ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের (ঢাবি) ছাত্রী হলগুলোতে রাতের নির্ধারিত সময়সীমা, প্রবেশে কড়াকড়ি এবং বিভিন্ন বিধিনিষেধকে কেন্দ্র করে প্রচলিত সান্ধ্য আইনের বিরুদ্ধে ছাত্রীদের মধ্যে ক্ষোভ বাড়ছে। এসব নিয়মকে হয়রানিমূলক ও বৈষম্যমূলক দাবি করে অবিলম্বে তা প্রত্যাহারের দাবি জানিয়েছেন। হলের ছাত্রীদের ন্যায্য প্রবেশাধিকার ও মৌলিক সুবিধাগুলো সুনিশ্চিত করার লক্ষ্যে সাত দিনের আলটিমেটাম দিয়ে বিশ্ববিদ্যালয় উপাচার্যের কাছে তারা একটি স্মারকলিপি দিয়েছেন।
সোমবার উপাচার্য অধ্যাপক ড. এবিএম ওবায়দুল ইসলামের কার্যালয়ে ‘বৈষম্যহীন নারী হল চাই’ প্ল্যাটফর্মের ব্যানারে এই স্মারকলিপি দেওয়া হয়।
বঙ্গমাতা শেখ ফজিলাতুন্নেছা মুজিব হল সংসদের সংস্কৃতি সম্পাদক হুমায়রা উপন্যাস বলেন, রাজনৈতিক পরিচয় ও অবস্থান ভিন্ন হলেও নারীর অধিকার, মর্যাদা ও নিরাপত্তার প্রশ্নে সবাই একমত হয়েছেন। এ লক্ষ্যেই গত রোববার রাতে ডাকসু ক্যাফেটেরিয়ায় বিভিন্ন হলের নারী প্রতিনিধিদের প্রথম সভা অনুষ্ঠিত হয়।
স্মারকলিপিতে তিনটি প্রধান দাবি উত্থাপন করা হয়। প্রথমত, বৈধ বিশ্ববিদ্যালয় পরিচয়পত্র প্রদর্শনের মাধ্যমে আবাসিক ও অনাবাসিক সব ছাত্রীদের জন্য বিশ্ববিদ্যালয়ের ছাত্রীহলে প্রবেশাধিকার নিশ্চিত করতে হবে। দ্বিতীয়ত, ছাত্রী হলের মূল ফটকের সময়সীমা বৃদ্ধি করতে হবে এবং বৈধ পরিচয়পত্র দেখিয়ে যেকোনো সময় লেট গেট দিয়ে হলে প্রবেশের সুযোগ দিতে হবে। পাশাপাশি জরুরি প্রয়োজনে হল থেকে বের হওয়ার প্রক্রিয়াও হয়রানিমুক্ত করতে হবে। তৃতীয়ত, প্রয়োজনীয় পরিচয়পত্র জমা দেওয়ার শর্তে আবাসিক শিক্ষার্থীদের মা ও বোনদের হলের অভ্যন্তরে, এমনকি রুম পর্যন্ত যাওয়ার অনুমতি দিতে হবে।
এদিকে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ছাত্রীদের জন্য নিরাপদ, মানবিক ও শিক্ষার্থীবান্ধব আবাসিক পরিবেশ নিশ্চিত করতে প্রচলিত সান্ধ্য আইন শিথিল, হলে প্রবেশের সময়সীমা যৌক্তিকভাবে বৃদ্ধি এবং ডিজিটাল সিকিউরিটি গেট স্থাপনের দাবি জানিয়েছে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় কেন্দ্রীয় ছাত্র সংসদ (ডাকসু)।






