ঢাকা | শনিবার, ৯ মে ২০২৬,২৬ বৈশাখ ১৪৩৩

সারা রাত জেগে থাকার দিন আজ

প্রকৃতির নিস্তব্ধতা আর একাকী চাঁদকে উপভোগ করার সুযোগ নিয়ে আজ এসেছে সারা রাত জেগে থাকার বিশেষ দিন। প্রতিবছর মে মাসের দ্বিতীয় শনিবার ব্যতিক্রমী এই দিবসটি পালন করা হয়।

মূলত গভীর রাতের সময়টাকে অন্যভাবে উদ্‌যাপনের উদ্দেশ্যেই পশ্চিমা দেশগুলোতে এই প্রথার চল শুরু হয়েছিল। তবে কেবল বিনোদন নয়, এই দিবসের মূল উদ্দেশ্য হলো সমাজ ও রাষ্ট্রের শৃঙ্খলা রক্ষায় যারা সারা রাত জেগে দায়িত্ব পালন করেন, সেইসব শ্রমজীবী ও পেশাজীবী মানুষদের প্রতি যথাযথ সম্মান প্রদর্শন করা।

জননিরাপত্তা ও মানুষের স্বাভাবিক জীবনযাত্রা সচল রাখতে চিকিৎসক, নিরাপত্তাকর্মী, সাংবাদিক, গাড়িচালক, পাইলট এবং পুলিশসহ অসংখ্য মানুষ রাতের পর রাত নির্ঘুম কাটিয়ে দেন। তাদের এই ত্যাগ ও কঠোর পরিশ্রমের প্রতি শ্রদ্ধা জানাতেই প্রতি বছর এই বিশেষ দিনে পশ্চিমারা বিভিন্ন কর্মসূচির আয়োজন করেন।

ধীরে ধীরে বিশ্বের বিভিন্ন প্রান্তের মানুষও এই দিবসটি পালন করতে শুরু করেছে। গভীর রাতের নিস্তব্ধতায় যারা অন্যের সেবায় নিয়োজিত থাকেন, তাদের অবদানকে স্মরণ করাই এই দিবসের প্রধান তাৎপর্য।

বিশেষ এই দিনটি উপভোগের জন্য একেকজন একেক উপায় বেছে নেন। অনেকে পরিবারের সদস্যদের সঙ্গে নিয়ে পছন্দের চলচ্চিত্র দেখে রাত কাটান, আবার কেউ সারা সপ্তাহের জমে থাকা অফিসের কাজ শেষ করেন।

শিক্ষার্থীরা সারা রাত জেগে পড়াশোনা করে সময়টা পার করে দেয়। অনেকে আবার নির্জন রাতে প্রিয় মুহূর্ত ও প্রিয় মানুষদের স্মৃতিচারণ করে আবেগী সময় কাটান। কেউ কেউ মধ্যরাতে পছন্দের খাবার রান্না করে ভিন্ন আঙ্গিকে রাতটি উদ্‌যাপন করেন।

তবে সারা রাত জেগে থাকার কিছু স্বাস্থ্যঝুঁকিও রয়েছে বলে সতর্ক করেছেন বিশেষজ্ঞরা। চিকিৎসা বিজ্ঞানীদের মতে, নিয়মিত অনিদ্রা বা ঘুম কম হওয়া শারীরিক ও মানসিক স্বাস্থ্যের ওপর নেতিবাচক প্রভাব ফেলে। তাই বিশেষ এই দিবসটি উদ্‌যাপনে বা পেশাগত প্রয়োজনে রাত জাগার পর শরীর ও মনের ক্লান্তি দূর করতে দিনের বেলা পর্যাপ্ত বিশ্রাম নেওয়া জরুরি। রাত জাগার অভ্যাস যেন দীর্ঘমেয়াদী অনিদ্রায় রূপ না নেয়, সেদিকেও সজাগ দৃষ্টি রাখার পরামর্শ দিয়েছেন তারা।