ঢাকা | রবিবার, ২ আগস্ট ২০২৬,১৮ শ্রাবণ ১৪৩৩

শেখ হাসিনার দেশে ফেরার ঘোষণা রাজনৈতিক ভাওতাবাজি: ইশরাক হোসেন

জুলাই হত্যাকাণ্ডের দায়ে আওয়ামী লীগের রাজনীতিতে পুনর্বাসনের আর কোনো সুযোগ নেই বলে উল্লেখ করে মুক্তিযুদ্ধ প্রতিমন্ত্রী ইশরাক হোসেন বলেছেন, দলের নেতাকর্মীদের উজ্জীবিত করতেই সাবেক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার দেশে ফেরার ঘোষণা দেওয়া হচ্ছে, যা মূলত একটি রাজনৈতিক ভাওতাবাজি। শনিবার বাংলাদেশ চলচ্চিত্র উন্নয়ন করপোরেশন (এফডিসি) মিলনায়তনে ‘জুলাই হত্যাকাণ্ডের দায়’ বিষয়ক ছায়া সংসদ বিতর্ক প্রতিযোগিতায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন। অনুষ্ঠানের সভাপতিত্ব করেন ডিবেট ফর ডেমোক্রেসির চেয়ারম্যান হাসান আহমেদ চৌধুরী কিরণ। প্রতিযোগিতার আয়োজন করে ডিবেট ফর ডেমোক্রেসি।

ইশরাক হোসেন বলেন, আওয়ামী লীগের রাজনৈতিক কৌশল ছিল ভুল। গণতন্ত্রের পরিবর্তে দলটি ফ্যাসিবাদী শাসনব্যবস্থার দিকে ধাবিত হয়েছিল। মুক্তিযুদ্ধের চেতনাকে রাজনৈতিকভাবে ব্যবহার করে এবং ব্যক্তি-নির্ভর নেতৃত্বের মাধ্যমে তারা দীর্ঘদিন ক্ষমতায় টিকে ছিল। জুলাই হত্যাকাণ্ডের মধ্য দিয়ে দলটির রাজনৈতিক, সামাজিক ও নৈতিক পরাজয় ঘটেছে এবং আন্তর্জাতিক পরিমণ্ডলেও তাদের গ্রহণযোগ্যতা মারাত্মকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। তিনি আরও বলেন, ৫ আগস্টের পর আওয়ামী লীগের অনেক নেতা-কর্মী আত্মগোপনে গেলেও তাদের সহযোগীরা এখনো প্রশাসন, ব্যবসা-বাণিজ্য ও সাংস্কৃতিক অঙ্গনসহ বিভিন্ন ক্ষেত্রে সক্রিয় রয়েছে। জুলাই অভ্যুত্থানের আগেই আওয়ামী পরিবারের সদস্যদের দেশত্যাগকে তিনি ‘কাপুরুষোচিত’ বলে উল্লেখ করেন।

গণতন্ত্র রক্ষায় জুলাই অভ্যুত্থানে অংশ নেয়া সব পক্ষের মধ্যে ঐক্য বজায় রাখার আহ্বান জানিয়ে ইশরাক হোসেন বলেন, মতপার্থক্য থাকলেও গণঅভ্যুত্থানের শক্তিগুলো ঐক্যবদ্ধ না থাকলে আওয়ামী লীগের পুনরুত্থানের আশঙ্কা থেকে যাবে। ফ্যাসিবাদবিরোধী ঐক্যই জুলাইয়ের চেতনাকে সুরক্ষিত রাখতে পারে।Time & Calendars

এসময় সভাপতির বক্তব্যে হাসান আহমেদ চৌধুরী কিরণ বলেন, বিএনপিসহ ফ্যাসিবাদবিরোধী রাজনৈতিক দলগুলোর দীর্ঘ আন্দোলনের ধারাবাহিকতায় ছাত্র-জনতার ঐক্যবদ্ধ অংশগ্রহণে জুলাই অভ্যুত্থান সংঘটিত হয়। এটি শুধু একটি সরকারের পতন নয়; বরং গণহত্যার দায়ে আওয়ামী লীগের রাজনৈতিক, সামাজিক, নৈতিক ও আদর্শিক পরাজয়ের প্রতীক। তিনি বলেন, জুলাই হত্যাকাণ্ডের দায় ক্ষমতাচ্যুত প্রধানমন্ত্রী কোনোভাবেই এড়াতে পারেন না। তার সম্মতি ছাড়া ওই সময়ের কোনো হত্যাকাণ্ড সংঘটিত হয়নি। ক্ষমতায় টিকে থাকার জন্য সংঘটিত এসব সহিংসতা দেশের ইতিহাসে একটি কালো অধ্যায় হয়ে থাকবে। হাসান আহমেদ চৌধুরী কিরণ আরও বলেন, জুলাইয়ের ঐক্যে বিভেদ সৃষ্টি হলে ফ্যাসিবাদী শক্তির পুনরুত্থানের আশঙ্কা রয়েছে। ছোটখাটো ইস্যুতে ফ্যাসিবাদবিরোধী রাজনৈতিক দলগুলোর পারস্পরিক বাকবিতণ্ডা অনাকাঙ্ক্ষিত। দেশি-বিদেশি বিভিন্ন অপশক্তি রাজনৈতিক অস্থিরতা সৃষ্টি এবং জুলাই অভ্যুত্থানে অংশ নেয়া শক্তিগুলোর মধ্যে বিভেদ তৈরি করে ফ্যাসিবাদকে পুনঃপ্রতিষ্ঠার চেষ্টা চালাচ্ছে। তাই জুলাইয়ের চেতনা রক্ষায় সব গণতান্ত্রিক ও ফ্যাসিবাদবিরোধী শক্তিকে ঐক্যবদ্ধ থাকার আহ্বান জানান তিনি।

‘জুলাই হত্যার দায়ে আওয়ামী লীগের রাজনৈতিক পরাজয়ের চেয়ে সামাজিক পরাজয় বেশি’ শীর্ষক ছায়া সংসদ বিতর্ক প্রতিযোগিতায় গণ বিশ্ববিদ্যালয়কে পরাজিত করে বাংলাদেশ ইউনিভার্সিটি অব বিজনেস অ্যান্ড টেকনোলজি (বিইউবিটি)-এর বিতার্কিকরা চ্যাম্পিয়ন হয়।

প্রতিযোগিতায় বিচারকের দায়িত্ব পালন করেন অধ্যাপক আবু মুহাম্মদ রইস, ড. এস এম মোর্শেদ, সাংবাদিক আরিফুজ্জামান মামুন, সাংবাদিক মাইদুর রহমান রুবেল এবং সাংবাদিক জাকির হোসেন লিটন। প্রতিযোগিতা শেষে বিজয়ী ও অংশগ্রহণকারী দলের সদস্যদের মধ্যে ট্রফি, ক্রেস্ট ও সনদপত্র বিতরণ করা হয়।