ঢাকা | রবিবার, ২৬ জুলাই ২০২৬,১১ শ্রাবণ ১৪৩৩

দিল্লিতে বিক্ষোভ দমনে পেলেট গান-বৈদ্যুতিক শক অস্ত্র ব্যবহার নিষিদ্ধ

ভারতের রাজধানী দিল্লির যন্তর মন্তরে বিক্ষোভকারীদের ওপর বলপ্রয়োগ নিয়ে তীব্র সমালোচনার মুখে নতুন নির্দেশনা জারি করেছে র‍্যাপিড অ্যাকশন ফোর্স (আরএএফ)। বাহিনীটির সদস্যদের পরবর্তী নির্দেশ না দেয়া পর্যন্ত পেলেট গান ও বিদ্যুৎ শক দেয়ার অস্ত্র ব্যবহার না করার নির্দেশ দেয়া হয়েছে। একই সঙ্গে অপ্রয়োজনীয় বলপ্রয়োগ থেকে বিরত থেকে ‘সংবেদনশীল পুলিশিং’ নীতি মেনে চলারও নির্দেশ দেয়া হয়েছে।

সংবাদমাধ্যম এনডিটিভি বলছে, দিল্লির যন্তর মন্তরে বিক্ষোভ দমনে বলপ্রয়োগ নিয়ে তীব্র সমালোচনার পর র‍্যাপিড অ্যাকশন ফোর্সের (আরএএফ) সদস্যদের অপ্রয়োজনীয় শক্তি প্রয়োগ থেকে বিরত থাকার নির্দেশ দিয়েছেন বাহিনীটির মহাপরিদর্শক (আইজি) সীমা ধুন্ধিয়া।

বেশ কয়েকটি সূত্রের বরাত দিয়ে এনডিটিভির ওই প্রতিবেদনে বলা হয়, আরএএফ সদস্য ও কর্মকর্তাদের আইজি বলেছেন, যন্তর মন্তরের বিক্ষোভে ‘অতিরিক্ত বলপ্রয়োগ’ ছিল ‘অযৌক্তিক’। তিনি জোর দিয়ে বলেন, নির্ধারিত নীতিমালা ও আরএএফের প্রশিক্ষণ অনুযায়ী ধাপে ধাপে এবং পরিস্থিতির সঙ্গে সামঞ্জস্য রেখে শক্তি প্রয়োগ করতে হবে।

সূত্রগুলো আরও জানায়, বর্তমান পরিস্থিতিতে দিল্লিতে দায়িত্ব পালনরত আরএএফ সদস্যদের জন্য পরবর্তী নির্দেশ না দেয়া পর্যন্ত প্রজেক্টাইল অ্যাকশন গান (পিএজি), অ্যান্টি-রায়ট গান (এআরজি), ইলেকট্রিক শক অস্ত্র এবং ইলেকট্রিক শিল্ড ব্যবহার বা ইস্যু না করার নির্দেশ দেয়া হয়েছে। একটি সূত্র জানায়, উচ্চপর্যায়ের নির্দেশনা কঠোরভাবে মেনে চলতে সব সদস্যকে নির্দেশ দিয়েছেন আইজি।

আরেকটি সূত্রের ভাষ্য, ‘আইজি আবারও মনে করিয়ে দিয়েছেন যে র‍্যাপিড অ্যাকশন ফোর্সের মূলনীতি হলো ‘সংবেদনশীল পুলিশিং’। ন্যায়সংগত, সংযত ও নিরপেক্ষভাবে প্রয়োজনীয় সীমার মধ্যেই শক্তি প্রয়োগ করতে হবে। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া সহিংসতার ভিডিওতে যেসব অপ্রয়োজনীয় বলপ্রয়োগের অভিযোগ দেখা গেছে, তা অযৌক্তিক এবং আরএএফের আদর্শের পরিপন্থি। প্রতিটি অভিযানে সদস্যদের শৃঙ্খলাবদ্ধ, সংযত ও সংবেদনশীল আচরণ নিশ্চিত করতে হবে।’

সূত্রগুলো জানায়, গত বুধবার ভার্চুয়াল বৈঠকে আরএএফের মাঠপর্যায়ের সদস্য ও কর্মকর্তাদের এসব বিষয়ে কড়া সমালোচনা করেন সীমা ধুন্ধিয়া। একই সঙ্গে কর্মকর্তাদের গণমাধ্যমে কোনও বক্তব্য না দেয়ার নির্দেশও দেন তিনি।

আরও জানা গেছে, গত ২০ জুলাই যন্তর মন্তরের বিক্ষোভ সামাল দেয়ার ক্ষেত্রে আরএএফের ভূমিকা নিয়ে ‘গভীর অসন্তোষ’ প্রকাশ করেন আইজি। পর্যালোচনায় বেশ কিছু গুরুত্বপূর্ণ পরিচালনাগত ত্রুটি ধরা পড়েছে বলেও তিনি উল্লেখ করেন।

একটি সূত্র জানায়, তিনি বলেছেন, ভবিষ্যতে এ ধরনের অভিযানের মান উন্নত করতে এসব ত্রুটি দ্রুত সংশোধন করতে হবে। সূত্রগুলোর দাবি, বিক্ষোভের সময় যে মাত্রায় বলপ্রয়োগ করা হয়েছে, তা নির্ধারিত পদ্ধতি বা আরএএফের প্রশিক্ষণের সঙ্গে সামঞ্জস্যপূর্ণ ছিল না বলেও উদ্বেগ প্রকাশ করেন আইজি।

তিনি নির্দেশ দেন, প্রথমে সতর্কবার্তা দিতে হবে। এরপর প্রয়োজন হলে ধাপে ধাপে শক্তি প্রয়োগ করতে হবে। তবে কোনও অবস্থাতেই অপ্রয়োজনীয় বা অতিরিক্ত বলপ্রয়োগ করা যাবে না।

এর আগে এনডিটিভি জানায়, গত ২০ জুলাই বিক্ষোভকারীদের সঙ্গে পদযাত্রায় অংশ নেওয়া ২৮ বছর বয়সী এক ব্যক্তি ডান কনুই ও পিঠে পেলেটের আঘাত পেয়েছেন বলে সরকারি একটি হাসপাতাল নিশ্চিত করেছে।

সূত্রগুলো আরও জানায়, আইজি বলেছেন, সম্প্রতি জম্মু-কাশ্মীর বা অন্যান্য বিশেষ অভিযান এলাকা থেকে বদলি হয়ে আসা সদস্যরা ভিন্ন ধরনের পরিবেশে কাজ করে অভ্যস্ত। তাই যথাযথ প্রস্তুতি ছাড়া তাদের বিক্ষোভরত জনতাকে নিয়ন্ত্রণের দায়িত্ব দেয়া উচিত নয়।

একটি সূত্র জানায়, দিল্লি, বিহার, আসাম ও মহারাষ্ট্রের মতো রাজ্যে বিক্ষোভ মোকাবিলায় আরও সংবেদনশীল ও ভারসাম্যপূর্ণ দৃষ্টিভঙ্গি প্রয়োজন বলে সীমা ধুন্ধিয়া জোর দিয়ে বলেছেন। তাই মাঠপর্যায়ে দায়িত্ব দেয়ার আগে এসব সদস্যকে আরএএফের কার্যপদ্ধতি, জনতা নিয়ন্ত্রণের নীতিমালা এবং ‘সংবেদনশীল পুলিশিং’ নীতির ওপর যথাযথ প্রশিক্ষণ দিতে হবে।