লেখকত্ব, প্রতিষ্ঠানের পরিচয়, তথ্যসূত্র, রেফারেন্স, চিত্রের অসঙ্গতি, ডুপ্লিকেশন এবং গবেষণার ফল নিয়ে নানা অনিয়ম ও চুরির অভিযোগে ইসলামী বিশ্ববিদ্যালয়ের (ইবি) ১৩টি গবেষণাপত্র প্রত্যাহার (রিট্র্যাক্ট) করা হয়েছে।
আন্তর্জাতিক গবেষণাপত্র প্রত্যাহার সংক্রান্ত তথ্যভাণ্ডার রিট্র্যাকশন ওয়াচ ডাটাবেজে সাম্প্রতিক অনুসন্ধানে এ তথ্য পাওয়া যায়। তালিকায় ইবির বর্তমান ও সাবেক গবেষকদের মধ্যে অধ্যাপক ড. হাবিবুর রহমান, অধ্যাপক ড. মো. সাদেক আলী, অধ্যাপক ড. মো. মোস্তফা কামাল এবং ড. মো. সজিব আলীর নাম রয়েছে।
তথ্য অনুযায়ী, প্রত্যাহার হওয়া ১৩টি গবেষণা রেকর্ডের মধ্যে ১২টি পিয়ার-রিভিউড জার্নাল আর্টিকেল এবং একটি রিট্র্যাক্টেড প্রিপ্রিন্ট। এর মধ্যে বিশ্বসেরা ২ শতাংশ গবেষকের তালিকাভুক্ত সিএসই বিভাগের শিক্ষক ড. হাবিবুর রহমানের দুটি গবেষণাপত্রও রয়েছে।
বিভাগভিত্তিক হিসাবে গণিত বিভাগের ৪টি, অ্যাপ্লাইড নিউট্রিশন অ্যান্ড ফুড টেকনোলজি (এনএফটি) বিভাগের ৩টি, তথ্য ও যোগাযোগ প্রযুক্তি (আইসিটি) বিভাগের ৩টি, কম্পিউটার সায়েন্স অ্যান্ড ইঞ্জিনিয়ারিং (সিএসই) বিভাগের ২টি এবং বায়োটেকনোলজি অ্যান্ড জেনেটিক ইঞ্জিনিয়ারিং বিভাগের ১টি গবেষণাপত্র প্রত্যাহার করা হয়েছে।
গণিত বিভাগের চারটির মধ্যে ড. মো. মোস্তফা কামালের দুটি ও ড. মো. সজিব আলীর দুটি গবেষণাপত্র রয়েছে। সিএসই বিভাগের দুটি গবেষণাপত্রই ড. হাবিবুর রহমানের (সহলেখক ইমরান হাসান)। এনএফটি বিভাগের তিনটির মধ্যে ড. কামরুজ্জামানের একটি এবং আতিকুর রহমান ও সাবেক শিক্ষার্থী আলমগীর হোসেনের যৌথ একটি গবেষণাপত্র রয়েছে।
এছাড়া বায়োটেকনোলজি অ্যান্ড জেনেটিক ইঞ্জিনিয়ারিং বিভাগের সাবেক শিক্ষার্থী শাহেদুর রহমান ও আসিফ ইকবালের যৌথ একটি এবং আইসিটি বিভাগের তিনটির মধ্যে একটি শিক্ষার্থী এন. গাফারের ও দুটি শিক্ষক ড. মো. সাদেক আলীর গবেষণাপত্র প্রত্যাহার করা হয়েছে।
এ বিষয়ে বিশেষজ্ঞরা বলছেন, গবেষণায় ভুল-ত্রুটি হতে পারে এবং গবেষকদের নিরুৎসাহিত করা উচিত নয়। তবে ইচ্ছাকৃতভাবে অন্যের গবেষণা চুরি বা কপি করে প্রকাশ করা ভবিষ্যৎ প্রজন্মের জন্য হুমকি। কারণ গবেষণার ফলের ওপর ভিত্তি করেই গুরুত্বপূর্ণ বৈজ্ঞানিক ও নীতিগত সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়। তাই ভুল বা অসৎ গবেষণা সমাজ ও বিজ্ঞানের জন্য নেতিবাচক প্রভাব ফেলতে পারে।






