দেশের লাখ লাখ শিক্ষার্থীর কর্মসংস্থান বৃদ্ধি এবং বৈশ্বিক কর্মবাজারের উপযুক্ত করে গড়ে তুলতে এক যুগান্তকারী উদ্যোগ নিয়েছে জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয়। ভাষাগত দক্ষতার অভাবে শিক্ষার্থীরা যাতে দেশ ও বিদেশে ভালো চাকরি থেকে বঞ্চিত না হয়, সেজন্য বিশ্ববিদ্যালয়ে বাংলা ও ইংরেজির পাশাপাশি আরও ৭টি আধুনিক বিদেশি ভাষা শেখার সুযোগ চালু করা হচ্ছে।
রোববার (৭ জুন) বাংলাদেশ চায়না ফ্রেডশিপ কনফারেন্স সেন্টারে জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয় আয়োজিত ইনক্লুশন অব স্কিলস-বেইজড এডুকেশন ইন ন্যাশনাল ইউনিভার্সিটি কারিকুলাম শীর্ষক জাতীয় প্রশিক্ষণ কর্মসূচির উদ্বোধন অনুষ্ঠানে উপাচার্য প্রফেসর ড. এ এস এম আমানুল্লাহ এতথ্য জানান। অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত রয়েছেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত আছেন শিক্ষা এবং প্রাথমিক ও গণশিক্ষা মন্ত্রী ড. আ ন ম এহছানুল হক মিলন এবং প্রধানমন্ত্রীর শিক্ষা উপদেষ্টা ড. মাহ্দী আমিন।
জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয় যুক্তরাষ্ট্র, যুক্তরাজ্য, অস্ট্রেলিয়া, কানাডাসহ বিশ্বের ১৫০টিরও বেশি বিশ্ববিদ্যালয়, গবেষণা সংস্থা ও শিল্প প্রতিষ্ঠানের সঙ্গে সমঝোতা স্মারক (এমওইউ) স্বাক্ষর করেছে বলে জানিয়েছেন ড. এ এস এম আমানুল্লাহ।
তিনি বলেন, এসব এমওইউর মাধ্যমে শিক্ষার্থীদের ইন্টার্নশিপ, কর্মসংস্থান ও দক্ষতা উন্নয়নের সুযোগ আরও বিস্তৃত হচ্ছে। যুক্তরাষ্ট্রের ইউনিভার্সিটি অব নিউ হ্যাভেন, সিটি ইউনিভার্সিটি, ইন্টারন্যাশনাল ইউনিভার্সিটি মালয়েশিয়া, থাইল্যান্ডের সিনাওত্রা ইউনিভার্সিটি, যুক্তরাজ্যের ইউনিভার্সিটি অব সলফোর্ডসহ বিভিন্ন আন্তর্জাতিক প্রতিষ্ঠানের সঙ্গে এসব চুক্তি হয়েছে।
তিনি আরও জানান, দেশের শীর্ষ শিল্প প্রতিষ্ঠানের চাহিদা অনুযায়ী দক্ষ মানবসম্পদ তৈরির লক্ষ্যে ইন্ডাস্ট্রি–একাডেমিয়া লিংক জোরদার করা হচ্ছে। পাশাপাশি গবেষণা সক্ষমতা বৃদ্ধিতে ইনস্টিটিউট অব সাস্টেইনেবল ল্যাবরেটরি প্রতিষ্ঠার উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।
উপাচার্য বলেন, স্বল্প ও দীর্ঘমেয়াদি দক্ষতার চাহিদা নিরূপণে একটি বিস্তৃত ফিজিবিলিটি স্টাডি পরিচালনা করা হচ্ছে, যার ভিত্তিতে নতুন দক্ষতাভিত্তিক কোর্স চালু করা হবে।
তিনি আরও জানান, যুক্তরাজ্যের ইউনিভার্সিটি অব সলফোর্ড, যুক্তরাষ্ট্রের সিটি ইউনিভার্সিটি অব নিউইয়র্ক, যুক্তরাজ্য এবং অস্ট্রেলিয়ার প্রতিষ্ঠানের সহযোগিতায় একটি আন্তর্জাতিক মানের অ্যাপ্রেন্টিসশিপ প্রোগ্রাম চালুর উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। এর মাধ্যমে প্রতি বছর ২৫ থেকে ৫০ হাজার শিক্ষার্থীকে ট্রেড ও স্কিলভিত্তিক প্রশিক্ষণ দেওয়ার লক্ষ্য নির্ধারণ করা হয়েছে। অনুষ্ঠানে যুক্তরাজ্য, যুক্তরাষ্ট্র ও অস্ট্রেলিয়া থেকে আগত প্রতিনিধি দলও উপস্থিত ছিলেন।
অধ্যাপক ড. এ এস এম আমানুল্লাহ আরও বলেন, বর্তমান সরকার তাদের নির্বাচনী ইশতেহারে তৃতীয় ভাষা শিক্ষার ওপর বিশেষ গুরুত্ব আরোপ করেছে। সেই লক্ষ্যকে সামনে রেখে আন্তর্জাতিক কর্মসংস্থান ও রেমিট্যান্স বৃদ্ধির উদ্দেশ্যে জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয় ইংরেজির পাশাপাশি ম্যান্ডারিন, জাপানিজ, কোরিয়ান, আরবি, ইতালিয়ান, স্প্যানিশ ও ফ্রেঞ্চ ভাষা শিক্ষার সুযোগ সম্প্রসারণ করছে। এ উদ্যোগের অংশ হিসেবে ইতিমধ্যেই জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয়ে মাল্টি ল্যাঙ্গুয়েজ লার্নিং ইনস্টিটিউট প্রতিষ্ঠা করা হয়েছে। পাশাপাশি অধিভুক্ত কলেজগুলোতে ল্যাঙ্গুয়েজ ক্লাব গঠনের কাজ গত তিন মাস ধরে চলমান রয়েছে।







