ঢাকা | শনিবার, ৩১ অক্টোবর ২০২৬,১৫ কার্তিক ১৪৩৩

৫৪তম সমাবর্তনের ফি, গাউনের মান নিয়ে অসন্তোষ শিক্ষার্থীরা

ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের (ঢাবি) ৫৪তম সমাবর্তনের ফি, গাউনের মান ও বিতরণব্যবস্থা নিয়ে শিক্ষার্থীদের মাঝে ক্ষোভ ও অসন্তোষ দেখা দিয়েছে। ২০২৭ খ্রিষ্টাব্দের ২৬ জানুয়ারি হতে যাওয়া এই আয়োজনকে কেন্দ্র করে প্রস্তুতি শুরু হলেও খরচের মাত্রা শিক্ষার্থীদের সামর্থ্যের বাইরে চলে গেছে বলে অভিযোগ উঠেছে।

বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসনের নির্ধারিত ফি অনুযায়ী, স্নাতক (পাস ও অনার্স), ফিজিওথেরাপি, হেলথ টেকনোলজি, বিএসসি ইন নার্সিং ও সমমানের ডিগ্রির গ্র্যাজুয়েট এবং পদকপ্রাপ্তদের জন্য সমাবর্তন ফি ধরা হয়েছে ৩,৫০০ টাকা। স্নাতকোত্তর গ্র্যাজুয়েটদের ফি ৫,০০০ টাকা। এছাড়া এমবিবিএস, বিডিএস, এমফিল, পিএইচডি, ডিবিএ, এমএস ও পোস্ট গ্র্যাজুয়েট ডিপ্লোমাসহ সংশ্লিষ্ট অন্যান্য ডিগ্রির ক্ষেত্রে দিতে হবে ৬,০০০ টাকা। অন্যদিকে, ইভিনিং ও এক্সিকিউটিভ কোর্সের স্নাতকোত্তর শিক্ষার্থীদের জন্য এই ফি নির্ধারণ করা হয়েছে ৮,০০০ টাকা।

শিক্ষার্থীদের গাউন দিয়ে দেওয়া এবং মানসম্মত খাবারের ব্যবস্থা করার দাবি উঠেছে ক্যাম্পাসে। শিক্ষার্থীদের অভিযোগ, সমাবর্তনের মতো গুরুত্বপূর্ণ আয়োজনে অংশগ্রহণের জন্য নির্ধারিত ব্যয় অনেকের সামর্থ্যরে বাইরে। গাউন ব্যবহারের পর ফেরত দেওয়ার ব্যবস্থাও সমালোচনার মুখে পড়েছে।

বিশ্ববিদ্যালয়ের নির্ধারিত ফি নিয়ে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে শিক্ষার্থীরা মিশ্র প্রতিক্রিয়া জানিয়েছেন। শিক্ষাজীবনের গুরুত্বপূর্ণ অর্জনের স্বীকৃতি সমাবর্তন। এতে অংশ নেওয়ার সুযোগ যেন আর্থিক সীমাবদ্ধতার কারণে বাধাগ্রস্ত না হয়, সেজন্য ফি যৌক্তিক পর্যায়ে নামিয়ে আনা প্রয়োজন বলে মনে করছেন শিক্ষার্থীরা।

মার্কেটিং বিভাগ হাসিবুর রহমান বলেন, ‘সমাবর্তনের ফি পরিশোধ করা শিক্ষার্থীদের জন্য কষ্টকর। উপহার তেমন কিছু দেওয়া হয় না। বিপরীতে গাউনও স্থায়ীভাবে দেওয়া হয় না। ফি সর্বোচ্চ ১ হাজার ৫০০ টাকা করা হোক। তাহলে প্রতিটি শিক্ষার্থী সমাবর্তনে অংশ নিতে পারবে স্বতঃস্ফূর্তভাবে। সেই সঙ্গে আমরা স্মৃতিমূলক ও শিক্ষাসংশ্লিষ্ট উপহার প্রত্যাশা করি।’

এদিকে সমাবর্তন ফি কমানোর দাবিতে বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসনের কাছে স্মারকলিপি দিয়েছেন ছাত্রশিবির ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় শাখার নেতারাও। বুধবার শিবিরের প্রতিনিধি দল উপাচার্যের অনুপস্থিতিতে রুটিন দায়িত্বে থাকা উপ-উপাচার্য (শিক্ষা) অধ্যাপক ড. আব্দুস সালামের সঙ্গে সাক্ষাৎ করে। এ সময় তিন দফা দাবিতে স্মারকলিপি দেন তারা। দাবিগুলো হলো-সব স্তরের শিক্ষার্থীর সমাবর্তন ফি কমাতে হবে। গাউন, ক্যাপ, ব্যাগসহ অন্যান্য সামগ্রীর মান উন্নত করাসহ ক্রয়প্রক্রিয়ায় স্বচ্ছতা, মান যাচাই ও ব্যয়ের জবাবদিহি নিশ্চিত করতে হবে। এছাড়া দীর্ঘসূত্রতা পরিহার করে প্রতিবছর নির্দিষ্ট সময়ে সমাবর্তন আয়োজনের জন্য স্থায়ী নীতিমালা প্রণয়ন ও বাস্তবায়ন করতে হবে।

অন্যদিকে সমাবর্তন ফি কমানো, গাউন স্থায়ীভাবে শিক্ষার্থীদের দেওয়া এবং খাবারের ব্যবস্থা করার দাবি জানিয়েছেন ডাকসুও। সাহিত্য ও সাংস্কৃতিক সম্পাদক মোসাদ্দিক আলী ইবনে মোহাম্মদ বলেন, গলাকাটা ফি নির্ধারণ করে শিক্ষার্থীদের জিম্মি করা চলবে না। কার্যকর উদ্যোগ না নিলে আমরা আন্দোলন করব।

রুটিন উপাচার্যের দায়িত্বে থাকা উপ-উপাচার্য (শিক্ষা) অধ্যাপক ড. আব্দুস সালাম বলেন, সমাবর্তন নিয়ে অতীতের মতো এবারও আলোচনা করে সব সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। শিক্ষার্থীদের দাবির পরিপ্রেক্ষিতে পরবর্তী সভায় এ বিষয়ে আলোচনা করা হবে।