ঢাকা | মঙ্গলবার, ২৯ সেপ্টেম্বর ২০২৬,১৪ আশ্বিন ১৪৩৩

চুয়েটে ভিসিকে পুনর্বহালের দাবিতে শিক্ষার্থীদের ‘মুখোশ মিছিল’

চট্টগ্রাম প্রকৌশল ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ে (চুয়েট) অধ্যাপক ড. আবু সাদাত মুহাম্মদ সায়েমকে উপাচার্য পদে পুনর্বহালের দাবিতে ‘মুখোশ মিছিল’ করেছেন আন্দোলনরত শিক্ষার্থীরা।

মঙ্গলবার (২৯ সেপ্টেম্বর) দুপুর আড়াইটার দিকে বিশ্ববিদ্যালয়ের কেন্দ্রীয় শহীদ মিনার প্রাঙ্গণ থেকে মিছিলটি শুরু হয়। চলমান আন্দোলনের অষ্টম দিনের কর্মসূচির অংশ হিসেবে অধ্যাপক সায়েমের ৫৬ দিন স্মরণে এ কর্মসূচি পালন করা হয়।

মিছিলে আন্দোলনরত শিক্ষার্থীরা মুখোশ পরে অংশ নেন। এ সময় তারা নিজেদের শিক্ষার্থী পরিচয়পত্র উঁচিয়ে ধরেন। মিছিলটি বিশ্ববিদ্যালয়ের চিকিৎসাকেন্দ্র সংলগ্ন সড়ক হয়ে স্বাধীনতা চত্বর ঘুরে আবার কেন্দ্রীয় শহীদ মিনারে এসে শেষ হয়।

মিছিল থেকে শিক্ষার্থীরা ‘তুমি কে, আমি কে, সায়েম স্যার, সায়েম স্যার’, ‘একটি নাম, একটি সুর, সায়েম স্যার, সায়েম স্যার’ এবং ‘মোদের দাবি একটাই, সায়েম স্যারকে ভিসি চাই’সহ বিভিন্ন স্লোগান দেন।

মিছিলে অংশ নেওয়া পুরকৌশল বিভাগের প্রথম বর্ষের শিক্ষার্থী মারজুকা চৌধুরী মাহিরা বলেন, আমরা চুয়েট শিক্ষার্থীরা আজ অষ্টম দিনের মতো শহীদ মিনারে সমবেত হয়েছি। সায়েম স্যারকে উপাচার্য হিসেবে পুনর্বহালের দাবিতে আজ আমরা মুখোশ মিছিল করেছি। সরকারের কাছে আমাদের একটি বার্তা, আমরা উপাচার্য হিসেবে সায়েম স্যারকে চাই। যতদিন পর্যন্ত আমাদের দাবি মানা না হবে, ততদিন আমরা কর্মসূচি চালিয়ে যাব।

এর আগে, গত ২১ সেপ্টেম্বর অধ্যাপক ড. আবু সাদাত মুহাম্মদ সায়েমকে চুয়েটের উপাচার্য পদ থেকে অব্যাহতি দিয়ে কুয়েটের অধ্যাপক ড. শেখ শরীফুল আলমকে নতুন উপাচার্য নিয়োগ দেয় শিক্ষা মন্ত্রণালয়। সায়েম দায়িত্ব নেওয়ার মাত্র ৫৬ দিনের মাথায় উপাচার্য পরিবর্তনের এ সিদ্ধান্তের প্রতিবাদে ওই রাতেই বিক্ষোভ শুরু করেন শিক্ষার্থীরা। পরে উপাচার্য ভবনে তালা দেন তারা।

পরদিন ২২ সেপ্টেম্বর বিশ্ববিদ্যালয়ের মূল ফটক বন্ধ করে সর্বাত্মক শাটডাউন ও ক্লাস-পরীক্ষা বর্জন কর্মসূচি শুরু করেন শিক্ষার্থীরা। একই দাবিতে শিক্ষক সমিতিও মানববন্ধন করে। ২৪ সেপ্টেম্বর আন্দোলনের মধ্যেই নতুন উপাচার্য অধ্যাপক শেখ শরীফুল আলম অনলাইনে দায়িত্ব নেন।

এরপর ২৬ সেপ্টেম্বর নতুন উপাচার্যের বক্তব্যের প্রতিবাদে ‘লাল কার্ড’ কর্মসূচি পালন করেন শিক্ষার্থীরা। ২৭ সেপ্টেম্বর ‘৫৬ দিনের মাথায় কেন?’ প্রশ্ন তুলে প্রতীকী প্রশ্নযাত্রা করেন তারা। একই দিন থেকে শিক্ষক সমিতি সর্বাত্মক কর্মবিরতি শুরু করে। ২৮ সেপ্টেম্বর আন্দোলনের সপ্তম দিনেও চুয়েটের অ্যাকাডেমিক ও প্রশাসনিক কার্যক্রম অচল ছিল।