ঢাকা | বুধবার, ১৭ জুন ২০২৬,৩ আষাঢ় ১৪৩৩

হ্যাটট্রিকের রাতেই ২০৩০ বিশ্বকাপ নিয়ে সিদ্ধান্ত জানালেন মেসি

আলজেরিয়ার বিপক্ষে হ্যাটট্রিক করে লিওনেল মেসি আবারও বুঝিয়ে দিলেন, বড় মঞ্চে তাঁর গল্প এখনো শেষ হয়নি। আর্জেন্টিনার ৩-০ গোলের জয়ে তিন গোল করে বিশ্বকাপে নিজের গোলসংখ্যা ১৬-তে নিয়ে গেছেন তিনি, ছুঁয়েছেন মিরোস্লাভ ক্লোসের পুরুষ বিশ্বকাপ গোলরেকর্ড। আর্জেন্টিনার হয়ে ২০০তম ম্যাচে এমন পারফরম্যান্সের পর স্বাভাবিকভাবেই প্রশ্ন উঠেছে, মেসিকে কি ২০৩০ বিশ্বকাপেও দেখা যাবে?

উত্তরটা অবশ্য খুব পরিষ্কার দিয়েছেন মেসি। সপ্তম বিশ্বকাপে খেলার সম্ভাবনা নিয়ে প্রশ্ন করা হলে হাসিমুখেই তিনি বলেন, ‘না, না, সেটা নিশ্চিতভাবেই নয়।’

২০২৬ বিশ্বকাপে খেলতে নেমেই মেসি ইতিহাস গড়েছেন। পুরুষ বিশ্বকাপে ছয়টি আসরে মাঠে নামা বিরল ফুটবলারদের তালিকায় নিজেকে আরও আলাদা উচ্চতায় নিয়ে গেছেন তিনি। ২০০৬ সালে শুরু হয়েছিল তাঁর বিশ্বকাপ যাত্রা। এরপর ২০১০, ২০১৪, ২০১৮, ২০২২ পেরিয়ে এবার ২০২৬। প্রায় ৩৯ বছর বয়সেও আলজেরিয়ার বিপক্ষে তাঁর খেলা দেখে অনেক সমর্থক নতুন করে স্বপ্ন দেখতে শুরু করেছিলেন, ৪২ বছর বয়সে কি তাঁকে ২০৩০ বিশ্বকাপেও দেখা যাবে?

মেসি সেই স্বপ্নে আপাতত জলই ঢেলে দিলেন। তবে নিজের ফুটবল চালিয়ে যাওয়ার প্রশ্নে তিনি আগেও বলেছেন, শরীর যত দিন সায় দেবে, তত দিন খেলবেন। বয়স নয়, তাঁর কাছে গুরুত্বপূর্ণ হলো মাঠে নিজেকে কেমন অনুভব করছেন। কিন্তু বিশ্বকাপের মতো বড় মঞ্চে সপ্তমবার নামার সম্ভাবনা তিনি নিজেই উড়িয়ে দিলেন।

আলজেরিয়ার বিপক্ষে ম্যাচ শেষে মেসির কথায় বারবার ফিরে এসেছে বর্তমান বিশ্বকাপ। তিনি বলেন, আর্জেন্টিনা ভালো অবস্থায় আছে, প্রতিদ্বন্দ্বিতা করার জন্য প্রস্তুত। এই দল সব সময় লড়াই করে, প্রতিপক্ষ যেই হোক, নিজেদের ফুটবল খেলতে চায়। তবে তিনি এটাও মনে করিয়ে দিয়েছেন, বিশ্বকাপের প্রতিটি ম্যাচই কঠিন, কোনো দল সহজে কিছু ছেড়ে দেয় না।

মেসির লক্ষ্য এখন পরিষ্কার, এই বিশ্বকাপে যত দূর সম্ভব যাওয়া। ২০২২ সালে কাতারে যে স্বপ্ন পূরণ হয়েছিল, এবার উত্তর আমেরিকায় সেটিই ধরে রাখতে চায় আর্জেন্টিনা। দীর্ঘ পথ পেরোতে হলে শুধু মেসির জাদু নয়, পুরো দলের ধারাবাহিকতাও লাগবে। আলজেরিয়ার বিপক্ষে প্রথম ম্যাচে সেই শুরুটা ভালোভাবেই করেছে বর্তমান চ্যাম্পিয়নরা।

সপ্তম বিশ্বকাপ নিয়ে মেসি ‘না’ বলেছেন। কিন্তু ২০২৬ বিশ্বকাপেই তাঁর সামনে এখনো বড় রেকর্ড অপেক্ষা করছে। আর একটি গোল করলেই ক্লোসেকে পেছনে ফেলে এককভাবে পুরুষ বিশ্বকাপ ইতিহাসের সর্বোচ্চ গোলদাতা হয়ে যাবেন তিনি।