ঢাকা | রবিবার, ২০ সেপ্টেম্বর ২০২৬,৫ আশ্বিন ১৪৩৩

দিল্লি বিশ্ববিদ্যালয় ছাত্র সংসদে বিজেপির ছাত্র সংগঠনের নিরঙ্কুশ জয়

দিল্লি বিশ্ববিদ্যালয় ছাত্র সংসদ (ডিইউসিইউ) নির্বাচনে চারটি প্যানেল পদের মধ্যে তিনটিতে জয় পেয়েছে বিজেপির ছাত্র সংগঠন অখিল ভারতীয় বিদ্যার্থী পরিষদ (এবিভিপি)। তবে সহসভাপতি পদে কংগ্রেসের ছাত্র সংগঠন ন্যাশনাল স্টুডেন্টস ইউনিয়ন অব ইন্ডিয়া-এনএসইউআইয়ের টিকিট না পাওয়া বিদ্রোহী প্রার্থী দীপাংশু শোকিন স্বতন্ত্র প্রার্থী হিসেবে জয়ী হয়েছেন। ফলে চারটি পদের একটিতেও জয় পায়নি এনএসইউআই।

ভারতীয় সংবাদমাধ্যম দ্য স্টেটসম্যানের খবরে বলা হয়েছে, সহসভাপতি পদে দীপাংশু শোকিন ৩০ হাজার ৬৩৪ ভোট পেয়ে জয়ী হন। এবিভিপির ইশু মৌরিয়া পান ১৬ হাজার ৯১০ ভোট। শোকিনের পরিবর্তে এনএসইউআইয়ের টিকিট পাওয়া বীর চত্রথ ৪ হাজার ৩১৩ ভোট নিয়ে তৃতীয় হন।

যুগ্ম সম্পাদক পদেও এনএসইউআইয়ের আরেক বিদ্রোহী প্রার্থী সংগঠনটির প্রার্থীকে পেছনে ফেলেছেন। স্বতন্ত্র প্রার্থী হিসেবে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করা বিশেষ যাদব ১৫ হাজার ৭৭৮ ভোট পেয়ে দ্বিতীয় হন। এনএসইউআইয়ের গোপাল চৌধুরী পান ১৫ হাজার ২০৬ ভোট। ১৬ হাজার ৬১৫ ভোট পেয়ে পদটি জয় করেন এবিভিপির লক্ষ্য রাজ সিং।

এর আগে প্রার্থীকে টিকিট দেওয়া নিয়ে এনএসইউআইয়ের বিরুদ্ধে স্বজনপ্রীতির অভিযোগ উঠেছিল। নির্বাচনের ফলাফলে সেই বিতর্ক আরও সামনে আসে। বিশেষ করে সহসভাপতি পদে এনএসইউআইয়ের মনোনীত প্রার্থী বির চত্রথের তুলনায় দলীয় টিকিট না পাওয়া শোকিনের বিপুল ভোটের ব্যবধান সংগঠনটির প্রার্থী বাছাই নিয়ে প্রশ্ন তৈরি করেছে।

ডিইউসিইউ নির্বাচন অনুষ্ঠিত হয় সরকারের বিরুদ্ধে ‘ককরোচ জনতা পার্টি’ নেতৃত্বাধীন জেন-জি আন্দোলনের কয়েক সপ্তাহ পর। এ কারণে অনেকের কাছে নির্বাচনটি কেন্দ্রীয় সরকারের বিরুদ্ধে শিক্ষার্থীদের গণভোট হিসেবে বিবেচিত হচ্ছিল। তবে এবিভিপির জয়ের পর বিজেপির শীর্ষ নেতারা ফলাফলকে ‘নেশন ফার্স্ট’ আদর্শের প্রতি তরুণদের সমর্থনের প্রতিফলন হিসেবে তুলে ধরেছেন।

কেন্দ্রীয় মন্ত্রী কিরেন রিজ্জু রাহুল গান্ধীর ‘ছাত্র কি গুঞ্জ’ প্রচারণার প্রসঙ্গ টেনে বলেন, শিক্ষার্থীরা ‘মিথ্যার গুঞ্জন’ ভেঙে দিয়েছেন। তাঁর দাবি, ডিইউসিইউ নির্বাচন একটি ‘গণভোট’ এবং এতে তরুণদের কণ্ঠস্বর প্রকাশ পেয়েছে। কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অমিত শাহ বলেন, দিল্লি বিশ্ববিদ্যালয়ে দেশের বিভিন্ন প্রান্তের শিক্ষার্থীরা পড়তে আসেন। তাই এই নির্বাচনের রায় গোটা ভারতের তরুণদের মনোভাবের প্রতিফলন। তাঁর ভাষ্য, এবিভিপির জয় এমন শক্তিগুলোর প্রতি বার্তা, যারা তরুণদের শক্তিকে ‘দেশবিরোধী এজেন্ডা’র জন্য ব্যবহার করতে চায়। শাহ আরও বলেন, এবিভিপির কর্মীরা এই জয় থেকে নতুন শক্তি নিয়ে স্বামী বিবেকানন্দের আদর্শ অনুসরণ করে শিক্ষার্থীদের স্বার্থ ও দেশ গঠনের কাজ এগিয়ে নেবেন।

প্রতিরক্ষামন্ত্রী রাজনাথ সিংও এবিভিপির জয়কে ‘নেশন ফার্স্ট’ নীতির প্রতি তরুণদের অটুট আস্থার প্রতীক হিসেবে উল্লেখ করেন। বিজেপির জাতীয় সভাপতি নীতিন নবীন বলেন, এই ফল ‘নেশন ফার্স্ট’-এর চেতনায় ইতিবাচক ও গঠনমূলক ছাত্র রাজনীতির প্রতি তরুণদের অব্যাহত আস্থা এবং ‘বিকশিত ভারত’-এর লক্ষ্যে অবদান রাখার দৃঢ় সংকল্পের প্রতিফলন।