ঢাকা | মঙ্গলবার, ৪ আগস্ট ২০২৬,২০ শ্রাবণ ১৪৩৩

৫ আগস্ট গণতান্ত্রিক রাজনৈতিক অধিকার পুনঃপ্রতিষ্ঠার দিন: প্রধানমন্ত্রী

প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান বলেছেন, স্বাধীনতাপ্রিয় ও গণতন্ত্রকামী মানুষের জন্য ৫ আগস্ট আনন্দ, বিজয় এবং গণতান্ত্রিক রাজনৈতিক অধিকার পুনঃপ্রতিষ্ঠার দিন। তিনি বলেন, ২০২৪ সালের ৫ আগস্ট দেশের বীর ছাত্র-জনতার ঐতিহাসিক গণঅভ্যুত্থানের মধ্য দিয়ে দীর্ঘ দেড় দশকেরও বেশি সময়ের ফ্যাসিবাদী শাসনের অবসান ঘটে।

মঙ্গলবার (৪ আগস্ট) সন্ধ্যায় নিজের ভেরিফায়েড ফেসবুক পোস্টে প্রধানমন্ত্রী এসব কথা বলেন।

পোস্টে তিনি উল্লেখ করেন, গণঅভ্যুত্থানের মুখে তৎকালীন সরকার দেশ ছেড়ে পালাতে বাধ্য হয় এবং দিনটি এখন জাতীয়ভাবে ‘জুলাই গণঅভ্যুত্থান দিবস’ হিসেবে উদযাপিত হচ্ছে।

প্রধানমন্ত্রী বলেন, দীর্ঘ সময় ধরে চলা ফ্যাসিবাদবিরোধী আন্দোলনে বিএনপিসহ বিভিন্ন রাজনৈতিক দল ও ভিন্নমতের মানুষ গুম, খুন, অপহরণ, হামলা, মামলা এবং নির্যাতনের শিকার হয়েছেন। তিনি সাবেক প্রধানমন্ত্রী বেগম খালেদা জিয়ার কারাবাসের কথাও উল্লেখ করেন।

তিনি অভিযোগ করেন, গণতন্ত্রকামী মানুষের কণ্ঠ রোধে দেশে গোপন বন্দিশালা বা ‘আয়নাঘর’ গড়ে তোলা হয়েছিল। সেখানে বহু মানুষকে দীর্ঘদিন আটক রাখা হয় এবং অনেকেই নিখোঁজ হন। সাবেক সংসদ সদস্য ইলিয়াস আলী ও কমিশনার চৌধুরী আলমের প্রসঙ্গও তুলে ধরেন তিনি।

পোস্টে তারেক রহমান বলেন, বিচার বিভাগ, নির্বাচন কমিশনসহ সাংবিধানিক প্রতিষ্ঠানগুলোকে দুর্বল করে জনগণের ভোটাধিকার কেড়ে নেওয়া হয়েছিল এবং নির্বাচনকে প্রহসনে পরিণত করা হয়েছিল। পাশাপাশি অর্থনীতি, শিক্ষা, স্বাস্থ্য ও ব্যাংকিং খাত ধ্বংসের মুখে ঠেলে দেওয়া হয়েছিল বলেও দাবি করেন তিনি।

তিনি বলেন, ২০২৪ সালের জুলাই-আগস্টের গণঅভ্যুত্থানে দেশের সব শ্রেণি-পেশার মানুষ রাজপথে নেমে আসেন। আন্দোলন দমনে নিরাপত্তা বাহিনীর গুলিতে বহু মানুষ নিহত ও আহত হন। শহীদ আবু সাঈদ, ওয়াসিম আকরাম ও মুগ্ধসহ আন্দোলনে নিহতদের সাহসিকতার কথা স্মরণ করেন তিনি।

প্রধানমন্ত্রী দাবি করেন, ওই গণঅভ্যুত্থানে হাজারো মানুষ শহীদ হয়েছেন এবং অন্তত ৩০ হাজার মানুষ আহত হয়েছেন। অনেকেই স্থায়ীভাবে পঙ্গুত্ব ও দৃষ্টিশক্তি হারিয়েছেন।

তিনি বলেন, শহীদদের আত্মত্যাগ বৃথা যায়নি। জনগণের সম্মিলিত আন্দোলনের মধ্য দিয়ে ফ্যাসিবাদী শাসনের পতন ঘটেছে এবং এটি বাংলাদেশের ইতিহাসে এক নজিরবিহীন ঘটনা।

পোস্টে সব শহীদের প্রতি গভীর শ্রদ্ধা জানিয়ে প্রধানমন্ত্রী বলেন, একটি ন্যায়ভিত্তিক, স্বনির্ভর, গণতান্ত্রিক ও মানবিক বাংলাদেশ গড়ে তোলার মধ্য দিয়েই শহীদদের প্রতি জাতির ঋণ পরিশোধ করতে হবে

তিনি জাতীয় ঐক্য অটুট রাখার আহ্বান জানিয়ে বলেন, গণতন্ত্রে মতপার্থক্য থাকবে, তবে তা যেন বিভেদ বা শত্রুতায় রূপ না নেয়। একই সঙ্গে তিনি বলেন, বাংলাদেশে আর কখনো স্বৈরাচার, ফ্যাসিবাদ, চরমপন্থা কিংবা উগ্রবাদের উত্থান হতে দেওয়া হবে না।

পোস্টের শেষাংশে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান বলেন, ‘১৯৭১ সাল ছিল স্বাধীনতা অর্জনের যুদ্ধ, আর ২০২৪ সাল ছিল দেশ এবং জনগণের স্বাধীনতা রক্ষার যুদ্ধ। ১৯৭১ সালের শহীদ মুক্তিযোদ্ধাদের বাংলাদেশ যেমন কখনো ভোলেনি, তেমনি ২০২৪ সালের গণঅভ্যুত্থানের শহীদদেরও বাংলাদেশ কখনো ভুলবে না।’