থাইল্যান্ডের স্কুলে বন্দুক হামলায় হতাহতের জেরে আগ্নেয়াস্ত্র নিয়ন্ত্রণে কঠোর আইনের ওপর জোর দিয়েছেন দেশটির প্রধানমন্ত্রী আনুতিন চার্নভিরাকুল। অর্থাৎ জনসমক্ষে আগ্নেয়াস্ত্র বহন সীমিত করার জন্য আইন প্রবর্তনের পরিকল্পনা করছেন তিনি। আর নতুন এই আইনে শুধু কর্তব্যরত সরকারি কর্মকর্তাদেরই অস্ত্র বহনের অনুমতি দেয়া হবে বললেন থাই প্রধানমন্ত্রী। এদিকে বন্দুক হামলায় আহতদের মধ্যে একজনের অবস্থা আশংকাজনক বলে জানিয়েছেন দেশটির জনস্বাস্থ্যমন্ত্রী।
বন্দুক হামলার শিকার হওয়া এক শিক্ষার্থী বলেন, ‘আমি ও আমার বন্ধুরা একটি রুমে ঢুকে যাই। পরে দরজায় ব্যারিকেড তৈরি করলাম। কারণ আমরা সেখানে তালা দিতে পারছিলাম না।’
গতকাল (শুক্রবার, ৭ আগস্ট) থাইল্যাণ্ডের ননথাবুড়িতে এক শিক্ষার্থীর বন্দুক হামলার ঘটনার সময় ঠিক কীভাবে লুকিয়ে প্রাণে বেঁচে ছিলেন তাই বলছিলো এই শিক্ষার্থী। অবশ্য সে অনেক সৌভাগ্যবান হলেও বন্দুক হামলায় হতাহত হন অনেকেই। তাদের মধ্যে একজনের অবস্থা আশঙ্কাজনক বলে জানিয়েছেন থাই জনস্বাস্থ্যমন্ত্রী পাত্তানা প্রমফাত।
তিনি বলেন, ‘হাসপাতাল গিয়ে আহতদের দেখে ফিরলাম। তাদের মধ্যে দুইজন কয়েক দিনের মধ্যেই ভালো হয়ে উঠবে। কিন্তু মাথায় গুলিবিদ্ধ হওয়া একজনের অবস্থা খুবই গুরুতর।’
এদিকে থাইল্যান্ডের মর্মান্তিক এই ঘটনার পর আবারও জোরালো হয়ে উঠেছে দেশটিতে আগ্নেয়াস্ত্র আইন কঠোর করার বিষয়টিও। উদ্ভূত এ পরিস্থিতিতে আগ্নেয়াস্ত্র নিয়ন্ত্রণ কঠোর আইনের প্রতিশ্রুতি দিয়েছেন দেশটির প্রধানমন্ত্রী আনুতিন চার্নভিরাকুল।
জানান, এ ধরনের হত্যাকাণ্ড কোনোভাবেই কাম্য নয়। তাই জনসমক্ষে আগ্নেয়াস্ত্র বহন সীমিত করার জন্য আইন প্রবর্তনের পরিকল্পনা করছেন। আর নতুন এই আইনে শুধু কর্তব্যরত সরকারি কর্মকর্তাদেরই অস্ত্র বহনের অনুমতি দেয়া হবে— বললেন থাই প্রধানমন্ত্রী।
আনুতিন চার্নভিরাকুল বলেন, ‘আইনটি বেশ স্পষ্ট। নাগরিকদের প্রকাশ্যে বন্দুক রাখা বা অস্ত্র বহন করতে পারবে না। এখন থেকে তল্লাশি চালানো হবে। আর যদি কোনো বেসামরিক ব্যক্তিকে অবৈধভাবে অস্ত্র বহন করতে দেখা গেলে তাকে গ্রেপ্তার করা হবে।’
এদিকে থাই গণমাধ্যম বলছে, ঘটনাটি তদন্তের সময় পুলিশ সন্দেহভাজন হামলাকারীর কম্পিউটার জব্দ করেছে। আর সেখানে যুক্তরাষ্ট্রের একটি স্কুলের বন্দুক হামলায় ঘটনা নিয়ে অনুসন্ধান ও অধ্যয়ন করেছিল হামলাকারী। এছাড়া হামলার আগে ওই শিক্ষার্থী ফেসবুক অ্যাকাউন্ট থেকে নিজের বন্দুকের ছবি আপলোড করে বলে জানা গেছে। উল্লেখ্য,দক্ষিণ-পূর্ব এশিয়ার মধ্যে ব্যক্তিগত আগ্নেয়াস্ত্র মালিকানা থাইল্যান্ডেই সবচেয়ে বেশি।আর সাধারণ নাগরিকদের কাছে প্রায় এক কোটি তিন লাখ আগ্নেয়াস্ত্র আছে।





