গাজীপুরের ঢাকা প্রকৌশল ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ে (ডুয়েট) সংঘর্ষের ঘটনায় ছাত্রশিবির ও ছাত্র শক্তিকে দায়ী করে পাল্টা সংবাদ সম্মেলন করেছে ডুয়েট শাখা ছাত্রদল।
সোমবার (১৮ মে) বিকেলে ডুয়েট ক্যাম্পাসের বিপরীত পাশে একটি হলরুমে সংগঠনটির নেতাকর্মীরা অভিযোগ করেন, ছাত্রশিবির ও ছাত্র শক্তির সমর্থকদের হামলায় পাঁচজন ছাত্রদলের নেতাকর্মী আহত হয়েছেন। যার মধ্যে একজনের অবস্থা গুরুতর। জামায়াত সমর্থিত সাবেক উপাচার্যের অনিয়মের ধামাচাপা দিতেই এই আন্দোলন বলেও দাবি করেন তারা।
ডুয়েট শাখা ছাত্রদলের সভাপতি জামিরুল ইসলাম জামিল বলেন, ‘রাষ্ট্রীয় সিদ্ধান্ত অনুযায়ী নতুন ভিসি নিয়োগ হয়েছে। আমরা নতুন উপাচার্যকে স্বাগত জানাতেই গতকাল ক্যাম্পাসে গিয়েছিলাম। কিন্তু আগে থেকে শিক্ষার্থীদের ব্যানারে ছাত্র শিবির ও ছাত্র শক্তির লোকজন অবস্থান করছিল। যখন নতুন ভিসিকে নিয়ে আমরা প্রবেশ করছি তখনই ভেতর থেকে ইট পাটকেল নিক্ষেপ শুরু হয়।’
তিনি আরও বলেন, ‘এক পর্যায়ে আমরা আত্মরক্ষা করি। কিন্তু এই ঘটনার পর তারা প্রতিটি হলে হলে গিয়ে আমাদের সংগঠনের নেতাকর্মীদের খোঁজাখুঁজি করেন ও হামলা চালিয়েছেন। আমার ব্যক্তিগত মোটরসাইকেলটিতেও তারা আগুন জ্বালিয়ে দেয়।’
ডুয়েট শাখা ছাত্রদলের সাধারণ সম্পাদক আব্দুল কাদের বলেন, ‘শিক্ষার্থীদের ওপর হামলা করা কেউই ডুয়েটের শিক্ষার্থী বলে পরিচয় দিতে পারে না। অতি দ্রুত তাদের খুঁজে বের করে বিচারের আওতায় নিয়ে আসতে হবে। একইসঙ্গে ডুয়েটের গুপ্ত রাজনীতি ও মব সন্ত্রাসীদের সমাপ্ত সূচনা হবে।’
নতুন ভিসি নিয়োগকে কেন্দ্র করে এই অস্থিরতা তৈরির পেছনে সাবেক ভিসিরও হাত রয়েছে বলে দাবি করেন নেতাকর্মীরা। তাদের দাবি, সাবেক ভিসি নানা অনিয়ম ও দুর্নীতির মাধ্যমে নিয়োগ বাণিজ্য ও টেন্ডার জালিয়াতি করেছেন। সেগুলো ধামাচাপা দিতেই এই অস্থিরতা তৈরি করা হয়েছে। এ ঘটনায় বেশ কয়েকজন শিক্ষকও জড়িত রয়েছেন বলে দাবি তাদের।
গত রোববার (১৭ মে) ডুয়েটে নবনিযুক্ত উপাচার্যের যোগদানকে কেন্দ্র করে রণক্ষেত্রে পরিণত হয় পুরো ক্যাম্পাস।
সকাল থেকেই নতুন উপাচার্য অধ্যাপক ড. মোহাম্মদ ইকবালের যোগদানের প্রতিবাদে লাল কার্ড কর্মসূচি পালন করে ক্যাম্পাসে অবস্থান নেন শিক্ষার্থীরা।
অন্যদিকে, উপাচার্যের যোগদানকে ঘিরে বিশ্ববিদ্যালয়ের মূল ফটকের বাইরে জড়ো হতে থাকে ডুয়েট শাখা ছাত্রদলের নেতাকর্মী ও বহিরাগতরা। বেলা ১১টার দিকে নবনিযুক্ত ভিসির গাড়ি ক্যাম্পাসে প্রবেশের চেষ্টা করলে মূল ফটক বন্ধ করে বাধা দেন শিক্ষার্থীরা। এ সময় উভয়পক্ষের মধ্যে শুরু হয় সংঘর্ষ।
ইটপাটকেল নিক্ষেপ, ধাওয়া-পাল্টাধাওয়ায় পুরো ক্যাম্পাস রণক্ষেত্রে পরিণত হয়। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনতে কয়েক রাউন্ড টিয়ারগ্যাস নিক্ষেপ করে আইনশৃঙ্খলা বাহিনী। সংঘর্ষে উভয়পক্ষের বেশ কয়েকজন আহত হন।





