মাইক্রোসফটসহ আট প্রযুক্তি কোম্পানির গ্রিন কার্ড সুবিধা স্থগিতের পর এবার এক্সচেঞ্জ ভিসার অপব্যবহার ঠেকাতে হার্ভার্ডসহ যুক্তরাষ্ট্রের শীর্ষস্থানীয় ৯টি বিশ্ববিদ্যালয়ের বিরুদ্ধে তদন্ত শুরু করেছে ট্রাম্প প্রশাসন।
স্থানীয় সময় গতকাল বৃহস্পতিবার (৮ অক্টোবর) হোয়াইট হাউসে এক সংবাদ সম্মেলনে এ ঘোষণা দেওয়া হয়। খবর রয়টার্সের।
মার্কিন প্রেসিডেন্ট জেডি ভ্যান্স জানান, হার্ভার্ড, ইয়েল ও স্ট্যানফোর্ডসহ ৯টি বিশ্ববিদ্যালয়ের বিরুদ্ধে তদন্ত করা হবে। প্রশাসনের অভিযোগ, আমেরিকানদের মজুরি কমিয়ে দেওয়ার উদ্দেশ্যে এই বিশ্ববিদ্যালয়গুলো এক্সচেঞ্জ-ভিজিটর ভিসার অপব্যবহার করেছে।
তদন্তের আওতাভুক্ত অন্য বিশ্ববিদ্যালয়গুলোর মধ্যে রয়েছে ব্রাউন ও ম্যাসাচুসেটস ইনস্টিটিউট অব টেকনোলজি (এমআইটি)।
মার্কিন শ্রম বিভাগের মহাপরিদর্শক অ্যান্থনি ডি’এসপোসিতো জানিয়েছেন, এ বিষয়ে সংশ্লিষ্ট বিশ্ববিদ্যালয়গুলোর কাছে ইতোমধ্যে আইনি নোটিশ পাঠানো হয়েছে।
ডি’এসপোসিতো বলেন, ফেডারেল অর্থায়নে পরিচালিত গবেষণার ক্ষেত্রে কোনো বিদেশি প্রভাব, অনৈতিক আর্থিক সম্পর্ক বা ভিসার অপব্যবহারের কারণে কোনো ঝুঁকি তৈরি হচ্ছে কি না, তদন্তকারীরা তা খতিয়ে দেখবেন।
‘আমেরিকান কাউন্সিল অন এডুকেশনের’ ভাইস প্রেসিডেন্ট সারাহ স্প্রিটজার বলেন, ‘এর ফলে পুরো মার্কিন অর্থনীতির ওপর বিশাল প্রভাব পড়তে পারে।’ উল্লেখ্য, সংস্থাটি বিভিন্ন কলেজ ও বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রধানদের প্রতিনিধিত্ব করে।
তিনি জানান, যুক্তরাষ্ট্রে অবস্থানকালে আন্তর্জাতিক শিক্ষার্থীরা ঐতিহাসিকভাবে বছরে ৪০ বিলিয়ন ডলার ব্যয় করে থাকে।
এই তদন্তের ফলে বিদেশি শিক্ষার্থীদের নিয়ে হার্ভার্ডের সঙ্গে প্রশাসনের দীর্ঘ দিনের বিরোধ আরও ঘনীভূত হলো। গত বছর আন্তর্জাতিক শিক্ষার্থীদের কথিত অসদাচরণ এবং অভিবাসন আইন মেনে চলার বিষয়টি নিয়ে ডিপার্টমেন্ট অব হোমল্যান্ড সিকিউরিটি হার্ভার্ডের কাছে আইনি নোটিশ পাঠিয়েছিল। হার্ভার্ড সেই নোটিশকে ‘ভিত্তিহীন প্রতিশোধমূলক পদক্ষেপ’ হিসেবে অভিহিত করলেও জানিয়েছিল, আইন অনুযায়ী তারা এর জবাব দেবে।
রয়টার্সের গত সপ্তাহের প্রতিবেদন অনুযায়ী, দ্রুত পরিবর্তনশীল ভিসা নীতির কারণে কলম্বিয়া বিশ্ববিদ্যালয়ে আন্তর্জাতিক শিক্ষার্থীদের আবেদনের সংখ্যা নাটকীয়ভাবে কমে গেছে। এর ফলে বিশ্ববিদ্যালয়টি তাদের সাংবাদিকতা বিষয়ক একটি প্রোগ্রামে শিক্ষার্থী ভর্তি সাময়িকভাবে স্থগিত করতে বাধ্য হয়েছে।







