আসন্ন সিটি করপোরেশন নির্বাচনকে সামনে রেখে নতুন করে আলোচনায় এসেছে বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী যুবদলে ঢাকা মহানগর দক্ষিণ শাখার সম্ভাব্য নতুন নেতৃত্ব। এই নতুন নেতৃত্বে ঢাকা মহানগর দক্ষিণ যুবদলের সভাপতি পদে আলোচনায় উঠে এসেছেন জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয় (জবি) ছাত্রদলের সাবেক সভাপতি মো. আসাদুজ্জামান আসলাম।
দলীয় সূত্র জানায়, গত ৯ মে কেন্দ্রীয় বিএনপিসহ বিভিন্ন সাংগঠনিক ইউনিটের প্রায় ৯০০ শীর্ষ নেতার সঙ্গে দীর্ঘ মতবিনিময় করেন দলের চেয়ারম্যান ও প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। ওই বৈঠকে তিনি সাংগঠনিক কর্মকাণ্ড আরও জোরদার করার কঠোর নির্দেশনা দেওয়ার পাশাপাশি বিভিন্ন ইউনিটে নতুন কমিটি গঠনের স্পষ্ট ইঙ্গিত দেন। এরপর থেকেই মূলত ঢাকা মহানগর উত্তর ও দক্ষিণে বর্তমান কমিটির পাশাপাশি নতুন ও তরুণ মুখ আনার চিন্তাভাবনা শুরু হয়।
ইতোমধ্যে সম্ভাব্য পদপ্রত্যাশীরা নিজেদের সাংগঠনিক দক্ষতা, বিগত দিনের আন্দোলন-সংগ্রামে ভূমিকা ও ত্যাগের বিবরণ তুলে ধরে কেন্দ্রীয় নেতাদের সঙ্গে জোর যোগাযোগ শুরু করেছেন। গুলশান কার্যালয় থেকে শুরু করে সচিবালয়ে মন্ত্রীদের কাছেও চলছে জোর তদবির। তবে কোনো ধরনের লবিং বা তদবিরের বাইরে সম্পূর্ণ নিজের দীর্ঘ ত্যাগ, রাজপথের আপসহীন নেতৃত্ব এবং পরিচ্ছন্ন ভাবমূর্তির কারণে মহানগর দক্ষিণ যুবদলের শীর্ষ পদের দৌড়ে আস্থার প্রতীক হিসেবে আলোচনার কেন্দ্রবিন্দুতে রয়েছেন আসাদুজ্জামান আসলাম।
দলীয় নেতাকর্মীরা জানায়, ২০২৩ সালের ২৮ অক্টোবরের পুলিশি সহিংসতার পর যখন সারাদেশে বিরোধী ছাত্রসংগঠনের কার্যক্রম স্থবির হয়ে পড়ে, তখন আসলামের নেতৃত্বেই জবি ছাত্রদল রাজপথে বুক চিতিয়ে টিকে থাকে। এর ফলশ্রুতিতে ২০২৪ সালের জুলাইয়ের গণঅভ্যুত্থানে এই ইউনিটটি এক অপ্রতিরোধ্য শক্তিতে পরিণত হয়। বিশেষ করে ৪ আগস্টের সিএমএম আদালত ঘেরাও আন্দোলনে তার সম্মুখভাগের সাহসিকতা দেশজুড়ে আলোচিত হয়েছিল। ৫ আগস্টের পটপরিবর্তনের পর যখন প্রশাসনিক কাঠামো ভেঙে পড়ে, তখন ধর্মীয় উসকানি ও বিশৃঙ্খলা রোধে আসলামের নির্দেশে ছাত্রদল নেতাকর্মীরা পুরান ঢাকার পূজামণ্ডপগুলোতে রাত জেগে পাহারা দেয়, যা সনাতন সম্প্রদায়ের মাঝে ব্যাপক প্রশংসিত হয়।
তারা আর ও জানান, ১৭ বছরের এই রাজনৈতিক ক্যারিয়ারে ছাত্রলীগের হামলায় পা ভেঙে যাওয়া, পুলিশের লাঠিপেটায় কানের পর্দা ছিঁড়ে যাওয়া ও রাজপথে গুলিবিদ্ধ হওয়াসহ অসংখ্যবার আহত, গ্রেপ্তার ও নির্যাতনের শিকার হয়েছেন আসলাম।
যুবদলের তৃণমূল কর্মীদের একাংশ জানান, ঢাকা মহানগর দক্ষিণ যুবদলের মতো গুরুত্বপূর্ণ ইউনিটে এমন একজন সৎ, সাহসী, উচ্চশিক্ষিত ও মাঠপর্যায়ের পরীক্ষিত নেতার অন্তর্ভুক্তি যুব সমাজকে আরও সুসংগঠিত করবে। বর্তমানে যুবদলের শীর্ষ নেতৃত্ব পুনর্গঠনের গুঞ্জনের মাঝে আসাদুজ্জামান আসলামের নাম আসায় মহানগরের নেতাকর্মীদের মাঝে নতুন উদ্দীপনার সৃষ্টি হয়েছে।
ঢাকা মহানগর দক্ষিণ যুবদলের সভাপতি পদপ্রত্যাশী মো. আসাদুজ্জামান আসলাম বলেন, দীর্ঘদিনের রাজনৈতিক লড়াই-সংগ্রাম ও সাংগঠনিক অভিজ্ঞতার মধ্য দিয়ে দুঃসময়ে জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয় শাখা ছাত্রদলকে নেতৃত্ব দিয়েছি। প্রতিকূল রাজনৈতিক পরিবেশ, মামলা-হামলা ও নানা চাপের মধ্যেও নেতাকর্মীদের পাশে থেকে সংগঠনকে ঐক্যবদ্ধ রাখার চেষ্টা করেছি। দলের প্রতিটি কর্মসূচি সফল করতে সামনের সারি থেকে নেতৃত্ব দিয়েছি।
তিনি আরও বলেন, দলের সাংগঠনিক অভিভাবক ও বিএনপির চেয়ারম্যান তারেক রহমান যদি আমাকে ঢাকা মহানগর দক্ষিন যুবদলের দায়িত্ব প্রদান করেন, তাহলে পূর্ব অভিজ্ঞতাকে কাজে লাগিয়ে যুবসমাজকে ঐক্যবদ্ধ করবো। তারেক রহমানের ঘোষিত রাষ্ট্রকাঠামো মেরামতের রূপরেখা ও রাজনৈতিক নির্দেশনা বাস্তবায়নে যুবদলকে আরও শক্তিশালী, সুসংগঠিত ও গণমুখী সংগঠন হিসেবে গড়ে তুলতে কাজ করতে চেষ্টা করবো।






