ঢাকা | বৃহস্পতিবার, ১৬ এপ্রিল ২০২৬,৩ বৈশাখ ১৪৩৩

ইবিতে শিক্ষিকা খুনের ঘটনায় দ্রুত বিচারের দাবিতে মৌন মিছিল

ইসলামী বিশ্ববিদ্যালয়ের (ইবি) সমাজকল্যাণ বিভাগের সভাপতি সহকারী অধ্যাপক আসমা সাদিয়া রুনা হত্যাকাণ্ডের বিচার ও জড়িত সকল আসামিকে দ্রুত গ্রেফতারের দাবিতে শোক ও প্রতিবাদে মৌন মিছিল করেছে শিক্ষকরা। মঙ্গলবার বেলা সাড়ে ১১ টায় বিশ্ববিদ্যালয়ের সাধারণ শিক্ষকদের ব্যানারে অনুষ্ঠিত হয়। মৌন মিছিলটি থিওলজি এন্ড ইসলামিক অনুষদ ভবনের সামনে থেকে শুরু হয়ে ক্যাম্পাসের বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ সড়ক প্রদক্ষিণ শেষে পুনরায় একই স্থানে এসে সংক্ষিপ্ত সমাবেশে মিলিত হয়।

এসময় আল-হাদিস এন্ড ইসলামিক স্টাডিজ বিভাগের অধ্যাপক ড. মুজাহিদুর রহমান, ইসলামের ইতিহাস ও সংস্কৃতি বিভাগের অধ্যাপক ড. গফুর গাজী ও সহকারী অধ্যাপক মৌমিতা আক্তার, অর্থনীতি বিভাগের সহযোগী অধ্যাপক ফারহা তানজিম তিতিল, বাংলা বিভাগের অধ্যাপক গাজী মাহবুব মুর্শিদ, অধ্যাপক ড. মনজুর রহমান, অধ্যাপক ড. রোজী আহমেদ ও সহযোগী অধ্যাপক ড. তিয়াশা চাকমা এবং পরিবেশ বিজ্ঞান ও ভূগোল বিভাগের সহযোগী অধ্যাপক ইনজামুল হক সজলসহ বিভিন্ন বিভাগের অন্তত ১৫ শিক্ষক ও দুই শতাধিক শিক্ষার্থী উপস্থিত ছিলেন। এসময় তারা কালো ব্যাজ ধারণ করেন। তাদের উত্থাপিত তিন দফা দাবি হলো— ‘হত্যাকাণ্ডের নিরপেক্ষ তদন্ত’, ‘অপরাধীদের দ্রুত গ্রেফতার ও দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি’ এবং ‘শিক্ষক-শিক্ষার্থী সহ সকলের নিরাপত্তা নিশ্চিত করা’।

এসময় শিক্ষার্থীদের হাতে ‘বিচারহীনতার চর্চা বন্ধ করো’, ‘সাজিদ হত্যার বিচার চাই’, ‘হত্যার বিচার না‌ হলে নিরাপত্তা কোথায়?’, ‘আসমা সাদিয়া রুনা হত্যার বিচার চাই’, ‘শিক্ষকদের নিরাপত্তা রাষ্ট্রের দায়িত্ব’, ‘নিরপেক্ষ তদন্ত চাই’, ‘প্রতারণামুক্ত বিচার চাই’সহ বিভিন্ন প্ল্যাকার্ড দেখা যায়।

সহযোগী অধ্যাপক ড. তিয়াশা চাকমা বলেন, আমাদের দাবি হত্যাকাণ্ডের নিরপেক্ষ তদন্ত। যে দোষী তার যেন শাস্তি হয়, যার বিন্দুমাত্র সংশ্লিষ্টতা নেই তার বা তাদের যেন শাস্তি না হয়। দ্রুততার সঙ্গে যেন সকল প্রক্রিয়া শেষ করে বিচারহীনতা চর্চার নিষ্পত্তি ঘটে। একইসঙ্গে শিক্ষক-শিক্ষার্থীসহ সকলের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে হবে।

অধ্যাপক ড. মুজাহিদুর রহমান বলেন, রুনার সততা, নৈতিকতা ও দায়িত্ববোধই তাকে এই নির্মম পরিণতির দিকে ঠেলে দিয়েছে। ইবির বিভিন্ন বিভাগে আর্থিক স্বচ্ছতা ও জবাবদিহিতার ঘাটতি স্পষ্টভাবে দৃশ্যমান। রুনা ম্যাডাম যখন এসব অনিয়মের বিরুদ্ধে প্রশ্ন তোলেন এবং দায়িত্বপ্রাপ্তদের জবাবদিহিতার আওতায় আনতে চান, তখনই তার ওপর এই নৃশংস হামলার ঘটনা ঘটে। এই হত্যাকাণ্ডের সুষ্ঠু তদন্ত ও দ্রুত বিচার নিশ্চিত করতে হবে।

অধ্যাপক গাজী মাহবুব মুর্শিদ বলেন, আসমা সাদিয়া রুনা ও সাজিদ হত্যাকাণ্ডের নিরপেক্ষ তদন্ত এবং দ্রুত বিচার নিশ্চিত করতে হবে। দোষীরা যেন দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি পায়। কিন্তু কোনো নির্দোষ ব্যক্তি যেন হয়রানির শিকার না হয়। সাজিদ হত্যার পর পুরো ক্যাম্পাস সিসিটিভি ক্যামেরার আওতায় আনার কথা থাকলেও তার কোনো কার্যকর প্রতিফলন আমরা দেখিনি। এমনকি পর্যাপ্ত নিরাপত্তা প্রহরীও নেই। এসব বিষয়ে প্রশাসনের ভূমিকা আরও বলিষ্ঠ হওয়া উচিত ছিল।

প্রসঙ্গত, গত ৪ মার্চ বিকেলে শিক্ষিকা রুনা নিজ কক্ষে বিভাগের সাবেক কর্মচারীর ছুরিকাঘাতে নিহত হন। এসময় নিরাপত্তাকর্মী ও শিক্ষার্থীরা হত্যাকারী ফজলুর রহমানকেও নিজের গলায় ছুরি চালানো অবস্থায় ওই কক্ষে দেখতে পান। পরে তাকে গুরুতর আহতাবস্থায় ইবি থানা পুলিশ উদ্ধার করে কুষ্টিয়া সদর হাসপাতালে পাঠায়। পরদিন ৫ মার্চ নিহতের স্বামী বাদি হয়ে ইবি থানায় ফজলুরকে প্রধান আসামি করে চারজনের নাম উল্লেখ করে হত্যা মামলা করে। পরে মামলার প্রধান আসামি ফজলুরকে চিকিৎসাধীন অবস্থায় গ্রেফতার করে পুলিশ। অধরা তিন আসামি হলেন— সমাজকল্যাণ বিভাগের সাবেক কর্মকর্তা বিশ্বজিত কুমার বিশ্বাস এবং ওই বিভাগের সহকারী অধ্যাপক শ্যাম সুন্দর সরকার ও হাবিবুর রহমান।