ঢাকা | রবিবার, ২ আগস্ট ২০২৬,১৮ শ্রাবণ ১৪৩৩

দেয়াল তুলে ‘আয়নাঘরের’ অস্তিত্ব গোপনের চেষ্টাকারীদেরও বিচার হবে

দেয়াল তুলে কিংবা নতুন নির্মাণের মাধ্যমে যারা ‘আয়নাঘরের’ অস্তিত্ব গোপন করার চেষ্টা করেছেন, তাদেরও বিচারের আওতায় আনা হবে বলে জানিয়েছেন চিফ প্রসিকিউটর মোহাম্মদ আমিনুল ইসলাম। শনিবার (১ আগস্ট) আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালের বিচারকদের নিয়ে র‍্যাব-১ এর টিএফআই সেল পরিদর্শন শেষে গণমাধ্যমকর্মীদের সঙ্গে আলাপকালে এমনটা জানান তিনি।

চিফ প্রসিকিউটর বলেন, এতদিন ‘আয়নাঘর’ নিয়ে বিভিন্ন ধরনের আলোচনা হলেও বিচারকদের শুধু নথি বা সাক্ষ্যের ওপর নির্ভর না করে ঘটনাস্থল সরেজমিনে দেখানোর উদ্দেশ্যেই এই উদ্যোগ নেয়া হয়েছে। পরিদর্শনের পর্যবেক্ষণ একটি মেমোরেন্ডামে লিপিবদ্ধ হবে, যা মামলার বিচারিক নথির অংশ হিসেবে সংরক্ষিত থাকবে।

‘আয়নাঘর’ পরিদর্শনকালে ভবনের বিভিন্ন অংশে নতুন দেয়াল তুলে আগের কাঠামো আড়াল করার চেষ্টার আলামতও দেখা গেছে বলেও জানান চিফ প্রসিকিউটর। তিনি বলেন, তদন্তের শুরুতে ঘটনাস্থলের সঙ্গে ভুক্তভোগীদের বর্ণনার মিল পাওয়া যাচ্ছিল না। পরে তদন্ত কর্মকর্তাদের সন্দেহ হলে কয়েকটি স্থানে নতুন করে নির্মিত দেয়াল অপসারণ করা হয়। তখনই আড়ালে থাকা কক্ষগুলো বেরিয়ে আসে এবং সেখানে ভয়াবহ পরিস্থিতির বিভিন্ন আলামত পাওয়া যায়।

চিফ প্রসিকিউটর জানান, উত্তরায় র‍্যাব-১ সদরদপ্তরে অবস্থিত টাস্কফোর্স ফর ইন্টারোগেশন (টিএফআই) সেল বা গোপন বন্দিশালা পরিদর্শনকালে ভবনের ভেতরে মোট ২২টি ছোট-বড় কক্ষের অস্তিত্ব পাওয়া গেছে। কয়েকটি কক্ষ এতটাই ছোট যে সেখানে একজন মানুষের স্বাভাবিকভাবে শুয়ে থাকাও সম্ভব নয়। তদন্তে পাওয়া সাক্ষ্য অনুযায়ী, এসব কক্ষে ব্যক্তিদের হাত ও চোখ বেঁধে দিনের পর দিন, মাসের পর মাস, এমনকি বছরের পর বছর আটকে রাখা হতো। তাদের ওপর নানা ধরনের নির্যাতন চালানো হয়েছে বলেও অভিযোগ রয়েছে। পরে অনেককে বিভিন্ন মামলায় আদালতে সোপর্দ করা হলেও অনেকে আর ফিরে আসেননি।

তিনি বলেন, এখন পর্যন্ত প্রায় আড়াই শতাধিক গুম হওয়া ব্যক্তির কোনো সন্ধান মেলেনি। তাদের মধ্যে বিএনপির সাবেক সাংগঠনিক সম্পাদক এম ইলিয়াস আলীসহ আরও অনেকে রয়েছেন। গত বছরের আগস্টের পর কয়েকজন ভুক্তভোগী ফিরে এসে যে বর্ণনা দিয়েছেন, তার সঙ্গে মিলিয়ে আয়নাঘরের কয়েকটি নির্দিষ্ট কক্ষ শনাক্ত করা সম্ভব হয়েছে।

আইনগত বিষয় তুলে ধরে আমিনুল ইসলাম বলেন, সংবিধানের ৩৩ অনুচ্ছেদ অনুযায়ী কাউকে গ্রেপ্তারের ২৪ ঘণ্টার মধ্যে নিকটস্থ ম্যাজিস্ট্রেটের সামনে হাজির করতে হয় এবং গ্রেপ্তারের কারণ জানাতে হয়। একই বাধ্যবাধকতা রয়েছে ফৌজদারি কার্যবিধির ৬১ ও ১৬৭ ধারায়। কিন্তু আয়নাঘরে আটক ব্যক্তিদের ক্ষেত্রে এসব সাংবিধানিক ও আইনি বিধান অনুসরণ করা হয়নি বলে অভিযোগ করেন তিনি।

চিফ প্রসিকিউটর বলেন, মাঠপর্যায়ে যারা এসব কর্মকাণ্ডে জড়িত ছিলেন, তাদের পাশাপাশি যাদের নির্দেশে এসব হয়েছে এবং সে সময়ের রাজনৈতিক নেতৃত্বের দায়ও ‘সুপিরিয়র রেসপনসিবিলিটি’ নীতির আওতায় তদন্তে বিবেচনা করা হচ্ছে। এ লক্ষ্যেই প্রসিকিউশন ও তদন্ত সংস্থা সমন্বিতভাবে কাজ চালিয়ে যাচ্ছে বলে জানান তিনি।রাজনৈতিক সংবাদ

তিনি বলেন, অবৈধভাবে দীর্ঘসময় আটকে রাখা, গুম, নির্যাতন ও হত্যার মতো অভিযোগগুলো শুধু আইন লঙ্ঘনের বিষয় নয়; এগুলো মানবতাবিরোধী অপরাধের পর্যায়ে পড়ে। এসব অভিযোগে ইতোমধ্যে বিচার চলছে এবং আরও অনেক ঘটনার তদন্ত অব্যাহত রয়েছে।