ঢাকা | রবিবার, ৩০ আগস্ট ২০২৬,১৫ ভাদ্র ১৪৩৩

আইফোন কিনতে দেড় বছরের সন্তানকে বিক্রি করলো বাবা

পটুয়াখালীর দশমিনা উপজেলায় আইফোন কেনার জন্য নিজের দেড় বছরের শিশুপুত্রকে এক লাখ টাকায় বিক্রির অভিযোগ উঠেছে এক কাঠমিস্ত্রি বাবার বিরুদ্ধে। এ ঘটনায় শিশুটিকে উদ্ধারে অভিযান শুরু করেছে পুলিশ।

শনিবার (২৯ আগস্ট) সকালে উপজেলার বেতাগী-সানকিপুর ইউনিয়নের মাছুয়াখালী গ্রামের মুন্সিবাড়ি এলাকায় এ ঘটনা ঘটে বলে জানা গেছে।

অভিযুক্ত মো. মারুফ ওই গ্রামের মফিজ মুন্সির ছেলে। তিনি পেশায় কাঠমিস্ত্রি।

স্থানীয় ও পারিবারিক সূত্রে জানা যায়, শিশুটির দাদি মাহফুজা বেগমের দেয়া তথ্য অনুযায়ী, শনিবার সকাল ৮টার দিকে মারুফ তার মাকে বলেন, নাতি মুসাকে সাজিয়ে দিতে। তিনি শিশুটিকে নিয়ে বাজারে ঘুরতে যাওয়ার কথা বলে বাড়ি থেকে বের হন। এরপর দীর্ঘ সময় পার হলেও মারুফ ও শিশুটিকে বাড়িতে ফিরে না আসায় পরিবারের সদস্য ও স্বজনরা খোঁজাখুঁজি শুরু করেন।

শিশুটির বাবা মারুফের সঙ্গে ফোনে কথা হলে তিনি স্বীকার করেন, আইফোন কেনার জন্য তার শিশুপুত্র মুসাকে দশমিনা উপজেলার আলীপুর ইউনিয়নের রোমানাথসেন গ্রামের ইমরান হোসেনের কাছে এক লাখ টাকায় লিখিতভাবে দিয়েছেন। শিশুটিকে দেয়ার বিনিময়ে পাওয়া টাকা দিয়ে তিনি ঢাকায় গিয়ে পুরোনো আইফোন দিয়ে নতুন আইফোন কেনেন বলেও পরিবারের পক্ষ থেকে দাবি করা হয়েছে।

এ ঘটনায় এলাকায় চাঞ্চল্যের সৃষ্টি হয়েছে। ঘটনার পর থেকে শিশুটির বাবা মারুফ পলাতক রয়েছেন বলে জানিয়েছে পরিবার। শিশুটিকে উদ্ধারে কাজ করছে পুলিশ।

শিশুটির দাদি মাহফুজা বেগম বলেন, প্রায় চার বছর আগে মারুফ ঢাকার সাভার থেকে বৃষ্টি নামে এক তরুণীকে বিয়ে করে বাড়িতে নিয়ে আসেন। প্রায় তিন বছর পর তাদের ঘরে মুসার জন্ম হয়। প্রায় এক মাস আগে পারিবারিক বিষয় নিয়ে মারুফ ও তার স্ত্রী বৃষ্টির মধ্যে কথা-কাটাকাটি হলে বৃষ্টি বাবার বাড়িতে চলে যান। এরপর মারুফ কিছুদিন বাড়িতে থাকার পর ঢাকায় চলে যান। গত শুক্রবার সন্ধ্যার আগে তিনি বাড়িতে ফেরেন।

তিনি বলেন, ‘শনিবার সকালে মারুফ আমাকে বলে, মা, তোমার নাতিকে জামাকাপড় পরিয়ে দাও। আমি ওকে নিয়ে বাজারে একটু ঘুরতে যাব। পরে সন্ধ্যা হয়ে গেলেও ছেলে ও নাতির কোনো খোঁজ পাইনি। খোঁজাখুঁজির পর জানতে পারি, আইফোন কেনার জন্য এক লাখ টাকার বিনিময়ে মুসাকে বিক্রি করেছে বলে মারুফ স্বীকার করেছে। আমি আমার নাতিকে ফিরে পেতে চাই এবং প্রশাসনের কাছে সহযোগিতা কামনা করছি।’

শিশুটিকে নেয়ার অভিযোগ ওঠা ইমরান হোসেন ফোনে বলেন, ‘মারুফ দীর্ঘদিন ধরে তার কাছে ছেলেকে দেয়ার কথা বলে আসছিলেন। তার শ্বশুরের পাঁচ মেয়ে, কোনো ছেলে সন্তান নেই। এ কারণে মারুফের সঙ্গে আলোচনা করে এক লাখ টাকার বিনিময়ে শিশুটিকে লিখিতভাবে নিয়েছেন।’ পরে তিনি শিশুটিকে তার শ্বশুরের বাড়িতে দিয়ে আসেন বলেও দাবি করেন।

দশমিনা থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. আতিকুল ইসলাম বলেন, ‘সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে বিষয়টি দেখে ঘটনাস্থলে গিয়ে ঘটনার বিষয়ে শুনেছি। শিশুটিকে যে ব্যক্তি নিয়েছেন, তাকে থানা হেফাজতে আনা হয়েছে। শিশুটিকে উদ্ধারে পুলিশ সরেজমিনে কাজ করছে। শিশুটিকে উদ্ধারের পর পরবর্তী আইনগত কার্যক্রম গ্রহণ করা হবে।’