ঢাকা | শুক্রবার, ১ মে ২০২৬,১৮ বৈশাখ ১৪৩৩

ঢাকা মেডিকেলে চিকিৎসক ও ঢাবি শিক্ষার্থীদের সংঘর্ষ, জরুরি সেবা বন্ধ

ঢাকা মেডিকেল কলেজ (ঢামেক) হাসপাতালে চিকিৎসকদের সঙ্গে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের (ঢাবি) শিক্ষার্থীদের রক্তক্ষয়ী সংঘর্ষের ঘটনা ঘটেছে।

বুধবার (৮ এপ্রিল) বিকেল সাড়ে ৫টার দিকে হাসপাতালের জরুরি বিভাগে এই সংঘর্ষের সূত্রপাত হয়।

এ ঘটনায় দুই পক্ষের বেশ কয়েকজন আহত হয়েছেন বলে জানা গেছে। ঘটনার প্রতিবাদে এবং নিরাপত্তার দাবিতে জরুরি বিভাগের চিকিৎসা সেবা বন্ধ করে দিয়েছেন বিক্ষুব্ধ চিকিৎসকরা।

হাসপাতালের জরুরি বিভাগে কর্মরত চিকিৎসকদের ভাষ্যমতে, বিকেলে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের এক শিক্ষার্থী চিকিৎসার জন্য জরুরি বিভাগে আসেন। দায়িত্বরত চিকিৎসক তাকে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থাপত্র (প্রেসক্রিপশন) লিখে দেন। তবে কাঙ্ক্ষিত ওষুধ সরকারিভাবে হাসপাতালে সরবারাহ না থাকায় ওই শিক্ষার্থীকে তা বাইরে থেকে কিনে আনার পরামর্শ দেয়া হয়।

এর কিছুক্ষণ পর ওই শিক্ষার্থী তার বেশ কয়েকজন সহপাঠীকে নিয়ে পুনরায় হাসপাতালে ফিরে আসেন এবং দায়িত্বরত চিকিৎসকদের সঙ্গে বাগ্‌বিতণ্ডায় জড়িয়ে পড়েন। তাদের অভিযোগ ছিল, চিকিৎসকের লিখে দেয়া ওষুধ বাইরে খুঁজে পাওয়া যাচ্ছে না। এই নিয়ে কথা কাটাকাটির একপর্যায়ে শিক্ষার্থীরা চিকিৎসকদের ওপর চড়াও হলে দুই পক্ষের মধ্যে হাতাহাতি শুরু হয়। মুহূর্তেই পরিস্থিতি উত্তপ্ত হয়ে ওঠে এবং কয়েক দফায় পাল্টাপাল্টি ধাওয়ার ঘটনা ঘটে।

সংঘর্ষের খবর ছড়িয়ে পড়লে হাসপাতালের ইন্টার্ন চিকিৎসকরা কর্মবিরতির ডাক দেন এবং নিরাপত্তার কারণ দেখিয়ে জরুরি বিভাগের সেবা বন্ধ করে দেন। এতে দেশের বিভিন্ন প্রান্ত থেকে আসা জরুরি রোগীরা চরম বিপাকে পড়েন। অনেক মুমূর্ষু রোগীকে চিকিৎসার অভাবে অ্যাম্বুলেন্সেই দীর্ঘক্ষণ অপেক্ষা করতে দেখা যায়।

ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতাল পুলিশ ক্যাম্পের ইনচার্জ মো. ফারুক বলেন, ‘ওষুধ কেনাকে কেন্দ্র করে চিকিৎসকদের সঙ্গে ঢাবি শিক্ষার্থীদের হাতাহাতির ঘটনা ঘটে। খবর পেয়ে দ্রুত অতিরিক্ত পুলিশ ঘটনাস্থলে পৌঁছে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনে।’

সন্ধ্যা পর্যন্ত হাসপাতাল এলাকায় থমথমে পরিস্থিতি বিরাজ করছিল। চিকিৎসক নেতারা জানিয়েছেন, দায়িত্বরত অবস্থায় চিকিৎসকদের ওপর হামলার সুষ্ঠু বিচার এবং কর্মস্থলের শতভাগ নিরাপত্তা নিশ্চিত না হওয়া পর্যন্ত তারা জরুরি সেবা চালু করবেন না। অন্যদিকে, বিষয়টি নিয়ে বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসনের সঙ্গে আলোচনার চেষ্টা চলছে বলে জানা গেছে।