজিত কর্মসূচিতে দুই সংগঠনের সভাপতিদের একসঙ্গে দেখা গেছে।
মঙ্গলবার (৪ আগস্ট) বিকেলে বিশ্ববিদ্যালয়ের মূল ফটকের সামনে অবস্থান নেয় বিশ্ববিদ্যালয় শাখা ও মহানগর ছাত্রদল। পরে বিক্ষোভ মিছিল শেষে তারা ফটকের দেয়ালে ‘শিবির রাজাকার মুক্ত ক্যাম্পাস’ লিখে দেন।
এর একদিন পর বুধবার (৫ আগস্ট) সকালে জুলাই গণঅভ্যুত্থান দিবস উপলক্ষে বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসনের উদ্যোগে আয়োজিত বিভিন্ন কর্মসূচিতে বিশ্ববিদ্যালয় শাখা ছাত্রদলের সভাপতি মো. ইয়ামিন এবং শাখা ছাত্রশিবিরের সভাপতি রাকিব মুরাদকে একসঙ্গে অংশ নিতে দেখা গেছে।
বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসনের আয়োজিত বর্ণাঢ্য শোভাযাত্রায় তারা সামনের সারিতে ছিলেন। পরে বৃক্ষরোপণ কর্মসূচিতেও উপাচার্য অধ্যাপক ড. মো. শওকাত আলীর সঙ্গে একই মঞ্চে অংশ নেন দুই ছাত্রনেতা।
বেরোবি শাখা ছাত্রশিবিরের সভাপতি রাকিব মুরাদ বলেন, ছাত্রদল কোনো প্রোগ্রাম করেছে আর আমরা কখনও বাধা দিয়েছি এমন কোনো ঘটনা নেই। আমরা আগেও যেমন বাধা দিইনি, এখনও দিই না। আমরা চাই ক্যাম্পাস সহাবস্থানে থাকুক, স্থিতিশীল পরিবেশে থাকুক। আমরা আশা করি, তারা যে শিবিরমুক্ত ক্যাম্পাস লিখেছে এটা দুপুরের মধ্যে মুছে দেবে।
ছাত্রদল সভাপতি ইয়ামিন ইসলাম বলেন, জুলাই গণঅভ্যুত্থানে সকল ধর্ম-বর্ণ ও শ্রেণির ঐক্যবদ্ধ চেষ্টায় আমরা ত্রাসের রাজনীতি থেকে মুক্তি পেয়ে সুন্দর একটা বাংলাদেশ পেয়েছি। জুলাই যেমন আমাদের ঐক্যবদ্ধ করেছিল সেই ঐক্যবদ্ধভাবেই নতুন বাংলাদেশে গড়তে হবে। মতবিরোধ, দ্বন্দ্ব রাখা যাবে না। তা না হলে আবারও ফ্যাসিবাদীরা ফিরে আসবে। বিশৃঙ্খলা, মতবিরোধ, সহিংসতা পরিহার করি। আসুন সুন্দর একটা বাংলাদেশ গড়ি।
গত সোমবার জুলাই গণঅভ্যুত্থান দিবস উপলক্ষে বিশ্ববিদ্যালয় ক্যাম্পাসে শিবিরের ‘জুলুমের বিরুদ্ধে জুলাই’ শীর্ষক প্রদর্শনী অনুষ্ঠান নিয়ে ছাত্রদল ও শিবিরের ধাওয়া পাল্টা-ধাওয়ার পর রাতেই উভয় সংগঠন মঙ্গলবারের জন্য পৃথক কর্মসূচি ঘোষণা করে। ছাত্রশিবির লালবাগ চত্বর থেকে আবু সাঈদ চত্বর পর্যন্ত ‘অদম্য জুলাই’ বিক্ষোভ মিছিলের ঘোষণা দেয়।
অন্যদিকে শিবিরের বিরুদ্ধে হামলার অভিযোগ তুলে রংপুর মহানগর ছাত্রদল বিকেল ৪টায় শহীদ আবু সাঈদ চত্বর পার্কের মোড়ে বিক্ষোভ মিছিল ও প্রতিবাদ সমাবেশের ডাক দেয়।
পাল্টাপাল্টি কর্মসূচি নিয়ে উত্তেজনা সৃষ্টি হলে কর্মসূচিস্থল বিশ্ববিদ্যালয়ের মূল ফটকের সামনে ১৪৪ ধারা জারির আবেদন করে বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন।
পরে বিকেলে ছাত্রদল বিশ্ববিদ্যালয়ের মূল ফটকে অবস্থান নিলে পূর্ব ঘোষণা অনুযায়ী বিশ্ববিদ্যালয়ের দিকে না গিয়ে সংঘাত এড়াতে মিছিলটি শাপলা চত্বরের দিকে নিয়ে যাওয়া হয়। সেখানে সংক্ষিপ্ত সমাবেশ অনুষ্ঠিত হয়।




