ঢাকা | রবিবার, ১ নভেম্বর ২০২৬,১৬ কার্তিক ১৪৩৩

চুয়েটে ফের শাটডাউন ঘোষণা

চট্টগ্রাম প্রকৌশল ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের (চুয়েট) উপাচার্যের রুটিন দায়িত্ব পেয়েছেন বিশ্ববিদ্যালয়ের তড়িৎ ও কম্পিউটার কৌশল অনুষদের ডিন অধ্যাপক ড. কাজী দেলোয়ার হোসেন। উপাচার্য অধ্যাপক ড. শেখ শরিফুল আলম বাংলাদেশ বিশ্ববিদ্যালয় মঞ্জুরি কমিশনের (ইউজিসি) সভায় অংশ নিতে ঢাকায় যাওয়ায় তাকে এ দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে। রুটিন উপাচার্যের এ দায়িত্ব প্রত্যাখ্যান করে এক দিনের জন্য ক্লাস-পরীক্ষা বর্জনের ঘোষণা দিয়েছেন শিক্ষার্থীরা।

রোববার বিশ্ববিদ্যালয়ের তড়িৎ ও কম্পিউটার কৌশল অনুষদের ডিন অধ্যাপক ড. কাজী দেলোয়ার হোসেনকে ই-মেইল বার্তার মাধ্যমে এই দায়িত্ব দেন তিনি। একই সাথে গত ২৮ অক্টোবর বাংলাদেশ বিশ্ববিদ্যালয় মঞ্জুরি কমিশনের (ইউজিসি) পরিদর্শন বৈঠকে শিক্ষার্থীদের নানাভাবে ভয়ভীতি প্রদর্শনের অভিযোগ তুলেছেন শিক্ষার্থীরা। এরই প্রতিবাদে রোববার চুয়েটে বিক্ষোভ মিছিল ও মতবিনিময় সভা করেছেন আন্দোলনকারীরা।

অপরদিকে উপাচার্য শেখ শরীফুল আলমের রুটিন দায়িত্ব দেওয়ার এই প্রশাসনিক সিদ্ধান্তের প্রতিবাদে সোমবার একদিনের জন্য ফের শাটডাউন কর্মসূচি ঘোষণা করেছেন আন্দোলনকারী শিক্ষার্থীরা।

জানা যায়, রোববার এক ই-মেইল বার্তায় রুটিন দায়িত্বের বিষয়টি অধ্যাপক দেলোয়ারকে জানান উপাচার্য শরীফুল আলম। ই-মেইলে তিনি উল্লেখ করেন, ২ নভেম্বর ইউজিসির একটি সরকারি সভায় অংশ নিতে তিনি ঢাকায় অবস্থান করবেন। এ সময়ে বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রশাসনিক ও একাডেমিক কার্যক্রম স্বাভাবিক রাখতে বিধিবদ্ধ বিধান অনুযায়ী অধ্যাপক দেলোয়ার হোসেনকে তার নিজ দায়িত্বের পাশাপাশি উপাচার্যের রুটিন প্রশাসনিক ও একাডেমিক দায়িত্ব পালনের অনুরোধ ও ক্ষমতা দেওয়া হয়েছে। এতে আরো বলা হয়, ১ নভেম্বর বিকেল থেকে এই দায়িত্ব কার্যকর হয়েছে। ২ নভেম্বর সন্ধ্যায় উপাচার্য কর্মস্থলে ফিরে পুনরায় দায়িত্ব গ্রহণ না করা পর্যন্ত অধ্যাপক দেলোয়ার হোসেন এ দায়িত্ব পালন করবেন।

এ বিষয়ে জানতে চাইলে অধ্যাপক ড. কাজী দেলোয়ার হোসেন বলেন, ‘এটি একটি রেগুলার ইস্যু।’ এর বাইরে তিনি কোনো মন্তব্য করতে রাজি হননি।

উপাচার্য অধ্যাপক ড. শেখ শরীফুল আলম বলেন, ‘দাপ্তরিক কাজে আমি ঢাকা গমন করছি। আমার অনুপস্থিতিতে তড়িৎ ও কম্পিউটার কৌশল অনুষদের ডিন অধ্যাপক ড. দেলোয়ার হোসেন রুটিন দায়িত্ব পালন করবেন।’

এদিকে গত ২৮ অক্টোবর ইউজিসির বৈঠকে শিক্ষার্থীদের হুমকি দেওয়ার অভিযোগ তুলেছেন শিক্ষার্থীরা। একই অভিযোগের প্রতিবাদে রোববার ক্যাম্পাসে বিক্ষোভ মিছিল করেছেন শিক্ষার্থীরা। বিকেল চারটায় শুরু হওয়া মিছিলটি কেন্দ্রীয় শহীদ মিনার থেকে স্বাধীনতা চত্বর প্রদক্ষিণ করে। শিক্ষার্থীরা জানান, চুয়েটে বিদ্যমান অচলাবস্থার নিরসন ও আন্দোলনের সব অংশীদারের দাবি দ্রুত আদায়ের লক্ষ্যে রোববার দুপুর ৩টায় কেন্দ্রীয় মিলনায়তনে শিক্ষার্থীদের একটি মতবিনিময় সভা অনুষ্ঠিত হয়।

