ঢাকা | রবিবার, ২ আগস্ট ২০২৬,১৮ শ্রাবণ ১৪৩৩

গালিগালাজ করা বিক্ষোভকারী শিক্ষার্থীদের ক্ষমা করেছি: মোদি

ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি বলেছেন, গত মাসের ‘ককরোচ’ বিক্ষোভে যারা তাকে গালিগালাজ করেছে, তিনি তাদের ক্ষমা করে দিয়েছেন। তিনি ওই শিক্ষার্থীদের ‘ভুল পথে পরিচালিত শিশু’ হিসেবে উল্লেখ করে বলেন, তাদের শাস্তি নয়, সঠিক পথ দেখানো প্রয়োজন। আল জাজিরার প্রতিবেদনে এ তথ্য উঠে এসেছে।

মোদি শুক্রবার রাতে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে প্রকাশিত এক ভিডিও বার্তায় বলেন, ‘এরা ভুল পথে পরিচালিত শিশু। তাদের সঠিক পথ দেখানো আমাদের দায়িত্ব। তাদের শাস্তি দেয়া, আদালতে ঘোরানো বা সমাজে হয়রানি করা পরিস্থিতির পরিবর্তন করবে না।’

তিনি বলেন, বিক্ষোভে তাকে এবং তার প্রয়াত মাকে ‘অশালীন ভাষায়’ আক্রমণ করা হয়েছে। মোদি বলেন, ‘আমাদের সংস্কৃতির জন্য এটি ধাক্কার বিষয় যে, আমাদের মেয়েরা কীভাবে এমন ভাষা ব্যবহার করতে পারে। আমি তাদের ক্ষমা করতে চাই।’

গত মে মাসে একটি গুরুত্বপূর্ণ পরীক্ষার প্রশ্নপত্র ফাঁস হওয়ার পর পরীক্ষা বাতিল করা হলে ‘ককরোচ জনতা পার্টি’ নামে পরিচিত এই আন্দোলনের শুরু হয়। এর ফলে ২০ লাখের বেশি শিক্ষার্থীকে পরের মাসে আবার পরীক্ষা দিতে হয়।

সুপ্রিম কোর্টের প্রধান বিচারপতি বেকার তরুণ ও আন্দোলনকারীদের ‘ককরোচ’ বলে মন্তব্য করার পর প্রতিবাদকারীরা ব্যঙ্গাত্মকভাবে নিজেদের ‘ককরোচ জনতা পার্টি’ নামে পরিচয় দিতে শুরু করেন। প্রথমে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে শিক্ষাব্যবস্থা সংস্কারের দাবিতে শুরু হওয়া এই প্রচারণা পরে বড় আন্দোলনে রূপ নেয়। রাজধানী নয়াদিল্লিসহ বিভিন্ন শহরে এতে হাজারো মানুষ অংশ নেয়।

পরে মোদি সরকার আন্দোলনকারীদের সব দাবি মেনে নেয়। এর মধ্যে ছিল শিক্ষামন্ত্রীর পদত্যাগ এবং বিক্ষোভকারীদের বিরুদ্ধে করা ফৌজদারি মামলা না চালানোর প্রতিশ্রুতি।

তবে মোদির আশ্বাসের পরও বিজেপি শাসিত কয়েকটি রাজ্যে নিরাপত্তা বাহিনীর সঙ্গে সংঘর্ষ ও প্রধানমন্ত্রীর বিরুদ্ধে স্লোগানের ঘটনায় শত শত আন্দোলনকারীর বিরুদ্ধে মামলা করা হয়।

এদিকে মোদির সমর্থকদের বিরুদ্ধে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে নারী বিক্ষোভকারীদের, এমনকি কিশোরীদের ব্যক্তিগত তথ্য প্রকাশ করে হয়রানি, ধর্ষণ ও হত্যার হুমকি দেয়ার অভিযোগ উঠেছে।

বিক্ষোভ চলাকালে নয়াদিল্লিসহ বিভিন্ন এলাকায় আন্দোলনকারী ও সরকারি বাহিনীর মধ্যে উত্তেজনা তৈরি হয়। সংসদ ভবনের দিকে যাওয়ার চেষ্টা করলে পুলিশ কাঁদানে গ্যাস, পেলেট গান ও লাঠিচার্জ ব্যবহার করে।

দিল্লি বিশ্ববিদ্যালয়ের ২১ বছর বয়সী শিক্ষার্থী রাধিকা কুমার বলেন, ‘রাজধানীতে শিক্ষার্থীদের ওপর চালানো কঠোর ব্যবস্থার বিষয়ে মোদি নীরব। তিনি এখন নিজেকে ভুক্তভোগী হিসেবে তুলে ধরছেন।’

আন্দোলনকারীরা সোমবার দাবি করেছে, বিভিন্ন রাজ্যে ‘শত শত’ শিক্ষার্থীকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে, যা মামলা প্রত্যাহারের সরকারি প্রতিশ্রুতির লঙ্ঘন।

বিরোধীরা শিক্ষার্থীদের ওপর দমন-পীড়নের অভিযোগ তুলে দিল্লির আইনশৃঙ্খলা নিয়ন্ত্রণকারী স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অমিত শাহকে সরানোর দাবি জানিয়ে আসছে।

এই আন্দোলনের পর পরীক্ষার প্রশ্নপত্র ফাঁস ঠেকাতে ভারতের সরকার সংসদে একটি বিল আনার উদ্যোগ নেয়। এতে প্রশ্নপত্র ফাঁসের সঙ্গে জড়িতদের জন্য দীর্ঘ কারাদণ্ড ও বেশি জরিমানার প্রস্তাব করা হয়েছে।

এদিকে হায়দরাবাদে মোদিকে নিয়ে ফেসবুকে ‘আপত্তিকর’ ভিডিও প্রকাশের ঘটনায় মেটা ইন্ডিয়ার প্রধান অরুণ শ্রীনিবাসের বিরুদ্ধে মামলা করেছে পুলিশ। মেটার এক মুখপাত্র জানিয়েছেন, বিষয়টি সমাধানে সংশ্লিষ্ট সংস্থার সঙ্গে তারা সহযোগিতা করছে।