আলোচনায় শিক্ষার্থীরা জানান, বর্তমান উপাচার্য ড. শরীফুল আলম কিংবা অন্য কোনো বিকল্প নিয়োগ তারা মেনে নেবেন না। দাবি আদায় না হওয়া পর্যন্ত আন্দোলন চালিয়ে যাওয়ার পাশাপাশি প্রয়োজনে কঠোর কর্মসূচির জন্যও প্রস্তুত তারা।

অপরদিকে রোববার সন্ধ্যায় এক বিবৃতিতে সোমবার একদিনের জন্য শাটডাউন কর্মসূচি ঘোষণার কথা জানায় শিক্ষার্থীরা। বিবৃতিতে বলা হয়, দীর্ঘদিনের আন্দোলন ও অচলাবস্থার পর শিক্ষার্থীদের ভবিষ্যৎ এবং চুয়েটের একাডেমিক পরিবেশের কথা বিবেচনা করে শিক্ষার্থীরা ক্লাসে ফিরছিল। তবে তাদের সুস্পষ্ট ঘোষণা ও শর্ত ছিল—নবনিযুক্ত উপাচার্যকে কোনোভাবেই তারা মেনে নেবে না। একই সঙ্গে ক্যাম্পাসে স্বাভাবিক কার্যক্রমে তার কোনো হস্তক্ষেপ থাকতে পারবে না। কিন্তু অত্যন্ত উদ্বেগের সঙ্গে তারা লক্ষ করেন, আন্দোলনকারীদের পূর্বঘোষিত অবস্থানকে উপেক্ষা করে অন্য একজন অধ্যাপককে উপাচার্যের রুটিন দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে। নিজে ক্যাম্পাসে উপস্থিত না থেকে অন্যের মাধ্যমে কতৃত্ব প্রতিষ্ঠার এই অপচেষ্টাকে দ্ব্যর্থহীনভাবে ঘৃণাভরে প্রত্যাখ্যান করার কথা জানায় শিক্ষার্থীরা।

বিবৃতিতে আরো বলা হয়, সোমবার একদিনের জন্য শাটডাউন ঘোষণা করা হলো। সোমবার সব ক্লাস, পরীক্ষা ও প্রশাসনিক কার্যক্রম বয়কট করা হয়েছে। এ ধরনের হঠকারী সিদ্ধান্তের কারণে ফের ক্যাম্পাস অস্থিতিশীল হলে সংশ্লিষ্ট প্রশাসনকেই দায় নিতে হবে। হস্তক্ষেপ অব্যাহত থাকলে পুনরায় কঠোর আন্দোলনে যাবে শিক্ষার্থীরা।

যন্ত্রকৌশল বিভাগের চতুর্থ বর্ষের শিক্ষার্থী যুলক্বার নাঈন মিহাদ বলেন, ‘গত ২৮ অক্টোবর ইউজিসি থেকে আগত কমিটির কাছে আমরা আমাদের ক্যাম্পাসের প্রকৃত তথ্য তুলে ধরি। তবে সেই মিটিংয়ে কমিটির পক্ষ থেকে আমাদের ভয়ভীতি ও হুমকি প্রদর্শন করা হয়। বিশেষ করে বুয়েটের ভিসি আমাদের উদ্দেশে বলেন, ‘তোমাদের ভবিষ্যৎ অন্ধকার।’ তাছাড়া বাকি সদস্যরাও বলেন, ‘তোমাদের ওপর যদি আবার বাসে বা অন্য কোথাও হামলা হয়, তাহলে এর দায়ভার কি স্যাররা নেবে? স্যাররা কি তোমাদের সুরক্ষা দিতে পারবে?’ এই ধরনের কথা বলে আমাদের ভীতি এবং পরোক্ষভাবে হুমকি প্রদর্শনের তীব্র প্রতিবাদ জানাই।’

উল্লেখ্য, গত ২১ সেপ্টেম্বর চুয়েটের উপাচার্য অধ্যাপক ড. আবু সাদাত মুহাম্মদ সায়েমকে সরিয়ে কুয়েটের অধ্যাপক শেখ শরীফুল আলমকে ভিসি করা হয়। ২২ সেপ্টেম্বর থেকে সাবেক উপাচার্যকে পুনর্বহালের দাবিতে ক্লাস-পরীক্ষা বর্জন করে আন্দোলন করেছেন শিক্ষার্থীরা। পরে কর্মবিরতি দিয়ে আন্দোলনে অংশ নেন শিক্ষক, কর্মকর্তা ও কর্মচারীরাও। ৩৬ দিন পর গত বুধবার আংশিকভাবে শুরু হয় ক্লাস কার্যক্রম। তবে দাবি পূরণ না হওয়ায় শিক্ষা কার্যক্রমের পাশাপাশি আন্দোলন চালিয়ে যাওয়ার ঘোষণা দেন শিক্ষার্থীরা।